লকডাউন ভাবনা: পর্ব-৫

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত এপ্রিল ৪, ২০২০
লকডাউন ভাবনা: পর্ব-৫

মাস্টার সেলিম উদ্দিন রেজা  

আমাদের দেশে লকডাউনে সবচেয়ে বেশি পরিস্থিতির স্বীকার খেটে খাওয়া মানুষ।দিন মজুর। যারা দিনে এনে দিনে খায়। এমন মানুষগুলির কাজের ক্ষেত্র খোলা নেই। যেমন নির্মান শ্রমিক, জনসমাগমের আশংকায় নির্মাণ কাজ বন্ধ। রিক্সা, ভ্যান, অটো চালক। লকডাউনের কারণে রাস্তায় যাত্রী নেই। আছে প্রশাসনের কড়া প্রহরা। আর এসব মানুষের প্রতিজনের পেছনে পাঁচ সাত জনের এক একটি পরিবার। আর্নিং মেম্বার ঐ একজনই। তিনি আয় করতে না পারলে না খেয়ে উপোস করতে হবে সবাইকে। এছাড়া আছে ভিক্ষুক, আছে ভবঘুরে। যাদের কোন আয়ের পথ নেই লকডাউন অবস্থায়। এরপরের স্তরে যারা সংকটে তারা হচ্ছেন নিম্মবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত। এই শ্রেণির মানুষগুলি অভাব সইতেও পারে না আবার বলতেও পারে না। এদের খোঁজ রাখার প্রয়োজনীয়তাও কেউ অনুভব করে না। দুর্ভাগ্য যদি আমাদের পিছু না ছাড়ে এ লকডাউন আরও দীর্ঘ হতে পারে। লকডাউন দীর্ঘ মানেই দুর্ভিক্ষের অশনি সংকেত। কারণ লকডাউনের কারণে উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। বিপননের সুযোগ খুবই সীমিত। বাইরের দেশ থেকে আমদানীও ঝুঁকির মুখে। প্রতিটি দেশই সংকট অতিক্রম করছে। কারো পাশে কেউ সহযোগিতা নিয়ে দাঁড়াবে সে অবস্থাও নেই। সুতারাং এই কঠিন পরিস্থতি মোকাবেলার মাস্টার প্লান প্রণয়নে সরকারকে অনতিবিলম্বে উদ্যোগী হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। আমরা গভীরভাবে আশা করবো সরকার এ বিষয়ে কালক্ষেপণ করবে না। আমাদের শুধু এটুকুন চাওয়া বিনা চিকিৎসায় কেউ যেন মারা না যায়।ক্ষুধার যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে যেন কেউ মারা না যায়।ব্যস এটুকুই।হতদরিদ্রদের নির্ভুল তালিকা প্রণয়ন খুবই জরুরী। যাতে অন্তত সরকারের বরাদ্দকৃত ত্রাণ সামগ্রী সঠিক ভাবে সহজে বন্টন করা যায়।

এতবড় কঠিন চ্যালেন্জ সরকারের একার পক্ষে মোকাবেলা সম্ভব নয়। তাই সমাজেন বিত্তবানদের এগিয়ে আসতে হবে মানবিক কারণে। আমাদের মনে রাখা উচিৎ, আমাদের দেশ কিন্তু কানাডা নয়। সকল দায়িত্ব সরকারেন উপর দিয়ে আমরা নির্ভার বসে থাকবো।

জাতি হিসেবে আমরা চ্যালেন্জ মোকাবেলায় পারদর্শী। রক্তাক্ত বায়ান্ন, একাত্তর, নব্বই এর উজ্জল দৃষ্টান্ত। যার যার অবস্থান থেকে সংকট মোকাবেলায় সাধ্যানুযায়ী এগিয়ে আসলে ইনশা আল্লাহ আমরা অবশ্যই এ কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারবো।

মানব দানবের মুক্তির অগ্রদূত, জগতের শ্রেষ্ঠতম মহামানব মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওসাল্লামের গুরুত্বপূর্ণ একটি হাদীস -” যে ব্যক্তি উদর পূর্তি করে খায় অথচ তার প্রতিবেশী অভুক্ত থাকে সে প্রকৃত মুমিন নয়।” এখন সময় এসেছে, আমাদেন প্রত্যেককে এ হাদীসেন মর্ম উপলব্ধি করার।
নিজ দায়িত্বে খোঁজ রাখতে হবে দরিদ্র প্রতিবেশিদের। এটি দরিদ্র মানুষগুলির প্রয়োজনে নয়, নিজেদের ঈমান রক্ষার প্রয়োজনে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে আমরা এটাও দেখতে পাচ্ছি সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি অনেকেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করছে। সরকারি বেসরকারি ত্রাণ বিতরণে একটি সুন্দর সমন্বয় থাকা জরুরি। এমন যেন না হয় যে পরিবারটি ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছে সে বার বার পাচ্ছে। আর যে পরিবারটি পাচ্ছে না সে পরিবার একবারও পাচ্ছে না। এর চেয়েও বেশি জরুরি হচ্ছে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছে কিনা সেটি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে কঠোরভাবে।আশার কথা হচ্ছে, ইতোমধ্যে হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ত্রাণ বিতরণে সমগ্র বাংলাদেশে মডেল হয়েছে।

ইতিবাচক সংবাদের পাশাপাশি কিছু নেতিবাচক খবরও আমাদের দৃষ্টি এড়ায়নি। কিছু কিছু জায়গায় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের আশ্বাস দিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা মানুষকে অপেক্ষা করিয়ে, হাত ধোয়াইয়ে খালি হাতে ফেরত দেয়া হয়েছে যা কোন ভাবেই কাম্য নয়। আমরা এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি চাই না।

চলবে……

Sharing is caring!