শাইখুল হাদীসকে হুজির প্রতিষ্ঠাতা বলে প্রচার করায় যমুনা টিভির বিরুদ্ধে দেশের শীর্ষ ইসলামী নেতৃবৃন্দের সাংবাদিক সম্মেলন

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত ডিসেম্বর ৪, ২০১৯
শাইখুল হাদীসকে হুজির প্রতিষ্ঠাতা বলে প্রচার করায় যমুনা টিভির বিরুদ্ধে দেশের শীর্ষ ইসলামী নেতৃবৃন্দের সাংবাদিক সম্মেলন

 মাহমুদুল হাসান ত্বহা

ঢাকা মহানগর উত্তর প্রতিনিধি :

আজ (৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর পুরানা পল্টনে অবস্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, জমিয়ত মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, খেলাফত আন্দোলনের আমীর আল্লামা মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, বাংলাদেশ খেলাফত মজজিলের আমীর মাওলানা ইসমাঈল নূরপুরী, তাফাফফুজে খতমে নবুয়্যাতের সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল ইসলাম প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে আল্লামা নূর হসাইন কাসেমীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ও শাইখুল হাদিসপুত্র মাওলানা মাহফুজুল হক। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ. এদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন ও সম্মানীত একটি নাম। একজন প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ ও বুযুর্গ আলেমেদ্বীন হিসেবে তিনি পরিচিত। অর্ধশতাব্দীরও অধিককাল তিনি বুখারি শরিফের অধ্যাপনা করেছেন, যা পৃথিবীর ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা। বাংলা ভাষায় তিনিই প্রথম বুখারি শরিফের ব্যাখ্যাসহ পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ করেছেন। এর মাধ্যমে লক্ষ কোটি বাংলা ভাষী মুসলমান মহানবী সা. এর হাদিসের জ্ঞান লাভ করতে পেরেছে। ঢাকার উল্লেখযোগ্য পাচঁটি মাদরাসায় তিনি একই সাথে বুখারি শরিফের দরস দিয়েছেন। সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে আছে তার লক্ষ লক্ষ ছাত্র। শুধু তাই নয়, বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার হিসেবে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে অধ্যাপনা করেছেন। জাতীয় ঈদগাহের খতিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এতে আরো বলা হয়, ১৯৮৯ সালের ৮ ডিসেম্বর উলামায়ে কেরাম ও দ্বীনদার বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। ১৯৯১ সালে সমমনা ইসলামি কয়েকটি দল নিয়ে ইসলামি ঐক্যজোট গঠন করেন এবং এর চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর দল ও জোট একাধিকবার জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছে। লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, আল্লামা আজিজুল হক রহ. আমৃত্য বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস করেছেন। দলটি বাংলাদেশ সরকারের সকল নিয়ম কানুন মেনে নির্বাচন কমিশনের একটি নিবন্ধিত ইসলামি দল। যার নিবন্ধন নম্বর ৩৩। রাষ্ট্রীয়, আন্তর্জাতিক কিংবা অন্য যে কোনো জায়গা থেকে আজ অবধি আল্লামা আজিজুল হক রহ. কিংবা তাঁর দলের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার ন্যূনতম কোনো অভিযোগ ওঠেনি। এমন একজন জাতীয় নেতাকে হুজির প্রতিষ্ঠাতা পরিচয় দিয়ে গত ২৬ নভেম্বর’১৯ সংবাদ প্রচার করে যমুনা টিভি। শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হকের মত প্রয়াত একজন শ্রেষ্ঠ আলেম ও জাতীয় নেতাকে হুজির প্রতিষ্ঠাতা আখ্যায়িত করে যমুনা টিভির এহেন প্রতিবেদন প্রচার চরম বিভ্রান্তিমূলক ও ধৃষ্টতার শামিল। বাংলাদেশের ইসলামি শিক্ষা ও রাজনীতির এই বাতিঘরকে কলঙ্কিত করার অপচেষ্টা কেবল ঘৃণ্যই নয় বরং জলজ্যান্ত ইতিহাসকে বিকৃত করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা। আল্লামা আজিজুল হকের বিরুদ্ধে যমুনা টিভির এহেন মনগড়া অপপ্রচার দেশবাসীর মনে তীব্র ক্ষোভ, ঘৃণা, নিন্দা ও প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে। দেশের সর্বস্তরের উলামায়ে কেরাম ও ইসলামপ্রিয় জনতা এহেন কর্মকান্ডকে ইসলাম ও জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে আঘাত বলে মনে করছে। এটা দেশে বিদ্যমান গণমাধ্যম আইন ও সম্প্রচার নীতিমালাসহ, প্রচলিত ফৌজদারি আইন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আলোকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সর্বজন শ্রদ্ধেয় শায়খুল হাদীসকে জঙ্গিনেতা আখ্যা দিয়ে মিথ্যা বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন প্রচারের জন্য যমুনা টিভিকে অবশ্যই নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।

Sharing is caring!