রাতের আধারে অসহায় মানুষের পাশে কোম্পানীগঞ্জের ওসি

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত এপ্রিল ৯, ২০২০
রাতের আধারে অসহায় মানুষের পাশে কোম্পানীগঞ্জের ওসি

লবীব আহমেদ

কোম্পানীগঞ্জ থেকে:

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ওসি সজল কুমার কানু বরাবরই ভালো কাজের জন্য সবার কাছে জনপ্রিয়। মাত্র ৫ মাস পূর্বে কোম্পানীগঞ্জে এসে ত্রাস হয়েছেন অপরাধীদের। সাফল্যের ধারাবাহিকতায় করে যাচ্ছেন কোম্পানীগঞ্জের মানুষের সেবা। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মহামারী নভেল করোনায় স্মরণীয় ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল ৮ এপ্রিল, বুধবার রাতে ফোনে পাওয়া সংবাদের ভিত্তিতে চলে যান এক অনাহারী পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দিতে।

বাকি কথাগুলো না হয় সজল কানুর মুখ থেকেই শুনে নিন। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা অফিসার ইনচার্জ সজল কুমার কানু বলেন, “অদ্য – ০৮/০৪/২০২০ ইং রাত অনুমান ১০ঃ১০ মিনিট মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এক ব্যাক্তি জানায় যে, কোম্পানীগঞ্জ থানাধীন কেচুটিলা গ্রাম ( সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানা এলাকা ) উক্ত গ্রামের আছমা বেগমের পরিবার না খেয়ে অভুক্ত অবস্থায় বাচ্চারা কান্নাকাটি করে না খেয়ে ঘুমিয়ে আছে । দিনের বেলা হাওলাত করে প্রতিবেশীর বাড়ী হইতে দুই কৌটা চাউল এনে আলু সিদ্ধ করে খাইয়েছিল, রাত্রিতে উপবাস।

আছমা বেগমের পরিবার মোট ০৪ ( চার) সদস্যের তার ০২ টি ছেলে ও ০১ টি মেয়ে আছে । ছেলে আশরাফ (১২), আলী আহমদ (১০) মেয়ে খোদেজা (৮) সবাই নাবালক । তাহার মেয়ে খোদেজা যখন মায়ের পেটে ছিল তখন তাহাদের বাবা চুনু মিয়া ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান । ছেলে আশরাফ (১২) মাটির কাজ করে, প্রতিদিন ২০০/৩০০ টাকা পেত তাই দিয়ে তাদের অভাবের সংসার চলতো, এখন করোনা ভাইরাসের কারণে কাজ নেই তাই অভুক্ত ।

সংবাদ প্রাপ্তির পর, আর দেরী নয়, যা ছিল আমার বাসায় ও থানার মেসে রান্না করা, ভাত, ডাল, সবজি, টেংরা মাছ, ০২ ( দুই) টি টিফিন ক্যারিয়ারে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে দূর্গম কেচু টিলার এলাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা । রাত অনুমান ১১ঃ৪০ মিঃ সময়ে আছমা বেগমের বাড়িতে হাজির। দরজা খোলা মাত্র পরিচয় দেবার পর এবং বাচ্চাদের ঘুম থেকে উঠার পর, আমার হাতে টিফিন ক্যারিয়ারে খাবার দেখে অভুক্ত সন্তানদের মুখের হাসি, চাকুরী জীবনের অনেক বড় প্রাপ্তি।

ধন্যবাদ মহান সৃষ্টিকর্তাকে যিনি আমাকে এই পেশায় এনেছিলেন । ধন্যবাদ সিলেট জেলার মাননীয় পুলিশ সুপার মহোদয়কে যিনি আমাকে কাজ করার জন্য এই কর্মক্ষেত্র নির্ধারণ করেছেন । ধন্যবাদ আমার সঙ্গীয়, এস.আই. রাজীব, এ.এস.আই. সিরাজ ও মাহফুজ কে যাহারা অদ্য রাত্রিতে আমার পথচলার সাথী হয়েছেন ।

উল্লেখ্য যে, যেহেতু রাত্রীতে দোকান বন্ধ ছিল তাই তাৎক্ষণিক ত্রাণের ব্যবস্থা করতে পারি নাই । আমার নিজ বেতনের টাকা থেকে নগদ ৫০০/-(পাঁচ শত) টাকা দিয়েছি আগামীকালের জন্যে”।

এছাড়াও তিনি সবাইকে এই দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, “প্রিয়, কোম্পানীগঞ্জ বাসী। আমাদের দূর্গম এলাকা কেচুটিলায় ১১৫ টি পরিবারের বসবাস এবং অধিকাংশ লোক এখানে গরীব। যাহারা ত্রান বিতরণ করছেন একটু দৃষ্টি দিন আমাদের দূরবর্তী প্রত্যন্ত অঞ্চলের হতদরিদ্র পরিবারের প্রতি”।

Sharing is caring!