রেলওয়ের কাছ থেকে বিনামূল্যে ৩৮০টি টিকিট চেয়েছেন কৃষক লীগ নেতারা

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত অক্টোবর ২৬, ২০১৯
রেলওয়ের কাছ থেকে বিনামূল্যে ৩৮০টি টিকিট চেয়েছেন কৃষক লীগ নেতারা

তানিম ইবনে তাহের

স্টার্প রিপোর্টার:

আগামী ৬ নভেম্বর ঢাকায় কৃষক লীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশ নিতে রেলওয়ের কাছ থেকে বিনামূল্যে ৩৮০টি টিকিট চেয়েছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার নেতারা। সংগঠনটির এই আবদারে বিব্রত রেল কর্তৃপক্ষ। জানা যায়, তূর্ণা নিশিতা ট্রেনের ৫ নভেম্বর রাতের ঢাকা যাওয়ার ও ৬ নভেম্বর রাতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসার টিকিট চেয়ে রেলওয়ে প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তার কাছে দলীয় প্যাডে চিঠি দেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কৃষক লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও সফিকুল ইসলাম। চিঠিতে তারা সম্মেলনে নির্বিঘ্নে যোগদান ও ফিরে আসার ব্যাপারে রেলওয়ে যথাযথ ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। রেলওয়ে সূত্র মতে, ট্রেনের প্রতিটি টিকিটের মূল্য ৭৩৫ টাকা। সেই হিসাবে ৩৮০টি টিকিটের মূল্য ২ লাখ ৭৯ হাজার ৩০০ টাকা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০ অক্টোবর রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তাকে(সিসিএম) উদ্দেশ্য করে চিঠি দেয় বাংলাদেশ কৃষক লীগ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কমিটি। চিঠি দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে কৃষক লীগ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার সভাপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আমরা কোনও চাঁদাবাজি করি না। তাই বিনামূল্যে টিকিট চেয়েছি। কিন্তু রেলওয়ে লিখিতভাবে জানিয়েছে, ওই রকম কোনও সুযোগ নেই। এখন টাকা দিয়ে যতজন যেতে পারব তত জন যাব। যারা যাবে তাদের কাছ থেকে টাকা নেয়া হচ্ছে। কৃষক লীগের এমন আবেদনে অনেকটাই বিব্রত বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তবে তারাও কৃষক লীগ নেতাদের লিখিতভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে তাদের বিনামূল্যে টিকেট সরবরাহের কোনও বিধান নেই। তাই তাদের ফ্রি টিকেট দেয়াও সম্ভব হয়নি। রেলওয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (পূর্ব) মো. খায়রুল করিম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উত্তর জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদককে বলা হয়, রেলওয়েতে ফ্রি ভ্রমণের সুযোগ না থাকায় তাদের আবেদনটি বিবেচনা করার কোনও সুযোগ নেই। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, রেলওয়েতে ফ্রি টিকেট দেয়ার কোন ব্যবস্থা নেই। টিকেট পেতে হলে টাকা দিয়ে কিনতে হবে। এ বিষয়ে সনাক-টিআইবি চট্টগ্রামের সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী বলেন, এ ধরনের আবেদন কোনও অবস্থায় যৌক্তিক বলে বিবেচনা করা যাবে না। এটা বেআইনি। সরকারি সম্পদকে দলীয় সম্পদ মনে করলে হবে না।

Sharing is caring!