সাবেক ভূমিমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা শামসুর রহমান শরীফ আর নেই

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত এপ্রিল ২, ২০২০
সাবেক ভূমিমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা শামসুর রহমান শরীফ আর নেই

তানিম ইবনে তাহের:

পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক ভূমিমন্ত্রী, ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধা জননেতা আলহাজ্ব শামসুর রহমান শরীফ এমপি আর নেই।

আজ বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল)ভোর সাড়ে পাঁচটায় ঢাকা ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান৷ (ইন্নালিল্লাহি…..রাজেউন)

মরহুমের ছেলে গালিবুর রহমান শরীফ এবং সাকিবুর রহমান শরীফ কনক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

১৯৪০ সালের ২৬ ফাল্গুন তিনি জন্মগ্রহণ করেন। এবছরই ৮০ বছর পূর্ণ করে ৮১ তে পা রেখেছিলেন তিনি। বিগত প্রায় ৭ মাস ধরে বার্ধক্য ও দুরারোগ্য রোগে ভুগছিলেন। প্রথমে ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণের পর লন্ডনে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। লন্ডন হতে ফিরে কিছুদিন ভাল থাকার পর অসুস্থ হলে আবারো ল্যাবএইডে ভর্তি হন। সেখান হতে তাকে ভারতের মুম্বাই টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে প্রায় দুই মাস চিকিৎসা গ্রহণের পর ঢাকায় ফিরে আসেন। পরে আবারো তাকে ল্যাবএইডে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেয়া হয়। ইউনাইটেড হাসপাতালেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘোড়িয়া) আসনের চলতি সংসদের জাতীয় সংসদ সদস্য তার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অত্যাচার, জেল-জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করেছেন । এক সময়ের প্রতাপশালী জমিদার বংশের সন্তান শরীফ পাবনা জিলা স্কুলের ছাত্র থাকা অবস্থায় ভাষা আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। ১৯৭১ সালে ঈশ্বরদী ও পাকশী  এলাকায় মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করার কাজে তার ভুমিকা ছিল অনন্য। জননেতা শরীফ একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে ২৯ মার্চ ঈশ্বরদীর মাধপুরে পাকবাহিনীর প্রতিরোধ যুদ্ধের নেতৃত্ব দেন। পঁচাত্তরে পট পরিবর্তনের পর তিনি দীর্ঘদিন বিনা বিচারে জেলখানায় বন্দি জীবনযাপন করেন। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আন্দোলনে পাবনা জেলায় তার ভূমিকা ছিল অনন্য।

ওয়ান ইলেভেনের পরও তাকে কারাগারে আটকে রাখা হয়। অত্যাচার, জুলুম, নির্যাতন সহ্য করার পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচার ও অগণতান্ত্রিক সরকারের লোভনীয প্রস্তাব  প্রত্যাখ্যান করে পাবনা জেলায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে অগ্রগামী করেছেন।

Sharing is caring!