লকডাউন ভাবনা: পর্ব – ২২

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত এপ্রিল ২৮, ২০২০
লকডাউন ভাবনা: পর্ব – ২২

মাস্টার সেলিম উদ্দিন রেজা

করোনার মরণ কামড় থেকে কেউ যেন রেহাই পাচ্ছে না। বেশ ক’ জন রাষ্ট্রপ্রধান, সাবেক রাষ্ট্র প্রধানের করোনাক্রান্ত এবং কারো কারো মৃত্যুর বিষয়ে ইতোপূর্বে আলোকপাত করছি। করোনা মোকাবেলার লড়াইয়ে পাক সরকারের রাষ্ট্রীয় তহবিলে এক কোটি রুপি সহায়তা দিয়েছেন সে দেশের বিশিষ্ট সমাজসেবী ফয়সাল আধি। এ কারণে করোনা ভাইরাস যেন ক্ষিপ্ত হয়েছে তার ওপর। এত বড় অংকের রুপি দান করার চতুর্থ দিনে তিনি নিজেই আক্রান্ত হয়েছেন প্রাণঘাতি করোনায়। ফয়সাল আধির অনুদানের চেকটি সরাসরি গ্রহণ করেছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ফয়সাল আধির করোনা রিপোর্ট পজেটিভ আসার ঘটনায় পাক প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে দেশটি কারণ চেক গ্রহণকালে তিনি ফয়সাল অাধির সংস্পর্শে এসেছিলেন। ব্যক্তিগত চিকিৎসকের পরামর্শে পাক প্রধানমন্ত্রীর করোনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় হাফ ছেড়ে বাঁচে পাকিস্তান।

লকডাউন, সোস্যাল ডিসটেন্স দিয়ে করোনা কিছুটা থামানো গেলেও নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ প্রাণঘাতি ভাইরাসকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রনে আনার জন্য প্রয়োজন ভ্যাকসিন। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় এ পর্যন্ত সত্তরটি ভাইরাস নিয়ে কাজ করছে। এর মধ্যে তিনটি মানব শরীরে পরীক্ষা করা হবে। চীনা গবেষকরা ইতোমধ্যে ইঁদুর ও বাঁদুরের মধ্যে যে ভাইরাস পরীক্ষা করেছিলেন, তা সফল হয়েছে। বৃটিশ গবেষকরাও করোনা ভাইরাস নির্মূল ভ্যাকসিনের মানব দেহে ট্রায়াল শুরু করতে যাচ্ছে। বৃটিশ গবেষকদের ট্রায়ালটি সফলতার মুখ দেখলে করোনা আগ্রাসনের পায়ে বেড়ি পরানো যাবে আশা করা যায়।

করোনা তান্ডবে থমকে গেছে বিশ্বের অর্খনীতি, থমকে গেছে উৎপাদন, বিপনন ও কারখানা।ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের নির্বাহী পরিচালক ডেবিড বেসলি সূত্রে জানা গেছে, করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্বের ৩৬ টি দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। দশটি দেশের দশ লক্ষ মানুষ এখনই অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।বিশ্বখাদ্য সংকটের ৪র্খ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ইয়েমেন, গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো, আফগানিস্তান,ভেনেজুয়েলা, ইথিওপিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, নাইজেরিয়া ও হাইতিতে খাদ্য সংকট রয়েছে।

প্রাণঘাতি করোনায় বর্তমানে যুক্তরাষট্রের দশ লক্ষ মানুষ মৃত্যুর সাথে পান্জা লড়ছে।মৃত্যুর মিছিলে যোগ দিয়েছে অর্ধ লক্ষ।(২৫/০৪/২০২০) দেশটির স্বাস্থ্য সংস্থা সিডিসি’ র প্রধান রবার্ট রেডফিল্ড জানান, যুক্তরাষট্রে দ্বিতীয় ধাপে করোনার আক্রমন হবে আরো ভয়াবহ।কারণ,এ সময়টাতে সৌসুমী ফ্লু এবং করোনা দুটি একসাথে মোকাবেলা করতে হবে।

চীনে উৎপত্তি হওয়া নভেল করোনা ভাইরাসের বিষাক্ত ছোবলে আমেরিকান ও ইউরিপিয়ান দেশগুলুতে মানুষ মরছে ঝাঁকে ঝাঁকে।কেন এমন হচ্ছে? ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা লন্ডন এবং মিডল্যান্ডসের মতো করোনা ভাইরাস হট স্পট গুলিতে অধিক মৃত্যুর সংগে উচ্চ মাত্রায় বায়ু দুষণের একটা সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন।

গবেষকদলের এই অনুসন্ধানে যেন আমাদের বোধোদয় ঘটে। প্রকৃতির প্রতি বহুকাল যাবত আমরা যে নিমর্ম, নিষ্ঠুর এবং নৃশংস আচরণ করে আসছি তারই একটি সাইলেন্ট রিভেঞ্জ যেন করোনা তান্ডব। করোনাত্তোর পৃথিবী হোক প্রকৃতিবান্ধব।হোক সাম্যের, মানবতার এবং উদারতার।

চলবে…….

Sharing is caring!