লক ডাউন ভাবনা: পর্ব-৪

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত এপ্রিল ৩, ২০২০
লক ডাউন ভাবনা: পর্ব-৪

মাস্টার সেলিম উদ্দিন রেজা 

অতি ক্ষুদ্র এক করোনা ভাইরাসের আগ্রাসনে অস্থির গোটা বিশ্ব। জাতি সংঘ মহাসচিবের মতে দ্ধিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে আর কখনো পড়েনি বিশ্ব। অস্তিত্বের লড়াইয়ে এ ক্ষুদ্র ভাইরাসের কাছে হেরে যাচ্ছি আমরা প্রতিনিয়ত। প্রতিদিনই প্রলম্বিত হচ্ছে লাশের তালিকা। জ্যামিতিক হারে বাড়ছে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। আশার প্রদীপ যেন নিভু নিভু। চারিদিকে কেবলই হতাশা। কেবলই অন্ধকার।

যে করোনার বিরুদ্ধে গোটা বিশ্ব একসাথে লড়াই করছে কিন্তু পেরে ওঠছেনা কত ছোট এ করোনা। এ করোনা ভাইরাস এত ছোট খালি চোখে তো নয়ই, সাধারণ অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়েও দেখা যায় না। প্রয়োজন হয় শক্তিশালী অণুবীক্ষণযন্ত্র।

মহান রাব্বুল ইজ্জত ইচ্ছে করলে একই সময়ে করোনার সাথে খরা, পঙ্গপাল, এসিড বৃষ্টি, ভূমিকম্প সহ বহু দুর্যোগ পাঠাতে পারতেন। যদি এমন হতো তবে আমরা কি করতাম? একবার কি ভেবে দেখেছি? আমাদের এত নাফরমানি সত্বেেও তিনি যে এমনটি করেন নি সে জন্য শোকর আলহামদুলিল্লাহ।

সেদিন তো খুব দূরের কথা নয়, বিশ্বের শক্তিধর জালিম বাদশাহরা নানা অজুহাতে মানুষের উপর গণহত্যা চালাতো। মায়ানমারের কথায় ভাবুন, ভাবুন ভারতে গো মাংস খাওয়ার অপরাধে জিব কেটে মানুষ হত্যার কথ্। এক বিন লাদেনের অজুহাতে কত সহস্র মানুষ হত্যার স্বীকার হয়েছে আফগানস্থানে? পারমানবিক অস্ত্রের অজুহাতে ইরাককে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা, পবিত্র ঈদুল আযহার রাতে প্রেসিডেন্ট সাদ্দামকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলানো, গাদ্দাফির নির্মম মৃত্যু কত শত ঘটনা। আজ কোথায় সেই দাম্ভিক রাজা বাদশাহরা?

আমার খুব কষ্ট লাগে যেখানে উন্নত রাষ্ট্রগুলি এ সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য অনেক বেশি সতর্কতা অবলম্বন করছে সেখানে আমরা বুঝেই ওঠতে পারছিনা কি ভয়ংকর অবস্থার মধ্যে আমরা আছি। জনসাধারণেনন নিরাপত্তার জন্য সরকার লকডাউন ঘোষণা করেছে। এক সপ্তাহের লকডাউনে দেশের অর্থনীতির যে ক্ষতি তা এক বছরে কাটিয়ে ওঠতে হিমসিম খেতে হবে। তবুও সরকার লকডাউন করেছে।কেন করেছে? আমাদের নিরাপত্তার জন্য করেছে, আমাদের বাঁচানোর জন্য করেছে। এই মূহুর্তে সবচেয়ে বেশি জরুরী যার যার গৃহে অবস্থান। অথচ আমরা মনের সুখে বাইরে ঘুরছি। চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছি। অবাধ্য কিশোরের দল এখনও মাঠে চার ছক্কা মারছে, আড্ডা দিচ্ছে জড়ো হয়ে। কত নির্বোধ আমরা। আমরা বুঝতে পারছিনা আল্লাহ না করুন, এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে কেবল আমি মরবো না, এটি আমার মা, বাবা, ভাই বোন, পরিবার পরিজন এবং আমি যাদের সংস্পর্শে আছি সবার মৃত্যুর কারণ হবে এ সংক্রমণ। কিভাবে আমি বাইরে যেতে পারি?

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে সামনের দুটি সপ্তাহ আমাদের জন্য আরও ভয়ংকর। সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি লকডাউনে জননিরাপত্তার স্বার্থে আরও কড়াকড়ি আরোপের জন্য। শতভাগ মানুষ যেন ঘরেই অবস্থান করে।

ব্যক্তি, সংগঠন এবং সরকারের উদ্যোগে যে সমস্ত খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে তা যেন প্রকৃত অভাবীদের তালিকা অনুসারে নীরবে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়া হয়। কোন টিমেই সদস্য সংখ্যা যেন তিনের অধিক না হয়। ত্রাণ সহায়তা দিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে যেন নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা বিঘ্নিত না হয়।

চলবে…..

Sharing is caring!