সাঈদীর মুক্তি চাওয়ায় অধ্যক্ষ গ্রেফতার, মাদরাসা কমিটি কর্তৃক বরখাস্ত

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মে ১৩, ২০২০
সাঈদীর মুক্তি চাওয়ায় অধ্যক্ষ গ্রেফতার, মাদরাসা কমিটি কর্তৃক বরখাস্ত

তানিম ইবনে তাহের:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মুক্তি চেয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে গ্রেপ্তার হওয়া সেই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নুরুল কবিরকে পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত সোমবার মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির মিটিংয়ে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন গভর্নিং বডির সভাপতি সীতাকুণ্ড পৌরসভার মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলম।

জানা যায়, সীতাকুণ্ড পৌরসদরের যুবাইদিয়া মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নুরুল কবির গত ১ মে যুদ্ধাপরাধের মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মুক্তি দাবি করে নিজ ফেসবুকে পোস্ট দেন।

এ ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এস এম আল মামুন বারৈয়াঢালা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুল ইসলামকে মামলা করার জন্য দিক নির্দেশনা দেন। সাইদুল ইসলাম তার অনুসারী বারৈয়াঢালা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলামকে বাদী করে মামলা দায়ের করেন। ৪ মে রাতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়েরের পর রাত আড়াইটায় পুলিশ তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে।

এ ঘটনার পর সমালোচনার ঝড় উঠলে সোমবার দুপুরে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির এক বৈঠকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ বিষয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ২০১৫ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলনকালে মাদ্রাসা অধ্যক্ষ নুরুল কবিরের বিরুদ্ধে চারটি মামলা দায়ের হয় এবং তিনি গ্রেপ্তার হন। জামিন পেয়ে তিনি মৌখিকভাবে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির কাছে অঙ্গীকার করেন তিনি আর কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে থাকবেন না।

কিন্তু এরপরও তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকেননি বিধায় তার বিরুদ্ধে আবারও তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলার পর তিনি ফের গ্রেপ্তার হন। তার এসব কর্মকাণ্ড মাদ্রাসাটির সুনাম ক্ষুণ্ন করছে। ফলে তাকে গভর্নিং বডির সর্বসম্মতিক্রমে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুবাইদিয়া মাদ্রাসা গভর্নিং বডির সভাপতি পৌর মেয়র মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলম বলেন, তার বিরুদ্ধে আগের চারটি মামলায় তিনি জামিনে থাকলেও সে মামলাগুলো তদন্তাধীন রয়েছে। তার ওপর আবারো তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করছেন। তাই তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এখন থেকে তিনি আর মাদ্রাসার কোনো কর্মকাণ্ড করতে পারবেন না। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Sharing is caring!