মিডিয়া আনসারী সাহেবের “মুফাসসির” পরিচয় কেন পিছনে রাখল?

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত এপ্রিল ২১, ২০২০
মিডিয়া আনসারী সাহেবের “মুফাসসির” পরিচয় কেন পিছনে রাখল?

ইয়াসিন আব্দুল্লাহ

একজন মানুষের একাধিক পরিচয় থাকবে। থাকাটাই স্বাভাবিক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একদিকে যেমন রাষ্ট্রপ্রধান অন্যদিকে তিনি একজন মা। তিনি একজন বড়বোন। তিনি একজন কন্যা। ১৫ই আগষ্ট যখন তার চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরে সে অশ্রু কোন রাষ্ট্রপ্রধানের অশ্রু নয়। সে অশ্রু বাবা-মা হারা এক সন্তানের অশ্রু। ভাই-বোন হারা এক বোনের অশ্রু।
মাওলানা যুবায়ের আহমদ আনসারী রহঃ এর পরিচয়ও হয়তো একাধিক ছিল। তিনি মুফাসসির ছিলেন। ছিলেন একটি ইসলামী সংগঠনের নায়েবে আমির। তবে মানুষ তাঁকে একজন মুফাসসির হিসেবেই চিনতো। লোকেরা একজন “মুফাসসির যুবায়ের আহমদ আনসারীর” জানাযায় এসেছিল। কোন দলের নায়েবে আমিরের জানাযায় নয়। সত্যি কথা বলতে তিনি যে কোনো দলের নায়েবে আমির ছিলেন সেটা আমি জেনেছি তাঁর মৃত্যুর পর। সংবাদকর্মীদের বদৌলতে। তার জানাযায় উপস্থিত হওয়া নব্বই ভাগের অবস্থাও হয়তো আমার চেয়ে ভিন্ন নয়।
এখন প্রশ্ন হলো মিডিয়া কেন বারবার তাঁকে একজন দলের নেতা হিসেবে উপস্থাপন করছে। কেন বলা হচ্ছে একটি ইসলামী সংগঠনের নায়েবে আমিরের জানাযায় লাখো মানুষের ঢল।
তাঁর মুফাসসির পরিচয়কে কেন পেছনে রাখা হচ্ছে। কারনটা হয়তো বিজ্ঞজনেরা ভালো বলতে পারবেন।
আমার অপরিপক্ক জ্ঞানে যা বুঝতে পারছি তা হচ্ছে, একজন মুফাসসিরের জানাযায় লাখো জনতা হোক বা কোটি সরকার সে বিষয়ে তেমন কোন রিয়েকশন দেখাবে না। কারণ কোন মুফাসসিরের লাখোকোটি ভক্ত থাকা সরকারের জন্য কোন অ্যালার্ম না। তবে তিনি যদি হন কোন রাজনৈতিক নেতা তাহলে ভিন্ন কথা। সরকারকে এ নিয়ে ভাবতে হয়। নিকট অতীতে একজন মুফাসসিরের ক্ষেত্রেও ঠিক একই ঘটনা ঘটেছে। মিডিয়ার টার্গেট ইসলাম দমন আর সরকারের দৃষ্টিতে রাজনৈতিক দল। তাই রাজনৈতিক নেতা বলে মিডিয়া নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টায় মত্ত। সে যুগের আবু জাহেলরা এ যুগে মিডিয়া রূপে আত্মপ্রকাশ করেছে।
তবে ইসলাম সে যুগেও ছিল এ যুগেও আছে। থাকবে আগামীতেও ইনশাআল্লাহ। থাকে নি আবু জাহেলেরা এবং থাকবে না এই ইসলাম বিদ্বেষী মিডিয়াও, ইনশাআল্লাহ।

Sharing is caring!