লকডাউন ভাবনা: পর্ব -২৪

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত এপ্রিল ৩০, ২০২০
লকডাউন ভাবনা: পর্ব -২৪

মাস্টার সেলিম উদ্দিন রেজা     

করোনা ভাইরাসের কারণে কৃষকরা তাদের ধান ঘরে তুলতে পারছেনা।এমতাবস্থায় আওয়ামীলীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন কৃষকের পাশে দাঁড়াতে।প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশ পালন করতে গিয়ে টাঙ্গাইল-১আসনের সংসদ সদস্য জনৈক এক কৃষকের কাঁচা ধান কেটে ফেলেছেন স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের নিয়ে।সংসদ সদস্যের এমন কান্ডজ্ঞানহীন কর্ম কৃষকের পাকা ধানে মই দেয়া কিংবা বাড়া ভাতে ছাই দেয়ারই নামান্তর।এমন মোসাহেবি যেন স্মরণ করিয়ে দেয় বিদ্রোহী নজরুলের সেই কালজয়ী কবিতা-

সাহেব কহেন,”চমৎকার!সে চমৎকার!”
মোসাহেব বলে,”চমৎকার! সে হতেই হবে যে!
হুজুরের মতে অমত কার?”

সাহেব কহেন “কী চমৎকার
বলতেই দাও আহা হা!”
মোসাহেব বলে,”হুজুরের কথা শুনেই বুঝেছি
বাহা হা বাহা হা বাহা হা!”

আমাদের দেশে প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হয় চলতি বছরের ৮ মার্চ। ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েগেছে ৬হাজার।মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হয়েছে ১৫৫।বিশেষজ্ঞদের অভিমত, আগামী ৩১ মে নাগাদ শনাক্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে যেতে পারে ৫০ হাজার।সে ৫০ হাজার থেকে কত লক্ষ লোক সংক্রমিত হতে পারে তা এই মুহুর্তে বলা দুষ্কর।সময়ই বলে দেবে সে সংখ্যা।এই কঠিন মুহুর্তে সরকার প্রধানকে আমরা স্মরণ করে দিতে চাই –

“অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া,জানে না সন্তরণ
কান্ডারী!আজ দেখিবো তোমার মাতৃমুক্তি-পণ!
‘হিন্দু না ওরা মুসলিম?’ওই জিজ্ঞাসে কোন জন?
কান্ডারী!বল,ডুবিছে মানুষ,সন্তান মোর মা’র!”

আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে,করোনাযোদ্ধা তথা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সেবা দিতে গিয়ে আশংকা জনক হারে আক্রান্ত হচ্ছে এ প্রানঘাতী ভাইরাসে।এ বিষয়ে দু’টি জেলার চিত্র নিন্মে উপস্থাপন করছি-

২৮ এপ্রিল পর্যন্ত ঝিনাইদহ জেলায় মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২১। এর মধ্যে ৪জন চিকিৎসক সহ স্বাস্থ্য বিভাগের ১৩জন।মানিকগঞ্জ জেলার মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১৫জন,এর মধ্যে তিনজন চিকিৎসক।এমতাবস্থায় স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে অনাগত দিনের কঠিন সময়গুলো মোকাবেলা করতে হিমশিম খেতে হবে সরকারকে।তাই সেইফটি ফাস্ট,সিকিইউরিটি মাস্ট নীতি অবলম্বন করতে হবে এ বিভাগের করোনাযুদ্ধ সংশ্লিস্ট সকলের জন্য, সরকারকে।

সীমিত পরিসরের নামে শিল্প কারখানা খোলার যে আগুন নিয়ে মরণ খেলায় মেতেছেন শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকরা, সে আগুন টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া ছড়িয়ে পড়বে কিনা সে বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে সরকারকে। এর দায় কি নেবেন শিল্পপতিরা?

” যদি করোনার আগুনে দেশ পুড়ে হয়ে যায় ছারখার
থাকবে কি সুযোগ পুঁজিপতিদের ব্যাবসা করার?”

মহামারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসায় এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে দেশের শীর্ষ শিল্প গোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ।করোনা চিকিৎসার জন্য বসুন্ধরা নির্মাণ করেছে ২০১৩ বেড বিশিষ্ট অস্থায়ী হাসপাতাল। যোগান দিয়েছে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম।চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টি করা হয়েছে নিশ্চিত।মহান মুক্তিযুদ্ধের পর এমন কঠিন সংকটে পড়েনি দেশ কখনো।এই সংকটময় মুহুর্তে বসুন্ধরাগ্রুপের এমন মানবিক উদ্যোগ যেমন প্রশংসার দাবি রাখে তেমনি অধিকার রাখে করোনা প্রতিরোধ যুদ্ধের ইতিহাসে স্থান পাবার।

চলবে…..

Sharing is caring!