শিক্ষককে আটক করলেও শিশুর অভিভাবকদের দাবির মুখে ব্যবস্থা নিতে পারেনি প্রশাসন

আওয়ার বাংলাদেশ ডেস্ক ২৪
প্রকাশিত মার্চ ১০, ২০২১
শিক্ষককে আটক করলেও শিশুর অভিভাবকদের দাবির মুখে ব্যবস্থা নিতে পারেনি প্রশাসন

চট্টগ্রামের হাটহাজারী মারকাযুল কোরআন ইসলামিক একাডেমি নামে একটি হাফেজি মাদ্রাসায় এক শিশু শিক্ষার্থীকে বেদম মারের ভিডিও বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিও ভাইরালের পর স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঐ মাদ্রাসা শিক্ষককে আটক করলেও শিশুর অভিভাবকদের দাবির মুখে ব্যবস্থা নিতে পারেনি প্রশাসন।

এদিকে এই ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে তাঁর পক্ষে সাফাই গেয়েছেন পরিচালক। আর শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ মূল ধারার শিক্ষকদের মতো এসব শিক্ষকেরও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষন দরকার।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে মাদ্রাসায় মায়ের পিছু পিছু ছুটে যাওয়া শিশুটিকে ধরে এনে নির্মমভাবে বেত্রাঘাত করছেন শিক্ষক ইয়াহিয়া। মাটিতে লুটিয়ে শিক্ষকের পা জড়িয়ে ধরেও রেহাই মিলেনি। বরং বেড়েছে মারধরের পরিমাণ।

মঙ্গলবার বিকেলে সামাজিক মাধ্যমে এই ভিডিও ভাইরাল হবার পরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। দিবাগত রাত দেড়টায় পুলিশের মাধ্যমে আটক করা হয় অভিযুক্ত শিক্ষককে। ডাকা হয় শিশুটির অভিভাবককেও। কিন্তু শিশুটির অভিভাবকরাও অজানা কারণে এই নির্যাতনের বিরুদ্ধে নির্বিকার। ফলে কঠোর কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি প্রশাসন। পরে উপজেলা প্রশাসনের মন গলাতে লিখিত আবেদন জানায় অভিভাবকেরা।

হাটহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, ভিডিও ভাইরাল হবার পর মধ্যরাতে আমি পুলিশের মাধ্যমে শিক্ষককে ধরে আনি। কিন্তু অভিভাবকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের ব্যাপারে প্রবল অনীহা ছিল।

উল্টো অভিযুক্ত শিক্ষককে ছেড়ে দিতে উনারা বারবার আমাদের অনুরোধ করতে থাকেন। সে প্রেক্ষাপটে আমরা কোন জোরালো ব্যবস্থা নিতে পারিনি।

এদিকে নির্মম এই নির্যাতনে মর্মাহত হলেও একে হালকা শাসন বলে অনেকটা উড়িয়ে দিচ্ছেন মাদ্রাসাটির পরিচালক মাওলানা এমরান সিকদার। এই প্রতিবেদককে তিনি জানান, যেভাবে শিশুটির ভিডিও করা হয়েছে তাতে খুব বেশি মারধর করা হচ্ছে বলে মনে হলেও আসলে ততোটা মারধর করা হয়নি। ভিডিও করার ডিজাইনের কারণেই বেশি মারধর বলে মনে হচ্ছে। এরপরও আমি মর্মাহত।

এদিকে মাদ্রাসা শিক্ষকের এমন আচরণ নিয়ে টিচার্স ট্রেনিং কলেজ চট্টগ্রামের শিক্ষক মীর আবু সালেহ শামসুদ্দিন শিশির বলেন, শিক্ষার নামে এধরনের নির্যাতনকারীদের অবশ্যই শাস্তি আওতায় আনা জরুরী। পাশাপাশি মূল ধারার শিক্ষকদের মতো মাদ্রাসা শিক্ষকদেরও সঠিক প্রশিক্ষণ দরকার। কারণ শিক্ষক যদি শিক্ষার্থীর মানসিক অবস্থা বুঝতে না পারেন তবে শিক্ষা দেওয়া যাবে না।

বুধবার সকালে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠকে এই ঘটনা পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সেজন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। পাশাপাশি শিশুটিকে ঘরে গিয়ে উপহার সামগ্রী তুলে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

আগামী সপ্তাহে হাটহাজারী সকল হেফজ মাদ্রাসার শিক্ষকদের সাথে বৈঠক করে এই বিষয়ে আলোচনা করা হবে বলেও জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

Sharing is caring!