যাকাত ও ফিতরা কাদের দেবো?

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মে ২২, ২০২০
যাকাত ও ফিতরা কাদের দেবো?

মুফতি ইয়াসিন বিন আহমাদ:
যাকাত এবং ফিতরার খাত সমুহ এক। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন “নিশ্চয় সদকা ফকির, মিসকিন, যাকাত আদায়কারী, যাদের চিত্তাকর্ষণ প্রয়োজন এবং দাস মুক্তির জন্য, ঋন গ্রস্তদের জন্য এবং মুসাফির দের জন্য৷ এই হলো আল্লাহ তায়ালার বিধান। (সুরা তাওবা-৬০)

মোট ৮ ধরনের ব্যক্তি কে যাকাত এবং ফিতরা দেওয়ার কথা কুরআনুল কারীমে বর্ণিত হয়েছে৷ যথা:
১/গরিব তথা যার সম্পদ রয়েছে কিন্তু ‘নেসাব’ পরিমাণ নাই।
২/মিসকিন তথা যার ধন সম্পদ একেবারেই নাই।
৩/ রাষ্ট্রীয় কোষাগারের জন্য শরিয়ত নির্দিষ্ট যাকাত আদায়কারী কর্মকর্তা। শর্ত হলো ইসলামী রাষ্ট্র প্রধান কর্তৃক নিযুক্ত হতে হবে৷
(সুত্র: জাওহিরুল ফিকাহ্ ৬/৬৯)
৪/নবমুসলিমকে ইসলামের প্রতি উৎসাহ ও মোহাব্বত বাড়ানোর জন্য যাকাত দেয়া যাবে। এ বিধান রহিত হয়ে গেছে।
(সুত্র: হিদায়া -১ /১৮৪, মাআরিফুল কুরআন ৪/১৭১, তাফসিরে মাযহারি ৪/২৩৫)
৫/ দাস মুক্তির জন্য। যেহেতু বর্তমানে দাস প্রথা নেই। তাই এ খাতটি বাকি নেই।
৬/ঋন গ্রস্থদের৷
৭/ ফি সাবিলিল্লাহ তথা আল্লাহর রাস্তায় থাকা ব্যক্তিদের। এখন প্রশ্ন হলোঃ কারা আল্লাহর রাস্তায় আছে?
ফুকাহায়ে কেরাম বলেছেন, জিহাদরত মুজাহিদরা। তাদের জিহাদের অস্ত্র ও পাথেয় ক্রয় করার জন্য যাকাতের টাকা গ্রহণ করা জায়েজ আছে। হজ্বের সফরে থাকা দরিদ্র ব্যক্তির জন্য। ইলমে দ্বীন অর্জন কারী দরিদ্র ব্যক্তির জন্য।
(সুত্র: দুররে মুখতার-৩৪৩, হিদায়া-১/১৮৫)
৮/সফররত ব্যক্তিদের কে যাকাত দেওয়া জায়েজ আছে। যার টাকা পয়সা আছে বাড়িতে, কিন্তু সফর অবস্থায় অসহায় হয়ে পড়েছে, তাকে যাকাতের টাকা দেওয়া জায়েজ আছে।
(সুত্র: দুররে মুখতার-১/৩৩৯)

Sharing is caring!