সন্তানের অবাধ্যতায় পিতা-মাতার দায়বদ্ধতা

আওয়ার বাংলাদেশ ২৪
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০
সন্তানের অবাধ্যতায় পিতা-মাতার দায়বদ্ধতা

মুহাম্মাদ দেলোয়ার হুসাইন

✍পর্ব- ০২

আপনি একটা মেয়ে!এক সময় মা হবেন! আল্লাহপাক আপনাকে রুপ সৌন্দর্য দিয়েছেন। কিন্তু সেটাকে তিনি পর-পুরুষ থেকে হেফাজত করতে বলেছেন। কিন্তু আপনি সেই রূপ যৌবন মানুষকে দেখিয়ে বেড়াচ্ছেন! আল্লাহর দেওয়া ফরজ বিধান অমান্য করছেন। আপনি কি জানেন, কত পুরুষ আপনার দিকে লালসার দৃষ্টিতে কুনজরে তাকিয়েছে? আপনিই তাদেরকে সেই সুযোগ করে দিয়েছেন। কত ছেলে আপনার রূপ যৌবনে পাগল পারা হয়ে যিনার স্বপ্ন কল্পনা করেছে অন্তরে। তাহলে আপনার সেই পেট থেকে কিভাবে আপনি বিয়ের পর সুসন্তান আশা করেন? যেই শরীর হাজারো পরপুরুষ দেখেছে কুনজরে সেই শরীর থেকে আব্দুল কাদির জিলানী কিভাবে হবে বোন? প্রশ্নটি আপনার বিবেকের কাছেই রইল!

আপনি ছেলে হোন কিংবা মেয়ে, বিবাহপূর্ব যে কোনো সম্পর্কই হারাম। তাহলে আপনি যে আরেকজন পরনারীর সাথে হারাম সম্পর্কে লিপ্ত থেকে বিভিন্ন নাজায়েজ কাজ কর্ম করেছেন সেগুলোর প্রভাবও আপনার ভবিষ্যৎ সন্তানের উপর আছড় পড়তে পারে। আপনি বিয়ের পূর্বে কোনো মেয়ের সাথে রাত কাটিয়েছেন কিংবা কোনো ছেলের বিছানায় শুয়েছেন, হয়তো দুনিয়ার কেউ জানেনা, কিন্তু আল্লাহ তো একজন সবকিছু দেখছেন। আপনাদের থেকে কিভাবে একজন সুসন্তান হবে আশা করেন?

আপনি যৌবনের তাড়নায় অশ্লীল ভিডিও দেখেছেন, খারাপ ভাবে যৌবনের চাহিদা মিটিয়েছেন, মনের খায়েশাত নাজায়েজ কাজ করে পূরণ করেছেন, সবসময় খারাপ নিয়ে পড়ে ছিলেন, সেই আপনার থেকে কিভাবে নেককার সন্তান আসবে?

আপনি বিয়ের পূর্বে একটা মেয়েকে নিয়ে কত জায়গায় ঘুরেছেন! একটা ছেলের হাত ধরে কতকিছু করেছেন! কত হারাম মুহূর্ত একজন আরেকজনের সাথে কাটিয়েছেন তাহলে আপনার কিভাবে নেককার সন্তান হবে?

আপনি অন্যের সংসারে মিথ্যা কথা বলে কিংবা ষড়যন্ত্র করে আগুন লাগিয়েছেন। অন্যের সন্তানের অমঙ্গল কামনা করেছেন। অন্যের ক্ষতি করেছেন। কারো সুখের সংসার ভেঙে দিয়েছেন। তাহলে আপনি এরপরও সুসন্তানের আশা কি করে করতে পারেন?

আপনি কাউকে কুফুরি কালাম করেছেন। ব্ল্যাক ম্যাজিক/ কালো জাদু /তাবিজ-কবচ করেছেন! বিনা কারনে কারো জিবনে অশান্তির আগুন জ্বালিয়ে রেখেছেন। আপনি চান না কেউ সুখী হোক, আপনার চেয়ে বড় হোক! আপনার মনে শুধুই শত্রুতা আর ষড়যন্ত্রের চিন্তা ঘুরপাক খায়, তাহলে আপনি সুসন্তানের আশা করা বোকামী!

আপনি কোনো আল্লাহ ওয়ালাকে কষ্ট দিয়েছেন। কোনো আলেমকে অসম্মান করেছেন।কাউকে বেইজ্জতি করেছেন। কাউকে অপমান করেছেন, খোঁটা দিয়েছেন,সম্মানহানি করেছেন, তাহলে আপনার সুসন্তানের আশা করা হাস্যকর!

আপনি প্রতিটি পদে পদে মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর হুকুম অমান্য করেছেন। জায়েজ – নাজায়েজ, হালাল-হারাম কিছুই মানেন নি! প্রতিটি মুহূর্তে তাঁর হক্ব নষ্ট করেছেন, তাহলে কিভাবে তিনি আপনার হক্ব পূরণ করবে বলে ভাবছেন? যিনি আপনাকে সৃষ্টি করলেন, পালন করতেছেন, খাওয়াচ্ছেন, তাকেই আপনি ভুলে গেছেন, তাহলে তিনিও আপনাকে ভুলে যাওয়াটাই স্বাভাবিক!

যদি এরকম কিছু করে থাকেন তবে অতি দ্রুত আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। ভালো মানুষ হয়ে যান। আল্লাহর প্রেমে মগ্ন হয়ে যান!আল্লাহ ওয়ালাদের সাথে সম্পর্ক গড়েন। সর্বদা নেকের কাজে জুড়ে থাকেন। গোনাহের কাজ থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকুন।

আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে এইসব গর্হিত এবং হারাম কাজ থেকে হেফাজত করুন।সবসময় নেককাজ করার তৌফিক দান করুন। তাঁর প্রিয় বান্দা/বান্দী হিসেবে কবুল করুন, আমীন।

➡ চলবে ইনশা-আল্লাহ…..

 

Sharing is caring!