লক ডাউন ভাবনা: পর্ব-৭

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত এপ্রিল ৬, ২০২০
লক ডাউন ভাবনা: পর্ব-৭

মাস্টার সেলিম উদ্দিন রেজা   

গতকাল ০৪ এপ্রিল সকালে যখন পত্রিকার পাতাগুলোতে চোখ বুলাচ্ছিলাম তখন বিশ্ব মহামারী করোনার আপগ্রেড ছিল এরকম: বিশ্বে মৃত্যুর সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত ১০ লাখ।

এ আপগ্রেডের ঠিক ২৪ ঘন্টা পর (০৫ এপ্রিল) এখন যখন আজকের পত্রিকাগুলোতে চোখ বুলাচ্ছি তখন যে চিত্রটি ভেসে আসলো তা হচ্ছে এ রকম:

বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৬৪০৮৪ জন।( প্রথম আলো) তুলনামূলক চিত্রে দেখা যাচ্ছে বিগত চব্বিশ ঘন্টায় প্রাণঘাতি করোনা কেড়ে নিয়েছে ১৪ হাজারেরও বেশি প্রাণ।

বিগত ২৪ ঘন্টায় যুক্তরাজ্যে মৃত্যুবরণ করেছে ৭০৮ জন, ইরানে ১৫৮ জন, স্পেনে ১৮ জন।একদিনের ব্যবধানে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২০১৭৬৭ জনে। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছে মাত্র ২,৪৬ ৪৯৬ জন। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ছাড়িয়েগেছে ৩ লক্ষের বেশি। ( বাংলাদেশ প্রতিদিন)।

গতকাল ০৪ এপ্রির থেকে ২ সপ্তাহের জন্য সকলকে ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। খাদ্য এবং ঔষধ ছাড়া অন্য কোন প্রয়োজনে কেউ বের হলে জেল অথবা মোটা অংকের জরিমানার কথা জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এদিকে ইতালিতে বিগত ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু হয়েছে ৬৮১ জনের। এর মধ্যে আরও একটি দু:সংবাদ হচছে, বিগত ২৪ ঘন্টার বৃষ্টিপাতে বন্যা কবলিত হয়েছে স্পেন। ১৯৭৬ সালের পর এত বেশি বৃষ্টি আর হয়নি দেশটিতে। মাত্র একদিনের বৃষ্টতে করোনার মরণ ছোবলে এই মৃত্যুপুরীতে পানি বন্দী এক লক্ষ আশি হাজার মানুষ।

ফ্রান্সের অবস্থাও ভয়াবহ। করোনার মরণ ছোবলে দেশটি যেন ভয়ংকর মৃত্যুকূপ।একদিনেই সেখানে প্রাণ হারিয়েছে ১০৫৩ জন মানুষ।

আমাদের দেশ সম্পর্কে জাতিসংঘ সতর্কবাণী দিয়েছে যে বাংলাদেশে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াতে পারে পাঁচ লাখ থেকে বিশ লাখ। এ আশংকা আমরা অমূলক মনে না করি। এ সতর্কবার্তা হোক আমাদের সতর্ক হওয়ার উপাদান।

এই হচ্ছে মোটামুটি আজকের বিশ্ব পরিস্থিতি। দূর্ভাগ্য জনক সত্য, করোনা প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে শুরুতেই আমাদের কিছুটা বিলম্ব হয়ে গেছে। এখন এই কঠিন পরিস্থিতিতে গার্মেন্টস খোলার উদ্যোগ, এই প্রাণঘাতি মহামারীকে ডেকে আনছে নাতো? আমাদের বিবেক কোথায় গেলো? কেন সবকিছু জানার পরও আমরা এই মহামারীর করুণ পরিণতি সম্পর্কে ভাবছি না? এ কোন মরণ খেলায় আমরা মেতে ওঠতে যাচ্ছি?

এই মূহুর্তে সরকারের কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ, লক্ষ লক্ষ গার্মেন্টস শ্রমিককে ঘরের বাইরে যেতে বাধ্য করে, এ প্রাণঘাতি ভাইরাসটি সমগ্র জাতির মধ্যে ছড়িয়ে দিবেন না। চাকুরির চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। মানুষ চাকরি চায় না, বাঁচতে চায়। খাবার চায় না, পেটে পাথর বেঁধে হলেও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চায়।

দয়াকরে আমাদের গার্মেন্টস শ্রমিক যারা আমাদের সৌভাগ্যের এলবাট্রাস তাদেরকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেবেন না।

যদি বাঁচে মানুষ
যদি বাঁচে দেশ,
ঘুরে দাঁড়ানো যাবে
ব্যবসা করা যাবে বেশ।

চলবে……

Sharing is caring!