শাওয়ালের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফযিলত

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মে ২৭, ২০২০
শাওয়ালের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফযিলত

মিজান ইহসানী:
রমজানের বিদায়ে শাওয়ালের চাঁদে ঈদ উদযাপিত হলো৷ আরবি দশম মাসের নাম ‘শাওয়াল’, যার অর্থ বিজয়ী  হওয়া, পূর্ণতা লাভ করা।

দীর্ঘ একমাস রমজানের দ্বারা বান্দা রবের সান্নিধ্য অর্জন করে। আর সেই অপূর্ণ সান্নিধ্যকে চূড়ান্ত  পূর্নতায় রুপ দেয় বছরজুড়ে। তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  এমন আমলের প্রতি আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছেন। পরিভাষায় এগুলোকে ফরয-ওয়াজিব না হওয়ার কারণে  নফল আমল বলা হয়।

হাদিস শরীফে এসেছে, হযরত আবু আইয়ুব আনসারী রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল করীম সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বলেন: “যে ব্যক্তি রমজান মাসের রোজা রাখলো, অতঃপর শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা রাখলো, সে যেন সারা বছর রোজা রাখল৷”
(সুত্র: মুসলিম-1164, তিরমিজি-759)

শাওয়ালের রোজা রাখার আরো ফায়দা হলো, অবহেলা ও গোনাহের দ্বারা রমযানের রোযার ঘাটতি থাকলে তা পুষিয়ে নেওয়া যায়। অন্য হাদীসে  এসেছে, হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ ফরমান, “যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল তারপর শাওয়ালের রোযা রাখল সে যেন সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর মত গুনাহ মুক্ত হয়ে গেল।”
সুত্র: আল মুজামুল আসওয়াত)

নেক আমলের মাধ্যমে বান্দা মালিকের  সন্তুষ্টি খুঁজে। আল্লাহ মানবজাতিকে ঘোষণা দিয়েছেন আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা হিসেবে। মানুষ একমাত্র তারই ইবাদত করবে৷ তার নির্দেশিত পথ অনুসরণ করে চূড়ান্ত সফলতা লাভ করবে। তিনি যেকোনো ভালো আমলের প্রতিদান বহুগুন বাড়িয়ে বান্দাকে উপহার দেন। আল কুরআনের ঘোষণা অনুযায়ী যে একটি আমল করবে সে দশগুণ বেশি সওয়াব পাবে৷ (সূরা আনআম-160)

শাওয়ালের ছয় রোজার ফজিলতকে এ আয়াত দ্বারা গননা করা হোক। আমরা জানি, 360 দিনে এক বছর হয়। আমরা রমজানে আদায় করি 30 রোযা। 30×10=300 রোযার সাওয়াব আমরা পাই। অন্যদিকে শাওয়ালের 6×10=60 রোযার সাওয়াব আমাদের দেন আল্লাহ দেন।

এভাবে একজন ব্যক্তি রমজানের ৩০ ও শাওয়ালের ৬ রোযা রাখার দ্বারা ৩৬০ টি   রোজা রাখার  সাওয়াব হাসিল করে।

শাওয়ালের ছয় রোযা সম্পর্কে জ্ঞাতব্য:

★ছয় রোজা শাওয়াল মাসের  শুরুতে  মাঝখানে বা শেষে একসাথে  কিংবা  বিরতি দিয়ে রাখা যায়।

★রমজানের কাজা রোজার সাথে শাওয়ালের ছয় রোজার নিয়ত করলে তা কাযা বলে গণ্য হবে। আলাদা নফলের নিয়তে  শাওয়ালের রোজা রাখতে হবে৷

★রমযানের ফরয রোযা ব্যতিত  অন্য সকল রোজার নিয়ত রাতে বা সেহরিতে  করতে হবে।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালা আমাদেরকে বরকতময়  রমযান শেষে বছর ব্যাপি রোযা রাখার সাওয়াব পেতে শাওয়ালের রোজা রাখার তৌফিক দান করুন, আমিন।

Sharing is caring!