মুন্সিগঞ্জে পুলিশের সাথে জেলেদের সংঘর্ষ, ৪ পুলিশসহ আহত ১০

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত অক্টোবর ২২, ২০২১
মুন্সিগঞ্জে পুলিশের সাথে জেলেদের সংঘর্ষ, ৪ পুলিশসহ আহত ১০

আওয়ার বাংলাদেশ ডেস্ক: মুন্সিগঞ্জে পুলিশের সাথে জেলেদের সংঘর্ষে ৪ পুলিশসহ আহত ১০ জন আহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০ টার দিকে সদর উপজেলার চরাঞ্চলের চরকেওয়ার ইউনিয়নের চরঝাপটার মেঘনা নদী পড়ে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় গজারিয়া নৌ-পুলিশ ফাড়ি ইনচার্জ এসআই আবদুস সালাম (৪৫), এ এস আই ফয়সাল কবির (৩৬) মো. শাহআলম (৩৬), কবির হোসেন (৪০), পুলিশ সদস্য কবির হোসেন (৪০) ও জেলে হারেস আলীসহ কমক্ষে ১০ জন আহত হয়। আহত ৪ পুলিশ সদস্যের মধ্যে কনস্টেবল কবির হোসেন ও জেলে হারেস আলী বেপারীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে প্রেরণ করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শিরা জানান, চরঝাপটা এলাকায়ে মেঘনা নদীতে জেলেরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকার করছিল। পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের সাথে জেলেদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। জেলেরা পুলিশের উপর হামলা চালায়। পুলিশও তাদের লক্ষ করে গুলি ছোড়ে। এতে উভয় পক্ষের অনেকেই আহত হয়। পুলিশের মামলার ভয়ে জেলেরা লুকিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা গজারিয়া নৌপুলিশ ফাড়ির সহকারি উপ পরিদর্শক (এএসআই) রুবেল মোল্লা বলেন, ইলিশ রক্ষা অভিযানের নিয়মিত টহল হিসেবে মেঘনা নদীতে ভোর চারটা থেকে অভিযান শুরু করি। সকাল সাড়ে আটটার দিকে মেঘনা নদী এলাকার চর ঝাপটায় গিয়ে নদী থেকে জাল তুলছিলাম। সে সময় জেলেদের রোষানলে পড়ি।

এক পর্যায়ে ঝাপটা গ্রামের দুই থেকে আড়াই শতাধিক জেলে, নারী-পুরুষ আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমরা আত্মরক্ষার জন্য ৪০ রাউন্ড গুলি ছুড়ি। তাদের হাতে দা, বটি, লাঠি ছিল। আমরা জীবন বাঁচাতে পানিতে লাফিয়ে পড়ি।সেখানে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের চার জন সদস্য আহত হয়। তাদের লোকজনও আহত হতে পারে।

মুন্সিগঞ্জ জেনারেনারেল হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. সোহাগ হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার দিকে আমাদের এখানে চারজন পুলিশ সদস্য চিকিৎসা নিয়েছেন। তার মধ্যে পুলিশের এক সদস্য অবস্থা গুরুতর। তার মাথায় বিভিন্ন স্থানে জখম রয়েছে। নাক মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ছাড়াও এক ব্যক্তি শরীর বুকে ক্ষত নিয়ে‌ সম্ভবত ছড়াগুলি অবস্থায় চিকিৎসা নিয়েছেন।

মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুবক্কর সিদ্দিক জানান, বিষযটি নৌ পুলিশের। এ ঘটনায় এখনো কোন অভিযোগ হয়নি। আমরা সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর রাখছি। অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাউখাঁ/আবা২৪

Sharing is caring!