টানা লক ডাউনে বাড়ছে বেকারত্ব, বাড়ছে সাংসারিক ঝগড়াও

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত জুলাই ১০, ২০২০
টানা লক ডাউনে বাড়ছে বেকারত্ব, বাড়ছে সাংসারিক ঝগড়াও

মু মোশাররফ ফয়জী

বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই মধ্যবিত্ত এবং নিন্মবিত্ত, এদের সংসারের চালিকাশক্তি হলো দৈনিক বা মাসিক ইনকাম। কিন্তু বর্তমান করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের দেয়া টানা লক ডাউনের কারণে তাঁদের দৈনিক এবং মাসিক সব রকমের ইনকামই বন্ধ। যার ফলে বন্ধ হয়ে পড়েছে সংসারের চাকাও।
দু-এক মাস টানে হেঁচড়ে কেউ কেউ সংসারে চাকা ঘুরাতে সক্ষম হলেও এখন একেবারেই অক্ষম হয়ে পড়েছে তারা। কারণ তাদের সামন্য জমানো টাকা পয়সা যা ছিলো এখন তা একেবারেই সূন্যের কোঠায়, এদিকে কারো কাছে টাকা ধার চাইলেও পাওয়া যাচ্ছে না, ওদিকে তাদের ইনকামের সব রকমের রাস্তা বন্ধ, ফলে একে একে তাদেরও সংসারের চাকা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। একদিকে পকেট পাকা, অন্যদিকে ধার-উধার থেকে শুরু করে আয়-ইনকামের সব রাস্তা বন্ধ, তাই এখন তাদের জন্য সম্ভব হচ্ছে না সংসারের তিন বেলার রুজি-রুটি যোগাড় করা। তিন বেলা ঠিক করে দুমুঠো ভাত না পেয়ে ছেলে-মেয়েরা মায়ের উপর ক্ষিপ্ত, ঠিক মতো পকেট খরচ না পেয়ে বাবার উপর রাগ। এসব কারণে সংসারে স্বামী-স্ত্রীরাও দিনদিন খিটখিটে মেজাজের হয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে আবার যাদের সাপ্তাহিক বা মাসিক কিস্তি পরিশোধ করা লাগে, তারা তো এখন পাগলপ্রায়,আত্বসম্মানের ভয়ে না পারছে চুরি করতে, না পারছে কিস্তি ছেড়ে পালিয়ে যেতে। এসব বিষয় নিয়ে সংসারে প্রায় প্রতিদিনি কথা কাটাকাটি হয়,আর এ কথা কাটাকাটি বাড়তে বাড়তে চরম পর্যায়ের ঝগড়ায় পরিনত হয়। এসব ঝগড়ায় কখনো স্বামী স্ত্রীকে মারধর করে, আবার কোন কোন স্ত্রীয় স্বামীর সাথে না সূচক আচরণ করে বসে, আর কখনো কখনো তো এসব ঝগড়া তাদেরকে সবচে হীন কাজ তালাক পর্যন্তও নিয়ে যায়। যার ফলে ভেঙে যায় একটি পরিবারের বন্ধন, ছেলে-সন্তান হারয় তার পিতা-মাতাকে, একটু বাড়িয়ে বললে তারা সুধু পিতা-মাতাকেই হারায় না বরং তারা জীবন থেকেই হারিয়ে যায়। কারণ সন্তান পিতা-মাতা এবং পারিবারিক বন্ধন ছাড়া কিছুই করতে পারেনা। ফলে তারা সারা জীবনই সমাজের কাছে থাকে অবহেলিত।

নাগরিক হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার দাবি হলো,আপনি যেন করোনা আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে পারিবারিক বন্ধন ভেঙে না দেন। আপনাকে সবদিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাহলে আপনাকে আগামী প্রজন্ম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ  করবে।

 

Sharing is caring!