সমকালীন বিষয়ে কিছু কথা

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত এপ্রিল ১৮, ২০২০
সমকালীন বিষয়ে কিছু কথা
  •  শাহ্ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ

আজকাল টিভি চ্যানেল কিংবা সংবাদ পত্র খুললে প্রান টা আৎকে ওঠে। করোনার প্রকোপে থমকে গেছে পুরো বিশ্ব।

আর যারা করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে তারা কবরের চার দেয়ালে বন্দী। যাদের করোনা শনাক্ত হয়েছে তারা হাসপাতালের চার দেয়ালে বন্দী। যারা সুস্থ আছে তারাও বাড়ির চার দেয়ালে বন্দী।

বাতাসে বাতাসে এখন শুধু শোনা যায় চাপা আর্তনাদ‌।

প্রতিটি মূহুর্তে সারা বিশ্বের মানুষ এখন মৃত্যুর শঙ্কায় নিপতিত। এই বুঝি মৃত্যু এলো !  যার সাথে কথা বলছি হয়তো সেই ব্যক্তিই আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী।

বাবা মরে গেলে সন্তান ছুঁয়েও দেখে না। আবার সন্তানের জন্য জীবন বিসর্জনে ইচ্ছুক বাবাও আক্রান্ত সন্তানের কাছে যেতে ইচ্ছা করলেও পরিস্থিতি বাঁধা দিচ্ছে।

সে এক অদৃষ্টের নির্মম পরিহাস!

পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ আমেরিকা। সেই আমেরিকাও এখন ভয়াবহ করোনার কাছে পরাজিত সৈনিক। অসাধ্য সাধন করা বিজ্ঞানীরা বারবার প্রচেষ্টা করেও একে প্রতিহত করতে ব্যর্থ। অর্থাৎ ভীতসন্ত্রস্ত পুরো বিশ্ব। হতাশায় নিমজ্জিত সকল রাষ্ট্রপ্রধান।

অপরদিকে, বাংলাদেশে করোনার খবরের পাশাপাশি টিভিতে আরেকটি খবরো দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

প্রতিনিয়ত করোনা বৃদ্ধির সাথে সাথে ত্রাণের চাল চোরও সমানুপাতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।  আমার মতে,এ যাবৎকালে পৃথিবীতে যতগুলো চুরি হয়েছে তার চেয়ে নিকৃষ্টতম চুরি হলো বর্তমানে ত্রাণের চাল চুরি।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার যে লকডাউন ঘোষণা করেছে তাতে কর্মহীন হয়ে গেছে লাখো মানুষ। সরকারী আধা সরকারি চাকুরী-জীবিরা মাস শেষে মাইনে ঠিকই পাচ্ছে। বিপদে পড়েছে ক্ষুদ্র- ব্যবসায়ী ও দিন মজুর রা।

কিন্তু বর্তমান সরকার এসব কর্মহীনদের যথাসাধ্য খাদ্য-সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। সরকারের একার পক্ষে তো তৃনমুল পর্যায়ে সবার হাতে হাতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই মানবতার সেবার দায়িত্ব পড়েছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপর। দেশের এই ক্রান্তিকালে প্রতিনিধিদের হওয়া উচিত ছিল দেবদূত স্বরুপ।

কিন্তু প্রেক্ষাপট ভিন্ন!!

কর্মহীনদের মাঝে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার পরিবর্তে আত্নসাৎ করছে কিছু জনপ্রতিনিধিরা। গরিবের পেটে লাথি মেরে চুরি করছে ত্রাণের চাল।

কি নিষ্ঠুর এই চুরি!

যেখানে মানুষ মৃত্যুর চিন্তাও ব্যতিব্যস্ত আর সেখানে তারা চুরির ফন্দি আঁটে প্রতিমূহুর্তে‌। এরা কি এতটাই নিশ্চিত যে এদের মৃত্যু হবে না!

পরিশেষে চাল চোর ভাইদের কাছে সবিনয়ে নিবেদন জানাচ্ছি, থামুন ! দয়াকরে এসব চুরি বন্ধ করুন। নতুবা আর্তের অব্যক্ত অভিশাপে ধ্বংস হয়ে যাবেন।

 

লেখক:-

 শাহ্ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ

তরুণ লেখক

Sharing is caring!