শবেকদরের ফজীলত ও মহত্ত্ব

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মে ১৬, ২০২০
শবেকদরের ফজীলত ও মহত্ত্ব

আহমদ নোমানী

ক: পবিত্র রামাজান মাসে আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহ কে এমন একটি মহিমান্বিত রজনী উপহার দিয়েছন যা হাজার মাস থেকেও শ্রেষ্ঠ। সে রজনীটি দক্ষিন- পুর্ব এশিয়ার মোসলমানদের কাছে ” শবেকদর ” নামে প্রসিদ্ধ, যাকে আরবী তথা কোরআন ও হাদীসের ভাসায় বলে” লায়লাতুল কদর”
এখানে একটি প্রশ্ন জাগে যে: রজনীটি অত্র দেশগুলোর মুসলমানদের কাছে লায়লাতুলকদর নামে প্রসিদ্ধ না হয়ে “শবেকদর” নামে প্রসিদ্ধ হলো কেন?
উত্তর হলো ” শবেকদর” শব্দটি ফার্সি ভাষার, যার অর্থ হলো রজনী, ব্রিটিশ আমল ও তার আগে ভারতবর্ষে ফার্সি ভাসার বহুল প্রচলন ছিল, যে কারণে তৎকালিন সময়ের ওলামায়ে কেরামের লিখিত প্রায় গ্রন্থগুলো ফার্সি ভাষায় ছিলো, হযরত আশরাফ আলী থানুভী রহঃও তাঁর লিখিত চিঠিপত্র ও কিতাবাদিতে ফার্সি ভাসার শব্দ অধিকহারে ব্যাবহার করতেন, “এমদাদুল ফাতওয়া ” যার জ্বলন্ত উদাহরণ।
মোটকথা হলো শবেকদর বা লায়লাতুল কদর যে শব্দই বলা হক অর্থ ও মর্ম এক ও অভিন্ন, পার্থক্য শুধু ভাষাগত।
শবেকদর কী শুধু রামাজান মাসেই ? >>>☞
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে উল্লেখ করেন যে “রামাজান এমন একটি মাস যে মাসে আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি” (সুরা বাকারা; আয়াত নং: ১৮৫ )
এই আয়াত দ্বারা স্পট প্রমাণিত যে কোরআন রামাজান মাসেই নাজিল হয়েছিল, তবে প্রশ্ন হলো রামাজান একটি দীর্ঘ সময়ের নাম, অতএব সেই দীর্ঘ সময়ের কোন অংশে কোরআন নাজিল হয়েছিল? যার উত্তর অন্য একটি আয়াতের মধ্য আল্লাহ তাআলা উল্লেখ করেন যে ” আমি কোরআন নাজিল করেছি লায়লাতুল কদরে”।
( সুরা কদর; আয়াত নং: ১)
প্রথম আয়াতের ঘোষণা হলো কোরআন নাজিল হয়েছে রামাজান মাসে, দ্বিতীয় আয়াতের ঘোষণা হলো কোরআন নাজিল হয়েছে লায়লাতুল কদরে, এই আয়াতদ্বয় একত্র করলে ফলাফল দাঁড়ায় যে লায়লাতুল কদর অবশ্যই রামাজান মাসেই হয়, সুতরাং উপরোল্লিখিত আয়াতদ্বয়ের মাঝে কোন প্রকার বিরোধ নেই।
হাদীসে এসেছে নবী করীম সাঃ এরশাদ করেন: “আমাকে লায়লাতুল কদর স্বপ্ন জানিয়ে দেওয়া হয়েছে অতঃপর তাহা আবার ভূলিয়েও দেওয়া হয়েছে, সুতরাং তোমরা শবেকদর তালাশ কর রামাজানের শেষ দশের বেজোড় রাতগুলোতে”।
(বোখারী; হাদীস নং : ২৯১৬, মুসলিম; হাদীস নং: ১১৬৭)
وقال عليه السلام إني أريت ليلة القدر ثم أنسيتها أو نسيتها فالتمسوها في العشر الأواخر في الوتر
শবেকদর সম্পর্কিত কোরআনের আয়াত এবং হাদীসগুলো দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত যে শবেকদর কেবল রামাজান মাসেই হয়, অন্য কোন মাসে হওয়ার কোন সম্ভাবনা ও সুযোগ নেই।
সুতরাং প্রসিদ্ধ উক্তি : ” هر شب شب قدرست اگر قدر بدانی”
অর্থাৎ প্রতি রাতেই শবেকদর আছে যদি মূল্লায়ন করতেজানো।
এই উক্তিটি প্রকাশ্যভাবে কোরআনের আয়াত ও হাদিস সমূহের সাথে সাংঘর্সিক, অতএব তাহা আবেগ প্রসূত এবং অগ্রাহ্য।

 

খ: “লায়লাতুলকদর” শব্দের অর্থ কী ? এবং এই রাতটিকে লায়লাতুল কদর কেন বলে ? >>>☞
“লায়লাতুল” অর্থ হলো রাত বা রজনী, আর “কদর” শব্দের এক অর্থ হলো “সম্মান ও মর্যাদা” অতএব লায়লাতুলকদর শব্দের অর্থ দাঁড়ায়” সম্মান ও মর্যাদার রজনী” যেহেতু এই রাতে জিবরাইল আঃ সহ অসংখ্য ফেরেশতা জমীনে অবতরণ করেন, এই রজনী হাজার মাস থেকে শ্রেষ্ঠ, এই রাতে মহান গ্রন্হ আলকোরআন মহামানব মোহাম্মদ সাঃ এর উপর মহান ফেরেশতা জিবরাঈল আঃ এর মাধ্যমে অবতীর্ণ হয়েছে, তাই অবশ্যই রাতটি অনেক সম্মান ও মর্যাদাপূর্ণ।
“কদর” শব্দের দ্বিতীয় অর্থ হলো”তাকদীর বা ভাগ্য নির্ধারণ ” কেননা এই রাতে জ্বিন- ইংসান সহ সমস্ত মাখলুকের একবছরের রিজিক, হায়াত,মওত সহ সবকিছু নির্ধারণ করে নির্ধারিত ফেরেশতাদের হাতে বণ্টন করে দেওয়া হয় তাই রাত কে কদরের রাত বলাহয়। (তাফসীরে কুরতুবী; সুরা কদর )
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
انا أنزلناه في ليلة مباركة إناكنامنذرين فيها يفرق كل امر حكيم
অর্থাৎআমি কোরআন নাজিল করেছি বরকতময় রজনীতে, আমি মানুষ কে ভীতিপ্রদর্শনকরি, আর সে রাতেই সব হেকমতপুর্ণ বিষয় বণ্টন করা হয় ” (সুরা দোখান; আয়াত নং: ৩-৪)

শবেকদর কত রামাজানে ?? >>>☞
উপরোল্লিখিত আলোচনা দ্বারা স্পটভাবে প্রমাণিত হমাসে নয়,তবে রামাজানের কত তারীখে শবেকদর?ঝ এ বিষয়টি প্রথম প্রথম নবীজির নিকটও অজানা ছিলো, তাই নবীজি শবেকদর পাওয়ার জন্য প্রথম দশদিন ইতিকাফ করেন, পরে জিবরাঈল আঃ এসে বলেন : শবেকদর আরো সামনে,তাই নবীজি সাঃ দ্বিতীয় দশদিনেও ইতিকাফে বসেন,জিবরাঈল আঃ আবার এসে বলেন: শবেকদর আরো সামনে………
اعْتَكَفَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَشْرَ الْأُوَلِ مِنْ رَمَضَانَ، وَاعْتَكَفْنَا مَعَهُ، فَأَتَاهُ جِبْرِيلُ، فَقَالَ : إِنَّ الَّذِي تَطْلُبُ أَمَامَكَ، فَاعْتَكَفَ الْعَشْرَ الْأَوْسَطَ، فَاعْتَكَفْنَا مَعَهُ، فَأَتَاهُ جِبْرِيلُ، فَقَالَ : إِنَّ الَّذِي تَطْلُبُ أَمَامَكَ، قَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَطِيبًا صَبِيحَةَ عِشْرِينَ مِنْ رَمَضَانَ، فَقَالَ : ” مَنْ كَانَ اعْتَكَفَ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلْيَرْجِعْ ؛ فَإِنِّي أُرِيتُ لَيْلَةَ الْقَدْرِ وَإِنِّي نُسِّيتُهَا، وَإِنَّهَا فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ فِي وِتْرٍ،
( বোখারী ; হাদীস নং: ৪১৩, মুসলিম ; হাদীস নং: ১১৬৭ )
উপরোল্লিখিত হাদীস দ্বারা স্পষ্ট যে শবেকদর রামাজানের প্রথম দুই দশকে অবশ্যই হয়না বরং শেষ দশকে, তবে শেষ দশকের কোন রাত?

 

#রামাজানের শেষ দশকের বেজোড় যে কোন এক রাত শবেকদর >>>☞
নবীজি সাঃ বলেনঃ শবেকদর কত রামাজানে তা আমাকে স্বপ্নে জানিয়ে দেওয়া হলো, আমি তাহা সাহাবায়ে কেরাম কে জানানোর জন্য মসজিদের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হলাম, তখন দেখলাম দুইজন মুসলমান মসজিদে ঝগড়ায় লিপ্ত, তাই আল্লাহ তাআলা শবেকদর আমাকে ভূলিয়ে দিয়েছেন। নবীজি সাঃ বলেনঃ শবেকদর উহ্য ও গোপন করাটা নিশ্চয় তোমাদের জন্য কল্যাণকর।
عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ يُخْبِرُ بِلَيْلَةِ الْقَدْرِ، فَتَلَاحَى رَجُلَانِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ، فَقَالَ : ” إِنِّي خَرَجْتُ لِأُخْبِرَكُمْ بِلَيْلَةِ الْقَدْرِ، وَإِنَّهُ تَلَاحَى فُلَانٌ وَفُلَانٌ فَرُفِعَتْ، وَعَسَى أَنْ يَكُونَ خَيْرًا لَكُمُ، الْتَمِسُوهَا فِي السَّبْعِ، وَالتِّسْعِ، وَالْخَمْسِ “. (বোখারী; হাদীস নং: ৪৯)
অন্য বর্ননায় আছে, নবী করীম সাঃ বলেনঃ শবেকদর আমাকে ভূলিয়ে দেওয়া হয়েছে, তবে অবশ্যই শবেকদর রামাজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে, তোমরা শবেকদর রামাজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে তালাশ কর।
؛ فَإِنِّي أُرِيتُ لَيْلَةَ الْقَدْرِ وَإِنِّي نُسِّيتُهَا
، وَإِنَّهَا فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ فِي وِتْر
(বোখারী; হাদীস নং: ৪১৩, মুসলিম; হাদীস নং: ১১৬৭)
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : ” تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْوِتْرِ مِنَ الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ “. (বোখারী ; হাদীস নং: ২০১৭, তিরমিযী ; হাদীস নং: ৭৮২)
উল্লেখিত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে শবেকদর শেষ দশকের বেজোড় তারীখ তথা ২১,২৩,২৫,২৭,২৯ যে কোন এক তারীখে হইতে পারে, অতএব ২৭ শে রামাজান কে শবেকদরের জন্য নির্ধারণ করা যা বর্তমানে আমাদের সমাজে হয়ে থাকে নিশ্চিত মেজাযে শরীয়ত এবং হাদীস বিরোধী। তবে হ্যাঁ অনেক সাহাবায়ে কিরাম ও বুজুর্গানে দ্বীন শবেকদর ২৭ শে রামাজানে পেয়েছেন, এমনটা তাঁরা আলমত দ্বারা বুজতে পেরেছেন। শরীয়ত যখন শবেকদর কে মুসলমানদের কল্যানের জন্য উহ্য ও গোপন রেখেছে এবং নবীজি সাঃও নিশ্চিত করতে পারেনি, সেখানে আমি ২৭শে রামাজান কে নির্ধারণ করার অধিকার কিভাবে রাখি!!

 

শবেকদরের আলামত সমূহ >>>☞
নবীজি সাঃ শবেকদরের কয়েকটি আলামত নির্ধারণ করে দিয়েছেন যেগুলো দেখে সাহাবায়ে কেরাম ও বুজুর্গানে দ্বীন শবেকদর বুজতে পারতেন।
কয়েকটি আলামত নিচে উল্লেখ করা হলো:
১: বৃষ্টি বর্ষণ হওয়া; নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে রাতে শবে কদর পেয়েছেন সে রাতে বৃষ্টি বর্ষণ হয়েছে।
وَإِنِّي رَأَيْتُ أَنِّي أَسْجُدُ فِي مَاءٍ وَطِينٍ، فَمَنْ كَانَ اعْتَكَفَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلْيَرْجِعْ ”
. فَرَجَعْنَا وَمَا نَرَى فِي السَّمَاءِ قَزَعَةً ، فَجَاءَتْ سَحَابَةٌ فَمَطَرَتْ حَتَّى سَالَ سَقْفُ الْمَسْجِدِ
( বোখারী ; হাদীস নং: ২০১৬, মুসলিম; হাদীস নং: ১১৬৭, আবুদাউদ ; হাদীস ণং: ১৩৭২ )
২: সেরাতে না গরম থাকবে, না শীত, বরং রাটতি হবে নিরব, আলোকময় এবং চন্দ্রজ্জ্বল।
َقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ :
” إِنَّ أَمَارَةَ لَيْلَةِ الْقَدْرِ أَنَّهَا صَافِيَةٌ بَلْجَةٌ
، كَأَنَّ فِيهَا قَمَرًا سَاطِعًا، سَاكِنَةٌ، سَاجِيَةٌ، لَا بَرْدَ فِيهَا وَلَا حَر
(মুসনাদে আহমদ ; হাদীস নং: ২২৭৬৫)
৩: সে রাতে নক্ষত্রসমূহ শয়তানকে তাড়া করিবার জন্য পিছে ছুটবেনা।
وَلَا يَحِلُّ لِكَوْكَبٍ أَنْ يُرْمَى بِهِ فِيهَا حَتَّى يُصْبَحَ
(،মুসনাদে আহমদ ; হাদীস নং: ২২৭৬৫)
৪: রাত পেরিয়ে ভোর বেলায় সূর্য উদিত হবে কিরণ মুক্ত হয়ে যেন তার আলো মুছে দেওয়া হল।
ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয় লাইলাতুল কদর হচ্ছে রমজানের শেষ সাতের মাঝখানে, সেদিন সকালে শুভ্রতা নিয়ে সূর্য উদিত হবে, তার মধ্যে কোনো কিরণ থাকবে না। ইবনে মাসউদ বলেন, আমি সূর্যের দিকে তাকিয়ে সেরূপ দেখেছি, যেরূপ রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন।’ -মুসনাদে আহমদ: ৩৮৫৭
عَنْ أَبِي عَقْرَبٍ قَالَ : غَدَوْتُ إِلَى ابْنِ مَسْعُودٍ ذَاتَ غَدَاةٍ فِي رَمَضَانَ، فَوَجَدْتُهُ فَوْقَ بَيْتِهِ جَالِسًا، فَسَمِعْنَا صَوْتَهُ وَهُوَ يَقُولُ : صَدَقَ اللَّهُ، وَبَلَّغَ رَسُولُهُ. فَقُلْنَا : سَمِعْنَاكَ تَقُولُ : صَدَقَ اللَّهُ، وَبَلَّغَ رَسُولُهُ. فَقَالَ : إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : ” إِنَّ لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي النِّصْفِ مِنَ السَّبْعِ الْأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ تَطْلُعُ الشَّمْسُ غَدَاتَئِذٍ صَافِيَةً لَيْسَ لَهَا شُعَاعٌ “. فَنَظَرْتُ إِلَيْهَا، فَوَجَدْتُهَا كَمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
( মুসনাদে আহমদ: হাদীস নং: ৩৮৫৭)
قال بالعلامة أو بالآية التي اخبرنا رسول الله صلي الله عليه وسلم انهاتطلع يومئذ لاشعاع لها.
( মুসলিম; হাদীস নং:৭৬২, আবুদাউদ; হাদীস নং: ১৩৭৮, তিরমিযী; হাদীস নং; ৩৩৫১)
৫: সেইদিন সূর্যের সহিত শয়তানের আত্মপ্রকাশ আল্লাহ তা’আলা হারাম করে দিয়েছেন।
ِ، وَلَا يَحِلُّ لِلشَّيْطَانِ أَنْ يَخْرُجَ مَعَهَا يَوْمَئِذٍ
( মুসনাদে আহমদ; হাদীস নং: ২২৭৬৫)

 

শবেকদরের ফজীলত ও গুরুত্ব >>>☞
শবে কদর এমন এক মহিমান্বিত ও মর্যাদাপূর্ণ রজনী যার ফজিলত ও গুরুত্ব আল্লাহ তাআলা কোরআন মাজীদ এর মধ্যে উল্লেখ করেছেন এবং সেই রাতের ফজিলত সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ একটি সূরাও নাযিল করেন, এ কারণে ইসলাম ধর্মে সর্বশ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাপূর্ণ রজনী হল শবে কদর, এই রাতের ফজিলত এতো অপরিসীম যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিবছর রমজান মাস এলে নিজেই তাহা তালাশ করতেন এবং সাহাবায়ে কেরাম কে শবে কদর তালাশ জন্য উদ্বুদ্ধ করতেন এবং উৎসাহ দিতেন।
আয়েশা সিদ্দিকা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন: নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের শেষ দশকে ইবাদত-বন্দেগিতে এই পরিমাণ মুজাহাদা ও পরিশ্রম করতেন যা অন্য সময় করতে দেখা যায় না।
قَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَجْتَهِدُ فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مَا لَا يَجْتَهِدُ فِي غَيْرِهِ
(মুসলিম ১১৭৫, তিরমিযী৭৯৬)
অন্য বর্ণনায় আছে হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা বলেন: রমজানের শেষ দশক এলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিক পরিমাণে ইবাদত করার জন্য কোমর বেঁধে প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন, বিনিদ্র রজনী কাটাতেন এবং পরিবার-পরিজনকে ইবাদত বন্দেগী করার জাগ্রত রাখতেন।
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ : كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ الْعَشْرُ شَدَّ مِئْزَرَهُ وَأَحْيَا لَيْلَهُ وَأَيْقَظَ أَهْلَهُ.
(বোখারী২০২৪, মুসলিম১১৭৪, আবু দাউদ ১৩৭৬)
আল্লাহ তাআলা মহাগ্রন্থ আল কোরআনের মধ্যে লাইলাতুল কদর সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ একটি সূরা সূরাতুল কদর কেয়ামত পর্যন্ত সমস্ত ঈমানদার মুসলমানদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যে এই বিরাটি অন্যান্য রাতের মতো সাধারণ কোনো রাত নয় বরং এই রাতটি অত্যন্ত বরক ও পূণ্যময় এবং ইবাদতের জন্য বসন্তকাল।
এ রাতের কয়েকটি ফজিলত >>>☞
ক : এই রাতে আল্লাহতায়ালা মহাগ্রন্থ আল-কুরআন লোহে মাহফুজ থেকে জিবরাঈল আলাইহিস সালাম এর মাধ্যমে প্রথম আসমানে নাযিল করেন।
খ : এই পবিত্র রাতটি ১০০০ মাস কথা ৮৩ বছর থেকেও শ্রেষ্ঠ অর্থাৎ এই রাতের আমল ১০০০ মাসের আমল থেকেও উত্তম ,দামি এবং শ্রেষ্ঠ, এই মহিমান্বিত রাতটি আল্লাহতায়ালা কেবল শেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উম্মত কে বিশেষভাবে দান করেছেন অন্য কোন নবীর উম্মত কে দেননি।
গ : এই রাতে হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম ফেরেশতাদের বিশাল একটি জামাত নিয়ে জমিন অবতরণ করেন, এবং শুভ সাদিক পর্যন্ত তারা জমিনে বিচরণ করে খুঁজে বের করেন এ সমস্ত লোকদেরকে যারা রাতভর ইবাদত-বন্দেগিতে লিপ্ত থাকে এবং তাদের জন্য রহমতের দোয়া করতে থাকেন।
ঘ : নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন যে ব্যক্তি শবে কদরে সওয়াবের আশায় এবং এখনও সহকারে ইবাদত-বন্দেগিতে কাটাবে আল্লাহ তাআলা তার অতীতের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।
সূত্র সমূহ>>>
১: সুরা কদর
২:
، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : ” مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا ، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ، وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ (বোখারী; হাদিস নং:২০১৪, মুসলিম; হাদিস নং: ৭৬০, আবুদাউদ; হাদিস নং:১৩৭২,)
৩:
إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُرِيَ أَعْمَارَ النَّاسِ قَبْلَهُ، أَوْ مَا شَاءَ اللَّهُ مِنْ ذَلِكَ، فَكَأَنَّهُ تَقَاصَرَ أَعْمَارَ أُمَّتِهِ أَنْ لَا يَبْلُغُوا مِنَ الْعَمَلِ مِثْلَ الَّذِي بَلَغَ غَيْرُهُمْ فِي طُولِ الْعُمْرِ، فَأَعْطَاهُ اللَّهُ لَيْلَةَ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ. (মোয়াত্বা মালেক; হাদিস নং: ৮৯৬,)

عن انس رضي الله تعالي عنه قال قال رسول الله صلي الله عليه وسلم اذا كان ليلة القدر نزل جبرئيل علي السلام في كبكبة من الملائكة يصلون علي كل عبد قائم او قاعد يذكر الله عز وجل
( মিশকাত ; ১/১৮২)
৪:
شان نزول :- ابن ابی حاتم نے مجاہد سے مرسلاً روایت کیا ہے کہ رسول اللہ (صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم) نے بنی اسرائیل کے ایک مجاہد کا حال ذکر کیا جو ایک ہزار مہینے تک مسلسل مشغول جہاد رہا، کبھی ہتھیار نہیں اتارے۔ مسلمانوں کو یہ سن کر تعجب ہوا، اس پر سورۃ قدر نازل ہوئی جس میں اس امت کے لئے صرف ایک رات کی عبادت کو اس مجاہد کی عمر بھر کی عبادت یعنی ایک ہزار مہینے سے بہتر قرار دیا ہے اور ابن جریر نے بروایت مجاہد ایک دوسرا واقعہ یہ ذکر کیا ہے کہ بنی اسرائیل میں ایک عابد کا یہ حال تھا کہ ساری رات عبادت میں مشغول رہتا اور صبح ہوتے ہی جہاد کے لئے نکل کھڑا ہوتا دن بھر جہاد میں مشغول رہتا، ایک ہزار مہینے اس نے اسی مسلسل عبادت میں گزار دیئے۔ اس پر اللہ تعالیٰ نے سورۃ قدر نازل فرما کر اس امت کی فضیلت سب پر ثابت فرما دی۔ اس سے یہ بھی معلوم ہوتا ہے کہ شب قدر امت محمدیہ کی خصوصیات میں سے ہے
(তাফসীরে মারেফুল কুরআন; সূরা কদর )

লেখক: আহমদ নোমানী

মুহাদ্দিস, জামিয়াতুর রহমান, গাজীপুর ঢাকা।

Sharing is caring!