শ্রীপুরে চিরকুট লিখে তিতুমীর কলেজ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত আগস্ট ৬, ২০২০
শ্রীপুরে চিরকুট লিখে তিতুমীর কলেজ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

নাজমুস সাকিব

গাজীপুর প্রতিনিধি

তিতুমীর কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের অনার্স ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী শামস আল মুজাহিদ শাওন নামে এক যুবক চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছে। মৃত্যুর পূর্বে এক পৃষ্ঠার ওই চিরকুটে লিখে গেছেন তার মৃত্যুর কারণ।

বুধবার (৫ আগষ্ট) রাত পৌনে আটটার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের খোঁজেখানী গ্রামের নিজ ঘর থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে শ্রীপুর থানা পুলিশ।

নিহত শামস আল মুজাহিদ শাওন (২২) স্থানীয় জামাল উদ্দিন আকন্দের ছেলে। পরিবারের অজান্তে তিনি এক বান্ধবীকে বিয়ে করেছিলেন। ওই বিষয়ে মানষিক যন্ত্রণায় তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রতিবেশী।

নিহতের স্বজনদের বরাত দিয়ে গোসিংগা ইউপি মেম্বার ইসমাঈল হোসেন জানান, ঈদের ছুটিতে শাওনের বোনের বাসা ঢাকায় ছিলেন পরিবারের সকলেই। বুধবার বিকেলে বাড়ীতে এসে ঘরের বাহিরের লাইট জ্বালানো অবস্থায় দেখতে পান তারা। পরে শাওনকে অনেক ডাকাডাকি করে সাড়াশব্দ না পেয়ে তার ঘরের জানালার ফাঁকা জায়গা দিয়ে ঘরের আড়ার সাথে বিছানার চাদর পেচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ দেখতে পায় স্বজনরা। পরে পুলিশে খবর দেয়া হয়।

শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এস আই) হারুন মিয়া জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল হতে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের সাথে তার রুম থেকে একটি এক পৃষ্ঠার চিরকুটও উদ্ধার করে করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, বুধবার সকালের কোন এক সময় গলায় চাদর পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছে শাওন । নিহতের পরিবারের কারো কোনো অভিযোগ না থাকায় বিনা ময়নাতদন্তে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শাওনের লিখে যাওয়া চিরকুটে তিনি লিখেছেন, আমি নই কোনো প্রতিভা,নই কারো চোখে প্রিয়। আপনাদের ভাষায় আমি নিকৃষ্ট অথবা বিকৃত।

আমার চুল কাটার পিছনে তেমন কোনো কারন না থাকলেও কষ্টে আর থাকতে পারি নাই।
৫ আগষ্ট ২০২০ রাত ৫-১০ মিনিটে আমার বউ আমাকে বলেছে আমাকে ভালোবাসী। আমার বউ আমাকে কতই রাগ করতো আমাকে ভালোবাসতো। আমার বউ আমার বুকে আমায় অধীক পায়।

এদিকে, স্থানীয়দের কাছে শাওন খুবই ভদ্র ও সরল স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে।

Sharing is caring!