শক্তিশালী জাতি গঠনে সিজারকে না বলুন

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত আগস্ট ১৭, ২০২০
শক্তিশালী জাতি গঠনে সিজারকে না বলুন
  1. তাজুল ইসলাম ওসমানী

দাম্পত্য জীবনের একটি অন্যতম সুখ আর আনন্দ হচ্ছে সন্তানের মুখ দেখা, মা হওয়া, মা শব্দটি শুনতে যেমন আনন্দ অনুভব হয় তেমনি শব্দটির যোগ্য হতে এর চেয়ে বেশি কষ্ট পোহাতে হয়। দীর্ঘ নয় মাস বা দশ মাস অপেক্ষার পর গর্ভের সন্তানকে স্পর্শ করতে পারা, মা ডাকটি শুনতে পারার অনুভূতিটা সত্যি আনন্দের। একজন অন্তঃসত্ত্বা মায়ের সবচেয়ে বড় ভয় প্রসবকালীন ব্যথা।
একজন অন্তঃসত্ত্বা মা তার প্রসবকালীন সময়ে যে পরিমান ব্যথার সম্মুখীন হন একজন সুস্থ সবল মানুষকে তা বহন করানো হলে নির্ঘাত সে মৃত্যুর কোলে ডলে পড়বে। এই ব্যথা থেকে রেহাই পেতেই অনেকে নিজ থেকে সিজারের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। সাধারণত যে সমস্ত কারণে মায়েরা সিজারের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন
১ নিজের উপর আত্মবিশ্বাস হারিয়ে
২ কঠিন ব্যথা থেকে বাঁচতে
৩ আত্মীয়স্বজনদের পরোচনায়
উল্লেখিত কারণ ছাড়াও বিভিন্ন সময় শারীরিক অসুবিধা দেখা দেযার ফলে সিজার করতে বাধ্য হয় যেমন
১ গর্ভের সন্তানের মাথা নিচের দিকে থাকলে
২ সমস্যা শারীরিক কসরত এর কারণে স্বাভাবিক প্রসব করতে অক্ষম হলে ইত্যাদি ইত্যাদি প্রথম তিনটির কোন একটির কারণে কোন মা সিজারের আশ্রয় নেয়া আদৌ ঠিক নয় কেননা আল্লাহ কোরআন মজিদের মধ্যে বলেন ثم السبيل يسره অতঃপর আমি তার গমনপথ কে (মায়ের পেট থেকে দুনিয়াতে আসার রাস্তা)সহজ করে দিয়েছি, (সূরা বাবাসা) উল্লেখিত কারন সমূহের অজুহাতে স্বাভাবিক নিয়মের বিপরীতে সন্তান জন্ম দেওয়া ঠিক নয় । কেননা এতে অনেক ক্ষতি রয়েছে যেমন , শরয়ী ক্ষতিসমূহ
১ বেপর্দার সম্মুখীন হতে হয়
২ লজ্জা কমে যায়
৩ সন্তানের অব মুল্যায়ন হয়

শারীরিক ক্ষতি সমূহ
১. প্রচুর রক্তস্রাব
২. পা ফুলে যাওয়া বা লাল হয়ে যাওয়া
৩. বুকে ব্যথা
৪. শ্বাসকষ্ট
৫. সেলাইয়ের স্থানে পুঁজ, রক্ত বা কোনো তরল দেখতে পাওয়া
৬. সেলাইয়ের স্থানে অস্বাভাবিক ব্যথা হওয়া
৭সিজার পরবর্তী সময়ে নিয়মিত ঋতুস্রাব না হওয়া
৮পঙ্গু হওয়ার আশঙ্কা

ভবিষ্যতের উপর সিজারিয়ান প্রসবের সম্ভাব্য প্রভাব

একটি সি-সেকশনের মাধ্যমে জন্ম ভবিষ্যতের গর্ভধারণকে নিম্নলিখিত উপায়ে প্রভাবিত করতে পারে:

১.পূর্ববর্তী গর্ভাবস্থায় যদি একটি সি-সেকশন ডেলিভারি হয়, তবে ভবিষ্যতের গর্ভাবস্থায় রক্তপাত, অস্বাভাবিক ভ্রূণের অবস্থান, প্লাসেন্টা প্রেভিয়া বা আগের ক্ষত বরাবর জরায়ুর বিদারণের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।

২ প্ল্যাসেন্টা প্রেভিয়া হলে অতিরিক্ত রক্তপাত হয়।

৩ ভ্রূণের অস্বাভাবিক অবস্থান থাকলে, এবং আগের বার সি-সেকশন পদ্ধতিতে প্রসব হয়ে থাকলে, স্বাভাবিকভাবে প্রসব করা কঠিন এবং শ্রমসাধ্য হয়ে ওঠে।

৪ যদি জরায়ু ফেটে যায়, তাহলে মারাত্মক হতে পারে।

৫ সি-সেকশন পদ্ধতিতে আগে যারা প্রসব করেছেন, সেইসব মায়েদের মূত্রনালী এবং মূত্রাশয়ের সংক্রমণ বেশী ঘটে।

৬ যৌন অসন্তুষ্টি: সি-সেকশন হওয়ার পরে আরোগ্যলাভে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে যার ফলে নারীর স্বাভাবিক যৌন আগ্রহ কমে যেতে পারে।

৭ তার কাটা বা অস্ত্রোপচার হওয়া স্থানে ব্যথা বা বেদনা থাকতে পারে।

৮একজন মহিলা যার একবার সি-সেকশন হয়েছে তার ভবিষ্যৎ গর্ভধারণের ক্ষেত্রে সিজারিয়ান ডেলিভারি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

৯ভবিষ্যতের গর্ভধারণে নিম্ন স্থলযুক্ত প্ল্যাসেন্টা থাকার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় এবং জটিলতা থাকার ফলে পরবর্তী গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত রক্তপাত ঘটায় এবং রক্ত দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার দিকে পরিচালিত করে।

১০ভবিষ্যতে গর্ভধারণে মৃত বাচ্চা প্রসবের সম্ভাবনা বাড়ায়। (উইকিপিডিয়া)

এছাড়াও
প্রসূতিকে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য তাকে ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করতে হতে পারে।

কিছু অতি বিরল ঘটনাও আছে যেখানে মায়ের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার জন্য অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জরায়ু ছেদন বা হিস্টেরেক্টমি করতে হয়েছে।

সি-সেকশন বা সিজারিয়ান পরবর্তী জটিলতার কারণে অপারেশন করার পরেও পুনরায় অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।

কিছু বিরল ক্ষেত্রে, মহিলার মূত্রাশয় বা জরায়ুর ক্ষত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

যাদের সি-সেকশন হয়েছে এমন মহিলারা সাধারণত হাসপাতালে বেশি সময় থাকেন।
অস্ত্রোপচার হওয়া অংশে ক্ষত বা যন্ত্রণার মত শারীরিক সমস্যা থাকতে পারে।

সিজারিয়ান হওয়া মহিলাদের বুকের দুধ খাওয়ানো বিলম্বিত হতে পারে। এই সমস্তই পেটের অস্বস্তি এবং ব্যথার কারণে হয়।
সিজারিয়ান হওয়া মহিলাদের মধ্যে প্রসব পরবর্তী অবসাদের প্রবণতা বেশি ..

এই দীর্ঘ আলোচনায় স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে সিজারে বাচ্চা প্রসব করা তে লাভের চেয়ে লোকসানের আশঙ্কাই বেশি সুতরাং ছোট খাট অজুহাতে সিজারের মত ধ্বংসাত্মক পদ্ধতিতে বাচ্চা নেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে,এতে মায়েরা হবে শক্তিশালী এবং সমাজ হবে আদর্শিক , সন্তানেরও স্বাভাবিক জীবন-যাপনে বাধা থাকবে না

Sharing is caring!