যেদিন পলায়ন করবে স্ত্রী-সন্তান ও স্বজনরা

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত এপ্রিল ৫, ২০২০
যেদিন পলায়ন করবে স্ত্রী-সন্তান ও স্বজনরা

তৈয়ব উল্লাহ নাসিম

সময়টা এখন পরীক্ষার। সময়টা মানবিকতায় উত্তীর্ণ হবার। সময়টা এখন একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর। কথায় আছে “বিপদে বন্ধুর পরিচয়।” কিন্তু এখন এই কথাটা কে অন্যভাবে
বলতে হয়, বিপদে বন্ধু নয় শুধু স্বজনদেরও পরিচয়।

সাধারণত আমরা দেখে থাকি, মানুষ অসুস্থ হলে, কিংবা কারো মৃত্যু হলে, আর কেউ পাশে থাকুক না থাকুক, অন্তত কাছের স্বজনরা পাশে থাকে। কাছের স্বজন বলতে সাধারণত স্ত্রী পুত্র কন্যা ভাই বোন মাতা পিতা এদেরকেই বোঝানো হয়। তালিকায় এরপর বাকিরা আসেন।
অবাক করা ব্যাপার হল আজকের এই দুর্যোগ কালীন সময়ে, একটু দূরের আত্মীয় দূরে থাক, খুব কাছের স্বজনদেরকেও পাশে পাওয়া যাচ্ছে না। মৃত ব্যক্তি কে হাসপাতালে রেখে স্বজনরা পালিয়ে যাচ্ছেন। কিংবা এমনো দেখা যাচ্ছে তারা লাশ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন! এ যেন ঠিক কেয়ামত দিবসের সেই বিভীষিকাময় কঠিন সময়ের কথা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়। এই কঠিন দিনের বর্ণনা দিতে গিয়ে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
“সেদিন পলায়ন করবে মানুষ তার ভায়ের কাছ থেকে”
“তার মাতা, তার পিতা”
“তার পত্নী ও তার সন্তানদের কাছ থেকে”
“সেদিন প্রত্যেকেরই নিজের এক চিন্তা থাকবে, যা তাকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখবে”

[সূরা আবাসা, ৩৪-৩৭]

আজকের এই দুর্যোগ, এই মহামারী আমাদেরকে যেন কিয়ামতের পূর্বেই দুনিয়াতে সেই ভয়ানক দিবসের দৃশ্য গুলোর সাথে পরিচিত করে দিয়ে যাচ্ছে। যেদিন কোন সম্পদ সন্তান সন্ততি কিছুই কাজে আসবে না। কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে
“যে দিবসে ধন-সম্পদ ও সন্তান সন্ততি কোন উপকারে আসবে না।
[সূরা শুয়ারা-৮৮]

মুমিন হিসেবে কিয়ামত দিবসের সেই ভয়াল অবস্থার উপর আমরা অবশ্যই ঈমান রাখি। এরপরও বর্তমান পরিস্থিতিতে আল্লাহ তায়ালা দুনিয়াতেই আমাদের দেখিয়ে দিয়েছেন কিভাবে আমাদের স্বজনরা, সন্তানরা কোন কাজে আসছে না। না দুনিয়াতে না পরকালে। কাজে আসবে একমাত্র আমার নেক আমল এবং কল্যাণের কাজগুলো ও দান-সদকা। সুতরাং আমি আমার সম্পদ ইত্যাদি যারা আমার মৃত্যুর আগে কিংবা মৃত্যু মুহূর্তে ও এরপরে কাজে আসছে না এবং পরকালেও কাছে আসবে না ,তাদের জন্যই কেন সবকিছু রেখে যাবো!

আমার সম্পদেতো বঞ্চিত গরিব-দুঃখীদের ও অধিকার রয়েছে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন,” এবং যাদের ধন-সম্পদে নির্ধারিত হক আছে, ভিখারির ও বঞ্চিতের জন্য।”
[সূরা মাআরিজ ২৪,২৫]

তাই অবশ্যই আমাকে ভাবতে হবে আল্লাহর দেয়া এই ধনসম্পত্তি থেকে একমাত্র আল্লাহর জন্য অসহায়দেরকে দান করে, তাদের কষ্ট লাঘবে সহযোগী হয়ে, কিভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি, এবং পরকালীন মুক্তি পেতে পারি।

Sharing is caring!