মিসকলে প্রেম, অবশেষে সব হারালো হতভাগা কিশোরী

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২০
মিসকলে প্রেম, অবশেষে সব হারালো হতভাগা কিশোরী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানার অষ্টম শ্রেণির এক কিশোরী মোবাইলে মিসকলের সূত্রে প্রেমে পড়ে বগুড়ার এক লম্পটের। এরপর প্রেমিকের সাথে দেখা করতে এসে জীবনের মূল্যবান সম্পদ হারাতে হয় তাকে। ধর্ষিত এই কিশোরী এখন বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন। আর চতুর লম্পট প্রেমিক সদর উপজেলার বাঘোপাড়ার মাফিদুল ইসলাম স্বপনকে অনেক চেষ্টার পর গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

হতভাগ্য কিশোরী মেয়েটি ঠিকমত কথা বলতে পারে না এবং চোখেও কম দেখে। জানায়, বেশ কয়েক মাস কথার্বাতা হওয়ার প্রেক্ষিতে সে সেই লম্পটের প্রতি বেশ দূর্বল হয়ে যায়। ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসের সন্ধ্যায় একটু বেশিই কথা হয় তাদের মধ্যে। টিনেজ মেয়েটির ব্রেনের চেয়ে আবেগ বেশি কাজ করে। পরের দিন ১৫ ফেব্রুয়ারি ছেলেটার সাথে দেখা করার জন্য উতলা হয়ে স্কুলের নাম করে গাজীপুর থেকে বগুড়ার গাড়িতে চেপে বসে। কিন্তু ভুল করে আসার সময় সে তার মায়ের ফোন যেটা দিয়ে সে কথা বলত সেটা ফেলে রেখে আসে। বগুড়া এসে মেয়েটি পাশের যাত্রীর ফোন থেকে তার কথিত প্রেমিক শুভ’র (২৫) সাথে যোগাযোগ করে। তারা শহরের মাটিডালি মোড়ে দেখা করে। এরপর থেকেই তার জীবনের কালো অধ্যায় শুরু। শুভ প্রেমিক সেজে মেয়েটার সাথে কিছুক্ষণ ঘুরাঘুরি করে। তাকে বেড়ানোর কথা বলে বগুড়ার মহাস্থানগড় নিয়ে যায়। এভাবে সন্ধ্যা লেগে যায়। সন্ধ্যার পর সে মেয়েটিকে নিয়ে যায় বগুড়া সদরের গোকুল এলাকার তার বাড়ির পাশের জঙ্গলের ভেতরে। সেখানে সে মেয়েটিকে জোরর্পূবক ধর্ষণ করে। রক্তাক্ত মেয়েটিকে নিয়ে সে অন্ধকারে কিছুক্ষণ জঙ্গলের ভেতরে ঘুরাঘুরি করে। কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় কথিত শুভ। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবস্থা বুঝতে পেরে তাকে সরকারি হাসপাতালে যেতে বললে লম্পট শুভ মেয়েটিকে নিয়ে বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের মাটিডালি মোড়ে রেখে পালিয়ে যায়। তখন রাত গভীর হয়ে গেছে।

মাটিডালি মোড়ের লোকজন রক্তাক্ত মেয়েটিকে দেখে থানায় জানালে পুলিশ গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এরপর মামলা করে তাকে শজিমেকে হাসপাতালের ভর্তি করে।

এরপর শুরু হয় পুলিশের অসাধ্য সাধনের কাজ। কারণ হাবাগোবা মেয়েটির বর্ণনা পরিষ্কার ছিলো না। প্রেমিক শুভর নামটিও ছিলো ছদ্মনাম। আর রাতে তাকে যে স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে সেই স্থানটিও মেয়েটি চিনতে পারছিলো না। মামলা রেকর্ড হবার পর তদন্তের দায়িত্ব পরে ফুলবাড়ি ফাঁড়ির এসআই শহীদুল ইসলামের ওপর। তবে ফুলবাড়ি ফাড়ির ইন্সপেক্টর সফিকুল, সদর থানার ওসি বদিউজ্জামানসহ একাধিক টিম ঘটনাটি নিয়ে কাজ করতে থাকে। মেয়েটি পুলিশের সাথে ঠিকমতো কথাও বলতে পারে না, জায়গার ব্যাপারেও সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারে না। পুলিশের কাছে ভরসা বলতে ছিলো লম্পট ছেলেটির ফোন নম্বর। কিন্তু ঘটনার পর থেকে সেটাও ছিলো বন্ধ। মেয়েটির কাছে ছেলেটা তার নাম বলেছিল শুভ। কিন্তু মোবাইল ফোনের রেজিস্ট্রেশনে শুভ নামে কেউ ছিলো না।

পরে অনেক কৌশল (সঙ্গত কারণে বর্ণনা করা হলো না) ব্যবহার করে কথিত শুভকে ধরা হয়। জানা যায়, তার নাম শুভ নয়। আসল নাম মাফিউল ইসলাম স্বপন (২৫)। পিতা জহুরুল ইসলাম। তার বাড়ি সদর উপজেলার বাঘোপাড়া, সুলতানপাড়ায়। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হবার পর স্বপন পেশাদার আসামিদের মতো ঘটনা অস্বীকার করে। কারণ অন্যের নামে রেজিস্ট্রেশন করা সিম ব্যবহার করে সে এই কুকর্ম করেছিল। পরে ব্যাপক জিজ্ঞাসবাদে সে পুলিশের কাছে সমস্ত ঘটনা স্বীকার করে। পরে সে ঘটনার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, একটা হাবাগোবা কিশোরীর সর্বনাশের মূল হোতাকে ধরতে পেরে কিছুটা ভালো লাগছে। মেয়েটি এখন চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা আগের চেয়ে ভালো। আরো কিছুটা সুস্থ হলে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

Sharing is caring!