সন্তানের অবাধ্যতায় পিতা-মাতার দায়বদ্ধতা-পর্ব-৩

আওয়ার বাংলাদেশ ২৪
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০
সন্তানের অবাধ্যতায় পিতা-মাতার দায়বদ্ধতা-পর্ব-৩

মুহাম্মাদ দেলোয়ার হুসাইন

পর্ব- ০৩

এবার আপনার বিয়ের বয়স হয়েছে। এখন আপনি বিয়ে করবেন।আপনি কিন্তু মুসলমান! জন্মসূত্রে ইসলাম পেয়েছেন! আহ! কত বড় নিয়ামত যে এটা হাশরের কঠিন ময়দানে বুজা যাবে! ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থার নাম! এখানে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানবজীবনের করণিয় সকল কাজের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা দিয়ে দিয়েছে এবং একজন মুসলমান হিসেবে সেগুলো মেনে চলা অবশ্যই আপনার একান্ত দায়িত্ব এবং কর্তব্য!

বিয়ে মানবজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়!হাদিসে বিয়েকে অর্ধেক দ্বীন বলা হয়েছে! এই বিয়ে সম্পর্কেও করণিয়-বর্জনীয় সম্পর্কে সবকিছু ইসলাম বলে দিয়েছে! কিন্তু আপনি কতটুকু তা মান্য করলেন তার উপর আপনার সুসন্তান প্রাপ্তি নির্ভর করবে! কারন বিধর্মীদের সংস্কৃতির মাধ্যমে বিয়ে করলে কখনোই নেককার সন্তান আশা করা যাবেনা।

বিবাহ মানব জীবনের অন্যতম একটি অধ্যায়।একটি সুখী-সমৃদ্ধ দাম্পত্য জীবন গঠনে ইসলাম দিয়েছে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা।বিবাহের পূর্বে পাত্র-পাত্রী দেখার পর্ব জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলের মাঝে প্রচলিত বটে, কিন্তু মুসলমানদের জন্য তা গতানুগতিক বা নিছক প্রথাগত-ভাবে করার সুযোগ নেই।
বরং পূর্ণ শরয়ী নীতিমালা অনুযায়ী তা করা বাঞ্ছনীয়। কারন সুসন্তান প্রাপ্তির জন্য শরিয়তের নিয়ম মোতাবেক বিবাহ কার্য সম্পাদন করা অতীব গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

মনে রাখতে হবে, পাত্রী কোন পণ্য নয় যে কেউ দেখতে থাকবে, অতঃপর যাকে পছন্দ হয় তাকে বিবাহ করবে।
অথচ কিছু লোক এরুপ অবাঞ্ছিত কাজ করে।

তারা একের পর এক পাত্রী দেখে আর ভাবে, এভাবে দেখে দেখে নির্ধারণ করবে যে, কাকে বিবাহ করবে।
এ কাজ ইসলাম সম্মত নয়।

বরং শরীয়তের দৃষ্টিতে সার্বিক দিক পর্যালোচনার করে যার সংঙ্গে বিবাহের বিষয় চুড়ান্ত হয়ে যাবে, শুধু তাকে সর্বশেষ দিক হিসেবে দেখার কথা বলা হয়েছে। সুতরাং কাকে বিবাহ করবে, এটা নির্ধারণ করতে হবে দেখাদেখির আগেই।
বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে যাবতীয় বিষয় জানা এবং প্রয়োজনে মহিলাদের দ্বারা দেখা ইত্যাদির মাধ্যমে সব রকম খোঁজ-খবর নেয়ার পর বিবাহের বিষয় নিশ্চিত হয়ে গেলে তখন ছেলে মেয়েকে দেখতে পারে এবং মেয়েও ইচ্ছা করলে ছেলেকে দেখতে পারে।

সে সময় এ দেখা দেখির বিশেষ উদ্দেশ্য হল, বিবাহের ব্যাপারে পারস্পরিক আগ্রহ সৃষ্টি। বিবাহের জন্য সবকিছু পছন্দ হওয়ার পর বিবাহ করার সিদ্ধান্ত নিলে, পরিশেষে পাত্রীকে কোনো ভাবে দেখে নেয়া বিধেয়।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, “তোমাদের কেউ যদি কোন মেয়েকে বিবাহের প্রস্তাব দেয় এবং তার এমন কিছু দেখতে পারে-যা তাকে আগ্রহশীল করবে, তবে সে যেন তা করে নেয়।”

হযরত জাবের (রাঃ) বলেন, “আমি বনী সালামা গোত্রের এক মেয়েকে বিবাহের প্রস্তাব দেই এবং তাকে এক দৃষ্টি দেখার জন্য খেজুর গাছ তলায় লুকিয়ে থাকি। একদিন আমি তাকে দেখে ফেলি, যা আমাকে তার ব্যাপারে আগ্রহী করে তুলে। ফলে আমি তাকে বিবাহ করে নিই।”
{সুনানে বাইহাকী, ৭ম খন্ড, ৮৪ পৃষ্ঠা; হাদীস নং ১৩৪৮৭}

অন্য বর্ণনায় আছে, একদা মুগীরা ইবনে শু’বা (রাঃ) জনৈক মেয়েকে বিবাহ করার ইচ্ছা করেন।
তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, “যাও, তাকে দেখে এসো। কারণ, এ দেখা তোমাদের মাঝে আগ্রহ সৃষ্টির ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।”
মুগীরা (রাঃ) বলেন, একথা শুনে আমি পাত্রী দেখে আসি।
{সুনানে বাইহাকী, ৭ম খন্ড, ৮৪ পৃষ্ঠা; হাদীস নং ১৩৪৮৮}

সুতরাং বিবাহের পূর্বে পাত্রী দেখা বৈধ। বরং তা মুস্তাহাব।

ইসলামে বিয়ের আগে মেয়ে দেখার অনুমতি শুধুমাত্র ছেলেকে দেওয়া হয়েছে, অন্য কোনো পুরুষকে নয়! কিন্তু আপনি পুরো আত্বীয় স্বজনের টীম নিয়ে গেলেন মেয়ে দেখতে! মনে রাখতে হবে, মেয়ে কুরবানীর হাটের গরু না, যে তাকে সাত শরীকে দেখতে হবে! আপনার বিয়ের পূর্বে মেয়েকে দেখা আপনার বাবার জন্যও জায়েজ নেই, অন্য পুরুষ তো দূরে থাক! শুভকাজের যাত্রাটা শুরু করলেন ইসলাম লঙ্ঘনের মাধ্যমে! পাত্র ব্যতীত তার পরিবারের অন্য পুরুষদের জন্য পাত্রী দেখার অনুমতি শরিয়ত দেয় না। আর চুল বের করা ও হাঁটানোর মতো বিব্রতকর কাজ অবশ্যই পরিহারযোগ্য।

হাদিসে রাসূলে আকরাম (স.) মেয়ে পছন্দ করতে কতগুলো বিষয় বলে দিয়েছেন!

অনেকেই বিয়ের সময় পাত্রীর সৌন্দর্য ও সম্পদকে বিবেচ্য বিষয় হিসেবে দেখে। এ ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি চোখে পড়লে মেয়ে ও তার পরিবারের সামনেই মন্তব্য করতে থাকে। যাতে মেয়ের পরিবার কষ্ট পায়, মনঃক্ষুণ্ন হয়। যেমন, মেয়ে কালো, চোখ সুন্দর না, ঠোঁট মোটা ইত্যাদি। ইসলাম এভাবে মন্তব্য করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে আত্মিক ও ঈমানের সৌন্দর্যকে প্রাধান্য দিতে বলেছেন।

তিনি বলেন, ‘নারীদের চারটি গুণ দেখে বিয়ে করো : তার সম্পদ, তার বংশমর্যাদা, তার রূপ-সৌন্দর্য ও তার দ্বীনদারী। তবে তুমি দ্বীনদারীকে প্রাধান্য দেবে। নতুবা তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫০৯০)

➡চলবে ইনশা-আল্লাহ…..

Sharing is caring!