শিশু সন্তান ইন্তেকালে, ধৈর্যশীল মা-বাবার জান্নাত

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত ডিসেম্বর ১০, ২০২১
শিশু সন্তান ইন্তেকালে, ধৈর্যশীল মা-বাবার জান্নাত

আওয়ার বাংলাদেশ ডেস্ক: আল্লাহ তাআলা মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে সম্মান দিয়েছেন। আর মানব সমাজের অস্তিত্ব ধরে রাখতে বিয়ের মাধ্যমে সন্তান প্রজননের ব্যবস্থাও করেছেন। বিয়ের মাধ্যমে একজন পুরুষ ও নারী প্রাত্যহিক জীবনে একসঙ্গে পথচলা শুরু করে। জীবন যুদ্ধে সুখ- দুঃখ, হাসি-কান্না ও আনন্দ-বেদনায় উভয়ে সমানভাবে অংশগ্রহণ করে। পরিবারের নতুন সদস্যের আগমনের মাধ্যমে উভয়ের বন্ধন আরো গভীর হয়।

কিন্তু মা-বাবার জীবদ্দশায় সন্তানের মৃত্যু অত্যন্ত কঠিন বিষয়। কোনো মা-বাবার জীবনে এমন কঠিন পরীক্ষা এলে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ধৈর্য ধারণ করা উচিত। এর জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশাল প্রতিদান রয়েছে। শিশু অবস্থায় কোনো সন্তান মারা গেলে পরকালে তারা তাদের মুসলিম মাতা-পিতাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে।

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহকে (সা.) বলতে শুনেছি, ‘শিশু (অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী) মুসলিম সন্তানেরা জান্নাতের ‘শিশু খাদেম’ হবে। তারা তাদের মাতা-পিতাকে পেলে কাপড় ধরে টেনে জান্নাতে না নেওয়া পর্যন্ত ছাড়বে না।’   (মেশকাত : ১৭৫২)

শিশু বয়সে মৃত্যুবরণকারী সন্তানদের জান্নাতে উড়ে বেড়ানো প্রজাপতির সঙ্গে উপমা দেওয়া হয়েছে।

হযরত আবু হাসসান (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হযরত আবু হুরায়রাকে (রা.) বললাম, ‘আমার দুটি সন্তান মারা গিয়েছে। আপনি কি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর থেকে থেকে এমন একটি হাদিস বর্ণনা করবেন, যাতে আমরা অন্তরে সান্ত্বনা পেতে পারি?’ তখন আবু হুরায়রা (রা.) বললেন, হ্যাঁ, আমি নবীজিকে (সা.) বলতে শুনেছি, ‘ছোট বয়সে মৃত্যুবরণকারী সন্তানেরা জান্নাতের প্রজাপতির মতো। তাদের কেউ যখন পিতা কিংবা পিতা-মাতা উভয়ের সঙ্গে মিলিত হবে, তখন তার পরিধানের কাপড় কিংবা হাত ধরবে, যেভাবে এখন আমি তোমার কাপড়ের আঁচল ধরেছি। এরপর সেই কাপড় কিংবা হাত আর পরিত্যাগ করবে না যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালা তাকে তার মা-বাবাসহ জান্নাতে প্রবেশ না করাবেন। (মুসলিম : ৬৩৭০)

পৃথিবীর আলো-বাতাস ছেড়ে যেসব শিশু মৃত্যুবরণ করে, আল্লাহ তাদের অনেক উত্তম স্থানে প্রতিপালন করেন। তারা জান্নাতে খেলাধুলায় মেতে থাকে এবং মা-বাবার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রা.) থেকে বর্ণিত দীর্ঘ একটি হাদিসে

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজের স্বপ্নের বর্ণনায় বলেছেন, ‘আমরা চলতে চলতে একটা সজীব শ্যামল বাগানে এসে পৌঁছলাম, যেখানে বসন্তের বিচিত্র রকম ফুলের সমাহার রয়েছে। সে বাগানের মাঝে দীর্ঘকায় একজন পুরুষকে দেখলাম। তবে তার মাথা যেন আমি দেখতেই পাচ্ছিলাম না। তার চতুর্পাশে এত বিপুল সংখ্যক বালক-বালিকা দেখলাম যে, এত বেশি আর কখনও আমি দেখিনি। আমি ফেরেশতাদের বললাম, উনি কে? আমাকে বলা হলো ইনি ইবরাহিম (আ.) আর তার আশপাশের বালক-বালিকারা হলো ওই সব শিশু, যারা ফিতরাতের (শৈশবের নিষ্পাপ অবস্থা) ওপর মৃত্যুবরণ করেছে।’ (বুখারি : ৪২৯)।

এই বালক-বালিকারাই তাদের মা-বাবার জান্নাতে প্রবেশের কারণ হবে।কোনো দম্পতির শিশু সন্তান মারা গেলে ধৈর্য ধারণ করতে শিখিয়েছেন নবীজি (সা.)। আল্লাহ তায়ালা প্রিয় নবীজিকেও শিশু বয়সে একাধিক সন্তানের মৃত্যুর মাধ্যমে মর্যাদাবান করেছেন। যারা সন্তানের মৃত্যুতে ধৈর্য ধারণ করবে এবং আল্লাহর প্রশংসা করবে আল্লাহ তাদের জন্য জান্নাতে প্রাসাদ নির্মাণ করবেন।

হযরত আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন কারও সন্তান মারা যায়, তখন আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতাদের ডেকে বলেন, ‘তোমরা আমার বান্দার সন্তানের জান কবজ করে ফেলেছ?’ তারা বলেন ‘হ্যাঁ’। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা তার কলিজার টুকরার জান কবজ করে ফেলেছ?’ তারা বলেন ‘হ্যাঁ’। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমার বান্দা কি বলেছে?’ তারা বলেন, ‘আপনার বান্দা এই বিপদেও ধৈর্য ধারণ করে আপনার প্রশংসা করেছে এবং ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন পড়েছে।’ তখন আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা আমার এই বান্দার জন্য জান্নাতে একটি প্রাসাদ নির্মাণ কর এবং তার নামকরণ কর ‘বাইতুল হামদ’, অর্থাৎ, প্রশংসার ঘর।’ (তিরমিজি সূত্রে রিয়াজুস সালেহিন : ১৩৯৫)

আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন সন্তানহারা মা-বাবাদের ধৈর্য ধারণ করার মাধ্যমে এসব অশেষ পুরস্কারের গর্বিত অধিকারী হওয়ার তওফিক দান করুন। আমিন

                                     তানিম ইবনে তাহের                                                   পরিচালক, হামজা সেবা ফাউন্ডেশন                              মনোহরদী, নরসিংদী। 

Sharing is caring!