রাষ্ট্রের কাছে ধর্মীয় বিষয়গুলো এত গুরুত্বহীন কেন?

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মে ৭, ২০২০
রাষ্ট্রের কাছে ধর্মীয় বিষয়গুলো এত গুরুত্বহীন কেন?
  • সম্পাদকীয়

যেই রাষ্ট্রের অসংখ্য সিস্টেম নড়বড়ে, সেই রাষ্ট্রে এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলা ততটা ফলপ্রসূ হবে বলে মনে হয়না। তবু বলছি, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের এই দেশে ধর্মীয় বিষয়গুলো গুরুত্বহীন হওয়া মোটেই সমীচীন নয়।

আমাদের দেশে ধর্মীয় বিষয়গুলো দেখাশোনা করার জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয় আছে। এবং এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনেক কর্মী রয়েছেন, তারপরও ধর্মের অসংখ্য বিষয় গুরুত্বহীন।
বলতে গেলে এদেশে ধর্মের বিষয়গুলো নিয়ে কোন চিন্তাভাবনা, পরিকল্পনা ও মাঠ যাচাই হয়না, ধরে নেয়া যায় যেভাবে আছে তাকে কোনভাবে চালিয়ে নেয়াই তাদের লক্ষ্য।

পবিত্র রমযানুল মুবারকে রোযা, সাহরি ও ইফতারের বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা কী?

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দেশব্যাপী সাহরি ও ইফতারের সময়সূচি ক্যালেন্ডার প্রকাশ করলেই দায়িত্ব আদায় শেষ?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন সাহরি ও ইফতারের সময়সূচি ক্যালেন্ডার প্রকাশ করেছে, যা অনেকটাই অনলাইন বা স্মার্ট ফোন নির্ভর, এই ক্যালেন্ডার অনেকেরই হাতে পৌছায়নি। তাছাড়া দেশীয় ও আঞ্চলিক সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলো অসংখ্য ক্যালেন্ডার প্রকাশ করেছে, এই ক্যালেন্ডারগুলোর সময়সূচিতে একটার সাথে একটার যে পার্থক্য, বলতে গেলে একেকটা এক মাযহাব, এমনকি একটার সাথে একটার পার্থক্য করতে পারাই বৈচিত্র!

তাইতো ভোর রাতে সাহরির শেষ সময় নিয়ে এক মসজিদ থেকে একটা ঘোষণা শোনা যায়।

আরেকটা আশ্চর্যের বিষয় হলো ঘড়ির টাইম নিয়ে, মুয়াজ্জিনদের ঘড়ির টাইমে মিল নাই।
তাইতো ইফতারের সময় মসজিদগুলোর ঘোষণার মাঝে ২-৫মিনিট পর্যন্ত ব্যবধান হয় এবং সাহরিতে এক মসজিদ থেকে সাহরির সময় শেষ শোনা যায় আর পাশের মসজিদ থেকে এখনো ১০মিনিট বাকী আছে এমনও শোনা যায়।

পাবলিক কার কথা শুনে আমল করবেন?
এই ক্ষেত্রে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কি কোন করণীয় ছিল না?

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিযুক্ত ব্যক্তি বা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দায়িত্বশীলদের মাধ্যমে প্রতিটি জেলায় সময়সূচির ক্যালেন্ডারগুলোর পার্থক্য ও ব্যবধান রুখতে চেষ্টা করা হলে ক্যালেন্ডারগুলোর এই পার্থক্যের পথ বন্ধ করা যেতো।
রমযান উপলক্ষে মসজিদ ও মুয়াজ্জিনদের ঘড়ির টাইম এক করা বা কারেক্ট করার বিষয়েও তদারকির প্রয়োজন ছিল।

আসলে যেদেশে প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে দুর্ঘটনাময় পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ বিলের জরিমানা মওকুফ করার ঘোষণা আসলে, বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ সারাদেশে একজোড়ে মিটারের রিডিং না দেখে গ্রাহকদের উপর ভুতুড়ে বিল চাপিয়ে দিতে পারে, সে দেশে এসব বিষয়ে কখনো ভাবা হবে বলে মনে হয়না।

তবু বলবো, ধর্ম মন্ত্রণালয় দেশের ধর্মীয় শিক্ষার বাইরে থাকা নাগরিকদের নামাজ পড়ার প্রশিক্ষণ ও তদারকি নিয়ে ভাবুক, রমযানে রোজা রাখা ও দিনের বেলায় প্রকাশ্যে পানাহার বন্ধে অভিযান পরিচালনা করুক, সাহরি ও ইফতারের এসব অসামঞ্জস্য বিষয়ে ভূমিকা পালন করুক, রাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম নাগরিকের ইসলামী চেতনা সংরক্ষণে নিয়োজিত থাকুক।

অন্য কোন সামাজিক সংগঠনও যদি একাজে এগিয়ে আসে মুসলিম মিল্লাতের অনেক খেদমত হবে।

Sharing is caring!