মুক্তিযোদ্ধার কোটি টাকার জমি দখলের অভিযোগ

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মে ১৬, ২০২০
মুক্তিযোদ্ধার কোটি টাকার জমি দখলের অভিযোগ

মোঃ ইসমাইল (বিশেষ প্রতিনিধ):
ভুয়া বায়নাপত্র বানিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে ভোলার এক মুক্তিযোদ্ধার প্রায় দেড় কোটি টাকার পৈত্রিক সম্পত্তি দখল করে বহুতল ভবন নির্মানের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। উক্ত জমির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি থাকলেও তা উপেক্ষা করে দখলকারীরা ভবন নির্মানের কাজ করে যাচ্ছে চরফ্যাশন পৌরসভার অফিস সহকারি ফখরুদ্দিন ভুট্টো, চরফ্যাশন পৌরসভা ১নং ওয়ার্ডের খলিলুর রহমান বাবুল, একই এলাকার বাসিন্দা ও সোনালী ব্যাংক গজারিয়া শাখায় কর্মরত জহুরুল ইসলাম এবং চরফ্যাশন পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগের সার্ভেয়ার হযরত আলী।

আজ (শুক্রবার) দুপুরে শহরের একটি পত্রিকা অফিসে সংবাদ সম্মেলনে এসকল অভিযোগ করেন মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মোঃ কেফায়েত উল্লাহ নজিব।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার পৈত্রিক সম্পত্তি চরফ্যাশন পৌরসভার কুলসুমবাগ মৌজার ১৮২ এস.এ খতিয়ান, ২৪০ ও ৯৭৪ হাল খতিয়ানের ৭৩৮৬, ৭৩৮৭,৭৩৮৮ নং দাগের ৭৭ শতাংশ জমি। যার বাজার মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। সেই জমি দখলকারীরা জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া বায়নাপত্র বানিয়ে জমি দখল করেছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারকে অবহিত করলে তাদের পারামর্শে আদালতে মামলা দায়ের করি।

উক্ত মামলার রায়ে আদালত গত ১১ মার্চ ২০২০ইং তারিখে উক্ত জমির উপর ১৪৫/১৪৪ ধারায় স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তথাপিও অবৈধ দখলকারীরা স্থানীয় প্রভাব ও একটি দলের প্রভাব খাটিয়ে ওই জমি দখল অব্যাহত রাখে এবং আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে।

বিষয়টি নিয়ে এর আগে চরফ্যাশন পৌরসভায় আমরা একটি অভিযোগ দাখিল করি। কিন্তু আমাদের অভিযোগের কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে পৌরসভার মেয়র ও পৌর ইঞ্জিনিয়ার উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে ২৭/০৪/২০১৬ইং তারিখে একটি নোটিশ প্রদান করে। ইহাতে আমার সামাজিক মর্যাদাহানী, জীবনের প্রতি হুমকি ও অপরাধীদের অনুপ্রানিত করে বলে মনে করি।

এ অবস্থায়ই পৌর ইঞ্জিনিয়ার ও মেয়র অবৈধ প্লান পাশসহ অন্যান্ন কাজ অব্যাত রাখে। এমতাবস্থায় আমি বিগত ১৪/০৪/২০১৯ইং তারিখে ভোলা জেলার পুলিশ সুপারকে আবেদনের মাধ্যমে অবহিত করি।

পুলিশ সুপার গোয়েন্দা শাখার মাধ্যমে তদন্ত করেন। তদন্তে দখলকারীরা দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ১৯/০৬/২০১৯ইং তারিখে আমাকে মামলা করার উপদেশ দেন। পরে আমি লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে জেলা প্রশাসককে অবহিত করি।

এর আলোকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে দখলকারীদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার সুপারিশ করেন। যার আলোকে আমার ভাই মোঃ আশফাক উল্যাহ বাদী হয়ে গত ১০/০৩/২০২০ইং তারিখে চরফ্যাশন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলা দায়ের করেন। যার নং এমবি ৬৮/২০২০।

আদালতে প্রবীণ এ মুক্তিযোদ্ধা বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়ে বর্তমানে প্রাণনাশের ভয় নিয়ে আমাকে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। কারণ দখলকারীরা স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়ায়, তারা আদালতের কোনো নির্দেশনা মানছে না। এ বিষয়ে আমি চরফ্যাশন উপজেলার নির্বাহী অফিসারকে জানালেও তিনি কোনো সামধান দিতে পারেন নি।

আমি ভোলা জেলার একজন মুক্তিযোদ্ধা ও একটি দলের জেলার সভাপতি হওয়া সত্বেও আমার জমি অবৈধভাবে দখলসহ আমাকে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে জমি দখলকারীরা।

আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার পৈত্রিক সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মোঃ মামুনুর রশিদ ও কামাল হোসেন।

Sharing is caring!