লকডাউন ভাবনা–পর্ব-২৫

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মে ১, ২০২০
লকডাউন ভাবনা–পর্ব-২৫

মাস্টার সেলিম উদ্দিন রেজা   

অজস্র দুঃসংবাদের মাঝে একটি সুসংবাদ যেন শত বেদনার মাঝে এক চিলতে সুখ।দুনিয়াজুড়ে থামছেনা করোনা ভাইরাসের ধ্বংসলীলা।প্রাণঘাতি এই জীবাণুর হামলায় ইতোমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছে দুই লাখের বেশী মানুষ।মরণপণ করে কোভিড-১৯ রোগের প্রতিষেধক খুঁজে বেড়াচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।এই মুহুর্তে করোনার টিকা আবিষ্কারের জন্য ১০০টিরও বেশি প্রজেক্ট কাজ চলছে।এর মধ্যে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ইউনিভর্সিটি।অক্সফোর্ডে যে দলটি করোনা প্রতিষেধক আবিষ্কারের জন্য কাজ করে যাচ্ছে সেই দলের নেতৃত্বে থেকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে দুই কৃতি বঙ্গকন্যা সুমি বিশ্বাস ও চন্দ্রা দত্ত।তাদের আবিষ্কৃত টিকার মানবদেহ ট্রায়াল শেষ পর্যায়ে।এই টিকা দ্রুত বাজারে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সুমি ও চন্দ্রা। তামাম পৃথিবী অপেক্ষার প্রহর গুনছে সুমি ও চন্দ্রার সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে করোনা নামক যমদূতের করাল গ্রাস থেকে বিশ্ববাসীকে রক্ষা করতে।সুমি ও চন্দ্রা পৃথিবীর সকল বঙ্গভাষীর অহংকার।এক পূর্নিমা রাতে আকাশের বুকে যতটি তারার ফুল ফোটে তার সবগুলো দিয়েই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনে সিক্ত করতে চাই সুমি ও চন্দ্রাকে।এই দু’ কৃতি বঙ্গকন্যার হাত ধরেই মুক্তি আসুক মৃত্যুকূপের খাদে পড়া পৃথিবী নামক গ্রহটির।মৃত্যুর মিছিল যাক থেমে।নিষ্প্রাণ ঘুমন্ত পৃথিবী সহসাই জেগে উঠুক সজীব প্রাণের কোলাহলে।কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসুক মানুষের জীবনে।দূরীভূত হোক দুর্ভিক্ষের অশনী সংকেত।অর্থনীতির চাকায় আসুক গতি।

করোনা ভাইরাসের ভয়ঙ্কর তান্ডবে পৃথিবীর শ্রমবাজারে যুক্ত অর্ধেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ার আশংকা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আই এল ও। সংস্থাটির পরিসংখ্যান মতে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের সংখ্যা ১৬০ কোটির কম নয়।বিকল্প কর্মসংস্থান বা আয়ের সুযোগ না থাকলে এই কর্মীরা এবং তাদেের পরিবার পরিজনের বেঁচে থাকা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে।এর ফলে ওয়াল্ড ফুড প্রোগ্রামের নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বেসলি করোনার প্রভাবে পৃথিবীজুড়ে আগা
মী ৬ মাস ব্যপী দৈনিক এক লক্ষ মানুষ অনাহারে মৃত্যুবরণ করার যে আশংকা প্রকাশ করেছিলেন তাই যেন বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে।

সম্প্রতি ভয়ানক এক তথ্য প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি। হু এবং লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের তথ্যের আলোকে সংস্থাটি জানায়, অর্থনীতিতে দূর্বল এবং যুদ্ধবিধ্বস্থ করোনাক্রান্ত দেশগুলোকে যথাযথ আর্থিক ও মানবিক সাহায্য করা না হলে পৃথবীজুড়ে একশত কোটি মানুষ করোনাক্রান্ত হতে পারে। সংস্থাটির এ আশ্ংকা মোটেও অমূলক নয়। আমাদের অবশ্যই স্মরণ রাখা উচিৎ বিগত শতাব্দীতে স্পেনিশ ইনফ্লুয়েন্জায় পৃথিবীর এক চতুর্থাংশ মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিল। এই গ্লোবাল ক্রাইসিস যদি গ্লোবালি মোকাবেলা করা না হ্য় তবে স্পেনিশ ইনফ্লুয়েন্জার তান্ডবের পুণরাবৃত্তি যে হবে না তার নিশ্চয়তা কোথায়? যদি তাই হয়, তবে করোনা তান্ডবে মৃত্যুর মিছিলটি হবে দুই শত কোটি মানুষের। অতএব বিশ্ব নেতৃবৃন্দ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলিকে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে করোনাযুদ্ধের সমন্বিত এবং সম্মিলিত মোকাবেলার।সম্প্রতি দিল্লী ও ঢাকা এ সংকট মোকাবেলার জন্য একসাথে কাজ করার যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে তা হতে পারে গ্লোবাল ইউনিটির আঁতুরঘর।যেহেতু এটি রিজিউনাল ক্রাইসিস নয় সেহেতু কেবল দু-একটি রাষ্ট্রের সম্মিলন নয় বরং প্রয়োজন আক্রান্ত ২১০টি রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগ এবং ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা।এই উদ্যোগ গ্রহণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে জাতিসংঘকে।

অত্যন্ত দুঃখজনক সত্য যে,সারা বিশ্ব যখন করোনা ভাইরাসে জর্জরিত এবং এ ভাইরাস মোকাবেলায় সব দেশের সম্মিলিত সহযোগিতা অপরিহার্য বিবেচিত হওয়ার পরও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার একনায়কত্ব ও স্বেচ্ছাচারনীতি অব্যাহত রেখেছে।অবশ্য এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল।

করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে বিশ্বের ২১০টি দেশ।নিজের দেশ করোনাক্রান্ত হওয়া সত্বেও ৫৫টি রাষ্ট্রকে চিকিৎসা সরঞ্জাম সহযোগিতা দিয়ে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্সি এরদোগান।বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর রাষ্ট্র এবং একইসঙ্গে করোনাতান্ডবে সবচেয়ে বিপর্যস্ত রাষ্ট্র আমেরিকাকেও চিকিৎসা সরঞ্জাম সহযোগিতা দিয়েছে তুরস্ক।সে সাথে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট তাইয়েপ এরদোগান মার্কিন প্রেসিডেন্টকে লেখা এক চিঠিতে বলেন “আশা করি দুই দেশের সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্ব ভালোভাবে বুঝতে পাবে মার্কিন প্রশাসন।আগামী দিনগলোতে মার্কিন যুক্তরাষট্রের নির্ভরযোগ্য এবং বলিষ্ট অংশীদার হিসেবে পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। ”

এদিকে করোনা উপনর্গ নিয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে মৃত্যূ বরণ করেছেন দেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক দৈনিক সময়ের আলোর চীফ রিপোর্টার হুমায়ুন কবির খোকন।তার মৃত্যূতে দেশ হারালো একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও নিবেদিত প্রাণ মিডিয়া কর্মীকে। দেশের এই কঠিন পরিস্থিতিতেও করোনার সংবাদ নিয়মিতভাবে জাতির সামনে উপস্থাপন করতে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছিলেন তিনি। স্ংবাদ তৈরির এ নির্ভীক সৈনিক নিষ্ঠার সাথে নির্ভিকচি্ত্তে কাজ করতে গিয়ে নিজেই পরিণত হলেন সংবাদে। বাংলার করোনা যুদ্ধের ইতিহাসে সাংবাদিক সমাজের প্রথম জীবনোৎসর্গকারী হিসেবে দেদীপ্যমান থাকবে হুমায়ুন কবির খোকন নামটি। তার মাগফিরাত কামনা এবং পরিবার পরিবার পরিজনের জন্য রইলো গভীর সমবেদনা।

চলবে……..

Sharing is caring!