সিএনজি চালকদের কাছে জিম্মি যাত্রীরা

আওয়ার বাংলাদেশ ডেস্ক ২৪
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২০
সিএনজি চালকদের কাছে জিম্মি যাত্রীরা
  • আলাউদ্দীন জিহাদ
  • সোনাগাজী প্রতিনিধি

ঝগড়া কইরেন না। ভাড়া এখন আগের নিয়মে নাই। ভাঙ্গা রাস্তায় গাড়ী চালাতে কষ্ট হয়, আগের ভাড়ায় পোষায় না। গেলে চলেন না গেলে নাইমা যান। সিএনজি অটোরিকশাচালক আরিফ অনেকটা ক্ষোভের সঙ্গেই কথাগুলো বললেন। অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে প্রতিবাদ করলে অনেককে মাঝ পথে নামিয়ে দেওয়ার হুমকীও দেন চালকরা। সোনাগাজী উপজেলার সোনাগাজী থেকে কাশ্মির বাজার রোড়ে এই ভাবে সিএনজি অটোরিক্সা ও অটো থ্রি হুইলার চালকদের কাজে জিম্মি সাধারন যাত্রীরা।

সিএনজিচালকদের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে কথা বলে আরিফের মতো একই ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে অনেকের কাছে। এখন এই রোড়ে চালকদের ইচ্ছে অনুযায়ী সিএনজি অটোরিকশা চলছে। করোনার পূর্ববর্তী সময়ে প্রশাসনের নির্দেশক্রমে শ্রমিক ইউনিয়নের নির্ধারিত ভাড়া অনুয়ায়ী এই সড়কের সোনাগাজী থেকে কাশ্মির বাজার পর্যন্ত ভাড়া ছিলো ১০ টাকা। মহেশ্চর, বাখরিয়া পর্যন্ত ভাড়া ছিলো ৫টাকা। বিজয় নগর পর্যন্ত ভাড়া ছিলো ১০টাকা। এবং সোনাগাজী থেকে কারামতিয়া পর্যন্ত জনপ্রতি ভাড়া ছিলো ২০টাকা। এই ভাড়া করোনাকালীন সময়ে দ্বিগুণ নেওয়া হয়েছিলো। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রত্যেক স্থানে সরকারের নির্দেশনায় করোনার পূর্ব ভাড়া আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হলেও এই সড়কে এখনো নেওয়া হচ্ছে দ্বিগুন ভাড়া।

যাত্রীদের অভিযোগে প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করে চালকদের সতর্ককরে আসলেও প্রশাসনের সতর্কতার তোয়াক্কা না করেই প্রতিনিয়ত জিম্মি করে ভাড়া আদায় করছে যাত্রীদের কাছে। মালিক-শ্রমিক ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষ যেন চোখ থাকতে অন্ধ, কান থাকতে বধিরের ভূমিকায় রয়েছে।

গাড়ীর চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যাত্রী কম থাকা ও রাস্তায় খানা-খন্দক হওয়ার কারণে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে তারা। একাধিক যাত্রীরা জানান, করোনায় আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় যেখানে পরিবার নিয়ে চলতে কষ্ট হচ্ছে সেখানে প্রতিদিনকার ভাড়তি ভাড়া দিতে হিমশিম খাচ্ছে তারা।

গণপরিবহনে সংকট দেখা দিলে সিএনজি অটোরিকশা ও অটো থ্রি হুইলার চালকরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন। অর্থাৎ যাত্রীরা সিএনজি অটোরিকশার ও অটো থ্রি হুইলার চালকদের কাছে জিম্মি অবস্থায় রয়েছে।

Sharing is caring!