লঞ্চ ডুবির ঘটনায় হত্যা মামলা

আওয়ার বাংলাদেশ ডেস্ক ২৪
প্রকাশিত এপ্রিল ৮, ২০২১
লঞ্চ ডুবির ঘটনায় হত্যা মামলা
  •  মোঃ শফিকুল ইসলাম ভূঞা
  • জেলা প্রতিনিধি মুন্সিগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জে লঞ্চডুবির ঘটনায় হত্যার উদ্দেশ্যে বেপরোয়া গতিতে পণ্যবাহী জাহাজ চালিয়ে লঞ্চটি ডুবিয়ে ৩৫ জনের প্রাণহানি ঘটানোর কারনে হত্যা অভিযোগ এনে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের উপ পরিচালক (নৌ নিট্রা) বাবু লাল বৈদ্য গতকাল মঙ্গলবার রাতে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় মামলাটি দায়ের করেন, তবে মামলায় কাউকে আসামী হিসেবে দেখানো হয়নি ২৮০, ৩০৪, ৩৩৭, ৩৩৮, ৪২৭, ৪৩৭ ধারাসহ ইনল্যান্ড শিপিং অর্ডিন্যান্স ১৯৭৬ এর ৭০ ধারায় মামলাটি দায়েল করা হয়েছে বলে জানায় উপ পরিচালক (নৌ নিট্রা) বাবু লাল বৈদ্য ।

একইসাথে হত্যার উদ্দেশ্যে বেপরোয়া গতিতে পণ্যবাহী জাহাজ চালিয়ে সাবিত আল হাসান নামে মুন্সিগঞ্জগামী একটি লঞ্চ ডুবিয়ে ৩৪ জন যাত্রীকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে মামলায়। উল্লেখ্য যে, গত রবিবার সন্ধা সারে ৬ টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শীতলক্ষা নদীবন্দর কয়লা ঘাটস্থ এলাকায় অর্ধশতাধীক যাত্রী নিয়ে সাবিত আল হাসান নামের মুন্সিগঞ্জগামী একটি লঞ্চকে পেছন দিক থেকে ধাক্কা দেয় এসকেএল-৩ নামের কোস্টার ট্যাংকা।

একে ঘটনাস্থলেই ডুবে যায় লঞ্চটি। এঘটনায় গত সোমবার দুপুর পর্যন্ত ৩৫ জনের মরোদেহ উদ্ধার করা হয়। একই সাথে ক্ষতিগ্রস্থ সকল পরিবারকে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা তাহেরী ববিকে প্রধান করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে লঞ্চডুবির ঘটনায় সেই সাথে ৫ কর্ম দিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেন দাখিলের কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়াও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিআইডব্লিউটিএর নৌ–নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক রফিকুল ইসলামকে প্রধান করে চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়েছে এর আগে ৪ এপ্রিল রবিবার সন্ধা সারে ৬ টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শীতলক্ষা নদীরবন্দর কয়লা ঘাটস্থ এলাকায় অর্ধশতাধীক যাত্রী নিয়ে লঞ্চটি মুন্সিগঞ্জ যাওয়ার সময় পেছন দিক থেকে একটি কার্গো ধাক্কা দিলে সাথে সাথে ডুবে যায় সময়েও মেয়েকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে রাখেন মা. শেষবারের মতো জড়িয়ে ধরেছে মা।

তারা হয়তো বুঝে গিয়েছিলো আর কোনোদিন জড়িয়ে ধরে ঘুমানো হবেনা। এটাই যেন জীবনের শেষ অধ্যায়। এ বন্ধন মৃত্যুর পরেও ছিন্ন হবার মতো না। মুন্সিগঞ্জ থেকে নারায়নগঞ্জ রুটে যে লঞ্চ গুলো চলাচল করে সে গুলো কমপক্ষে ৩৫-৪০ বছর আগের পুরনো। লঞ্চ গুলোর বডি ফিটনেস তেমন ভালো না। লঞ্চ গুলোর চালকদের অনেকেরই লাইসেন্স নেই। অদক্ষ্য চালক দ্বারা পরিচালিত হয় লঞ্চ গুলো। এমনকি দেখা যায় সামান্য একটু ঢেউ হলে লঞ্চ গুলো হেলতে দুলতে থাকে। মাঝে মধ্যে পানিও ঢুকতে থাকে লঞ্চ এর মধ্যে। মাঝ নদীতে লঞ্চ গুলোর ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায় এ রকম ঘটনাও কম ঘটেনি ।

Sharing is caring!