সমকামিতায় ইসলাম কী বলে?

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত জুন ২৯, ২০২০
সমকামিতায় ইসলাম কী বলে?
  • মিজান ইহসানী 

মানুষ সামাজিক জীব। সমাজবদ্ধ হয়ে পরিবার সহ বসবাস করা জীবন যাপনের সুস্থ, সহজ প্রক্রিয়া। এরপর স্বাভাবিক নিয়মে ইন্তেকাল করে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়। জাগতিক হায়াতে পরিবার সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পরিবারহীন যাপিত জীবন অন্তঃসারশূন্য। আর পরিবারিক জীবনের মূল ভিত্তি গড়ে ওঠে বিবাহ বা ম্যারেজ দ্বারা। সাধারণত একজন নারী পুরুষকে বা পুরুষ নারীকে বৈধভাবে বিবাহে আবদ্ধ হওয়ার দ্বারা বংশবিস্তার ঘটে। একজন গর্ভধারণী নারী স্বামীর হাতে তুলে দেয় তার আগামীর সম্বল।

এটাই আদর্শ ,সুন্দর, পবিত্র, পারিবারিক জীবন। এবং মানুষের যৌন চাহিদা মিটানোর খোদাপ্রদত্ত ব্যবস্থাপনা ও সুস্থ বিবেকের দাবি। কিন্তু বর্তমান সমাজে ‘সমকামিতার’ নামে বিশ্বজুড়ে চলছে ভয়াবহ কুপ্রথা। সমান সমান পরস্পর একে অন্যের সাথে যৌন চাহিদা মেটানোর নামই হচ্ছে সমকামিতা।

আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে জীবজন্তু যৌন চাহিদা পূরণে যখন বিপরীত লিঙ্গের দ্বারস্থ হয় তখন মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত হয়েও সমকামিতার মত জঘন্য কাজ কে ‘আধুনিকতার ‘দোহাই দিয়ে তা অধিকার আদায়ে সোচ্চার থাকে। কুৎসিত রুচিপূর্ণ স্বভাবের বিকারগ্রস্তরা মূলত পশ্চিমা ইউরোপীয় কৃষ্টি-কালচার বিস্তারে মড়িয়া মুসলিম সমাজে।

তবে সমাজের অনেক তথাকথিত প্রগতিশীলদের সমকামিতা নিয়ে আছে বেশ চুলকানি।  তাদের অনেকে মনে করেন প্রকৃতির বিরুদ্ধ কাজ বা ভদ্র সমাজ এড়িয়ে চলা মঙ্গল। অথচ ইসলামে সমকামিতা ব্যাভিচার চেয়েও জঘন্য পাপ।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম বলেছেন যাদের কে তোমরা সমকামিতায় লিপ্ত পাবে তাদেরকে হত্যা করো। (তিরমিজী ৪/৫৭)

অন্যহাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেন, চার ব্যক্তি সকাল -সন্ধ্যা আল্লাহর গজব আক্রোশের পতিত হয়। মহিলার বেশধারী পুরুষ ,পুরুষের বেশধারী নারী, মৈথুনকারী, এবং সমকামী।আর কারো অজানা নয় মহান আল্লাহতালার লূত সাম্প্রদায়কে সমকামিতার জন্য কঠিন আজাবে ধ্বংস করেছেন। ধ্বংস করেছেনজনপদকে।

তাই কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে, (অতঃপর যখন আমার সিদ্ধান্ত কার্যকর হলো আমি জনপদের উপরিভাগ নিচে এবং নিম্নভাগ উপরে উঠলাম এবং তার উপর পাথর বর্ষণ করলাম, সূরা হুদ ৮২)। নিষিদ্ধ কাজ করে ধ্বংসপ্রাপ্ত লূতেরাই আজকের (ডেডিস মা মৃত সাগর) সুতরাং সমকামিতা কতোটা ভয়াবহ অপরাধ তা উপরের আলোচনা দ্বারা সুস্পষ্ট।

আর বাস্তবতা তো এটাই দাঁড়ায়, একজন পুরুষ যৌন চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে নারীর বিপরীতে পুরুষ দিকে গেলে বংশবৃদ্ধি ও শেষ বয়সের সম্বলের অবস্থা কী দাঁড়াবে? তবে প্রশ্ন হল এ ধরনের আসক্তি কখন শুরু হয়?

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের শিক্ষক শাহনূর হোসেন বলেন ,একটা বয়সের পর যখন তারা দেখে তাদের অন্য বন্ধুরা মেয়েদের নিয়ে আগ্রহী, তারা তখন ছেলেদের ব্যাপারে আগ্রহ বোধ করে। এটা জন্মগত না,হর মোনাল, না মানসিক সেটা বলা কঠিন । সমকামিতা হারাম হওয়ার পাশাপাশি তার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতি হলো প্রাণঘাতী রোগ ‘এইডস’।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বলেন , যখন কোন জাতির মধ্যে অশ্লীলতা এমন ভাবে ছড়িয়ে পড়ে যে , তারা প্রকাশ্যে অশ্লীলতা লিপ্ত হতে থাকে তখন তাদের মধ্যে এমন রোগ ছড়িয়ে পড়ে যা তাদের পূর্বপুরুষদের মাঝে ছিল না। (ইবনে মাজাহ ২/১৩৩২)

একটু গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করলে বুজে আসে, চলমান বিশ্বে মরণব্যাধি এই রোগের নাম এইডস। যা মানবদেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ধ্বংস করে দেয়। এর কোন কার্যকারী প্রতিষেধকের কথাও শোনা যায় না। আর এইডস মানি অমোঘ মৃত্যু।উল্লেখ্য ১৯৮১ সালে বিরল এই রোগ ধরা পড়ে সমকামীদের মাঝে। (উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা সংকলন পৃষ্ঠা ৯৮)

সুতরাং আধুনিকতার স্লোগানধারীদের সমকামিতার দাবি তোলা লূতি আযাব আনা ও এইডস রোগ বিস্তারের নামন্তর নয় কী??

Sharing is caring!