মেঘনার ভয়াবহ ভাঙ্গনে বিলিন হয়ে যাচ্ছে কমলনগর উপজেলা

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত জুলাই ৮, ২০২০
মেঘনার ভয়াবহ ভাঙ্গনে বিলিন হয়ে যাচ্ছে কমলনগর উপজেলা
  • নিজস্ব প্রতিবেদক

মেঘনার চলমান ভয়াবহ ভাঙ্গনে বিলিন হয়ে যাচ্ছে কমল নগর উপজেলা, দেখার কেউ নেই, এ যেন অভিভাবকহারা কমল নগর বাসী।

আজ ৮ জুলাই ২০২০ ইং রোজ বুধবার সকাল ৮ টায় মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গন থেকে কমলনগরের ভিটেমাটি রক্ষায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কমলনগর উপজেলা শাখার উদ্যোগে
প্রায় তিন শতাধিক নেতাকর্মী কালকিনি ইউনিয়নের নাছিরগঞ্জ এলাকায় জঙ্গলা বাঁধে সেচ্ছাশ্রমে অংশগ্রহণ করেন।

এতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী এ পর্যন্ত রামগতি-কমলনগরে বহু রথীমহারথীরা এসেছেন। কেউ এমপি হয়েছেন, কেউ মন্ত্রী হয়েছেন, কেউ জাতীয় পর্যায়ের নেতা, কেউ সচিব বা প্রশাসনের বিভিন্ন সেক্টরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে নিজেদেরকে অনেক উচ্চতায় নিয়েছেন। কিন্তু যে মাটি থেকে আপনি-আপনারা জন্মগ্রহণ করে আজ অনেক কিছু হয়েছেন,
ঐ মাটির জন্য আপনারা কি করেছেন? তা জাতি জানতে চায়।

আমরা দেখেছি, নির্বাচন আসলেই আপনারা এই নদী নিয়েই রাজনীতি শুরু করেন। আর কত রাজনীতি করবেন? রাজনীতি করতে করতে কমলনগরের সিংহভাগ আজ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
অচিরেই দেশের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে আমাদের এই প্রিয় জন্মস্হান কমলনগর উপজেলা।
এখনই কোন ব্যবস্হা না নিলে আগামী নির্বাচনে এই নদী নিয়ে যেই রাজনীতি করতে আসবে বা ভোট ভিক্ষা চাইতে আসবে তাদেরকে উচিত জবাব দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।

এক সময়ে জাতীয় নেতা আ স ম আব্দুর রব সাহেব, পরবর্তীতে সিএসপি আব্দুর রব চৌধুরী, এবিএম আশ্রাফ উদ্দীন নিজান, আব্দুল্লাহ আল মামুন এখন আবার মেজর মান্নান সাহেব।

আপনারা সবাই নদীভাঙ্গন রোধ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েই রামগতি-কমলনগরবাসীর কাছে ভোট ভিক্ষা চেয়েছেন। জনগন আপনাদেরকে বিশ্বাস করে ভোট ভিক্ষা দিয়েছিলো। কিন্তু আপনারা এই নদীভাঙ্গা অবহেলিত, নির্যাতিত ও নিপিড়ীত মানুষের সাথে বারবার প্রতারণা করেছেন।কোন নেতাই এই নদী ভাঙ্গনের ব্যাপারে স্হায়ী কোন পদক্ষেপ নেননি।

অতএব আপনারা ব্যর্থ। তবে সাবেক এমপি জনাব আব্দুল্লাহ আল মামুন সাহেব তার আমলে নদী নিয়ে কিছুটা চেষ্টা করে রামগতিতে সাড়ে তিন কিঃমিঃ এলাকার কাজ করলেও কমলনগরের জন্য তিনি কিছুই করেনি। এমনকি অপরাধ করলো কমলনগরবাসী মামুন সাহেবের সাথে তা আমরা জানতে চাই।
তবুও তাকে ধন্যবাদ। কিন্তু অন্যদের ভুমিকা নিয়ে আমরা খুবই মর্মাহত।

আমরা প্রথমে শুনলাম রামগতি-কমলনগরে নদী বাঁধের জন্য ১৩ শ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে।
পরে দেখলাম ১শ৯৮ কোটি টাকায় সাড়ে তিন কিঃমিঃ বাঁধের কাজ হলো। এখন শুনি ১৩ শ কোটি টাকার প্রকল্প নাকি বাতিল হলো, কী কারণে, কেন আমাদের এই প্রকল্প বাতিল হলো তা আমরা জানতে চাই।
গত মঙ্গগলবার একনেকের বৈঠকে মেঘনা নদীর বাঁধ নিয়ে কোন প্রকল্প না থাকায় আমরা বুঝে নিলাম বর্তমানে রামগতি কমলনগরের কোন অভিভাবকই নেই।

কোথায় আমাদের এমপি সাহেব? আপনি কি নদীর ভাঙ্গনের কথা ভুলে গেছেন? রাক্ষুসে মেঘনার ভয়াল থাবায় হতভাগা এ জনগন বারবার প্রতারিত হয়েছে। আর আমাদের তথাকথিত অভিভাবকরা রাজধানীতে
কেউ বা বিদেশে গিয়ে এসিরুমে বসে আছেন।নির্বাচনের সময় ভোট ভিক্ষা চাইতে আসলে হতভাগা এই জনগন আপনাদের কে উচিৎ জবাব দিবে ইনশাআল্লাহ।

আমরা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহতারাম আমীর, এদেশের শান্তিকামি-মুক্তিকামী ও স্বাধীনতাকামী গণমানুষের প্রানপ্রিয় নেতা, পীর সাহেব চরমোনাই এর পক্ষ থেকে রামগতি কমলনগরের বর্তমান ও সাবেক সকল নেতৃবৃন্দকে অনুরোধ করবো, এখনো সময় আছে জনগনের কাতারে এসে এই নদী ভাঙ্গন নিয়ে কিছু একটা করুন।

প্রয়োজনে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তুলে হরতাল অবরোধের মত কর্মসূচি দিয়ে সারা দেশ থেকে লক্ষ্মীপুর রামগতি কমলনগরকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে হবে, তখনই সরকার বাহাদুরের নজরে পড়বে।
অতীতে বিক্ষিপ্ত কিছু কর্মসূচি পালন হলেও কোন কাজ হতে দেখিনি।

তাই সর্বদলীয় কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।আমরা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পীর সাহেব চরমোনাই পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগীতা করবো, ইনশাআল্লাহ।

আজ কমলনগর উপজেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রায় তিন শতাধিক নেতাকর্মী নাছির গন্জ এলাকায় সেচ্ছাশ্রমে জঙ্গলা বাঁধে অংশ গ্রহন করেন। এ সময় নেতৃত্ব দিয়েছেন ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক
(কুমিল্লা সাংগঠনিক বিভাগ) ও লক্ষ্মীপুর ৪ রামগতি-কমলনগর আসনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতী শরীফুল ইসলাম।
লক্ষ্মীপুর জেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা আ,হ,ম নোমান সিরাজী।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ইসলামি যুব আন্দোলন লক্ষীপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোখলেছুর রহমান, ইশা,ছাত্র আন্দোলন লক্ষীপুর জেলা প্রশিক্ষণ সম্পাদক মোফাচ্ছেল খাঁন, ইসলামী আন্দোলন কমলনগর উপজেলা সভাপতি শরিফুল ইসলাম বাশার, সেক্রেটারি মোসলেহ উদ্দিন, বামুক সভাপতি হাজ্বী নূর মোহাম্মদ , সেক্রেটারী মাওলানা জহিরুল ইসলাম ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন উপজেলা সভাপতি মাওলানা নাজিরুল ইসলাম ইশা ছাত্র আন্দোলন উপজেলা সভাপতি হোসাইন আহমাদ সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফারুকসহ অসংখ্য নেতাকর্মী।

এছাড়া স্হানীয় উদ্যোক্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জনাব আবুল কাসেম হাওলাদার, ডাঃ জসিম উদ্দিন, ডাঃ আবু তৈয়ুব সবুজ সহ আরো অসংখ্য স্হানীয় নেতৃবৃন্দ।

Sharing is caring!