মে মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৯২ জনের মৃত্যু!

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত জুন ৫, ২০২০
মে মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৯২ জনের মৃত্যু!
  • আওয়ার বাংলাদেশ ডেস্ক

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে গত মে মাস জুরে সারাদেশে ছিল অঘোষিত লকডাউন। সাধারণ ছুটিতে বন্ধ ছিল গণপরিবহন। কিন্তু এর মধ্যেও সড়কে থেমে থাকেনি প্রাণহানির ঘটনা। এর আগের মাস এপ্রিলের চেয়ে বেশি প্রাণ ঝরেছে সড়কে।

মে মাসে সারাদেশে ২১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ২৯২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২৬১ জন। এরমধ্যে ৯৭টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ৮৯ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদন থেকে এসব জানা গেছে। দেশের ৭টি দৈনিক, ৫টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেক্টনিক গণমাধ্যমের তথ্যেরভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে সংস্থাটি।
পাঠানো ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে এককভাবে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। এতে ৯৭টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৮৯ জন, যা মোট নিহতের ৩৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৪৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

এতে আরও দেখা গেছে, দুর্ঘটনায় ৫৬ জন পথচারী নিহত হয়েছেন। যা মোট নিহতের ১৯ দশমিক ১৭ শতাংশ। পরিবহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ২১ জন। দুর্ঘটনায় ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষ নিহত হয়েছেন ১৯৬ জন। যা মোট দুর্ঘটনার ৬৭ দশমিক ১২ শতাংশ। এছাড়া ৯টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৩২ জন নিহত ও ১৭ জন নিখোঁজ হয়েছেন।

দুর্ঘটনায় ১৯ জন ট্রাক যাত্রী, ১২ জন পিকআপ যাত্রী, ৮ জন প্রাইভেটকার যাত্রী, ১১ জন সিএনজি যাত্রী, ৪ জন কাভার্ডভ্যান যাত্রী, ৩ জন মাইক্রোবাস যাত্রী, ৫ জন ট্রলি যাত্রী, ২১ জন অটোরিকশা যাত্রী এবং ৬৪ জন নসিমন-করিমন-ভটভটি-আলমসাধু-মাহিন্দ্র ও স্থানীয় যানবাহনের যাত্রী নিহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে মহাসড়কে ৮৯টি (৪১.৭৮%), আঞ্চলিক সড়কে ৮৩টি (৩৮ দশমিক ৯৬%) এবং গ্রামীণ সড়কে ৪১টি (১৯ দশমিক ২৪%)। সংঘটিত দুর্ঘটনার মধ্যে ৫২টি মুখোমুখি সংঘর্ষ (২৪ দশমিক ৪১%), ৬১টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে (২৮ দশমিক ৬৩%), ৮৪টি চাপা দেওয়া ও ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় (৩৯ দশমিক ৪৩%) এবং অন্যান্য কারণে ১৬টি (৭ দশমিক ৫১%) ঘটেছে।

দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ট্রাক ৩৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ, মোটরসাইকেল ৪৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ, পিকআপ ১০ দশমিক ৭৯ শতাংশ, কাভার্ডভ্যান-ট্রলি-ট্রাক্টর ১০ দশমিক ৩২ শতাংশ, কার-মাইক্রোবাস-জিপ ৬.১০ শতাংশ, ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা ১৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ, নসিমন-করিমন-ভটভটি ১১ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং অন্যান্য যানবাহন ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ দায়ী। এসব দুর্ঘটনায় আক্রান্ত যানবাহনের সংখ্যা ৩১১টি।

বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে রাজশাহী বিভাগে ৪৬টি দুর্ঘটনায় ৬৮ জন নিহত। সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে ১৭টি দুর্ঘটনায় নিহত ২৪ জন। একক জেলা হিসাবে ময়মনসিংহে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে ১২টি দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত। সবচেয়ে কম কুষ্টিয়ায় একটি দুর্ঘটনায় নিহত এক জন।

সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা কমিয়ে আনতে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন কিছু সুপারিশ করেছে। দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি, চালকের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্টকরণ, বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিবহনের মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের প্রতি ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করাসহ ৯ দফা সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাসের তুলনায় মে মাসে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ও প্রাণহানি উভয়ই বেড়েছে। এপ্রিল মাসে ১১৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩৮ জন নিহত ও ১১২ জন আহত হন।

Sharing is caring!