মালিবাগ হত্যাকান্ড প্রশ্নে সত্যকথনঃ শামশুদ্দোহা তালুকদার

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত আগস্ট ১৭, ২০২০
মালিবাগ হত্যাকান্ড প্রশ্নে সত্যকথনঃ শামশুদ্দোহা তালুকদার

আলমগীর ইসলামাবাদী

(বিশেষ প্রতিনিধি)

সম্প্রতি ২০০২ সালে মালিবাগ হত্যাকান্ডের আদ্যপান্ত নিয়ে একটি লাইভ হয়েছে পাবলিক ভয়েস টুয়েন্টিফোর পোর্টালে।

সেখানে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন মুহতারাম সাইমুম সাদী ভাই, যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা নেছার উদ্দিন ভাই, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইয়ুম ভাই ও কলরবের ইমতিয়াজ মাসরুর ভাই। আর সঞ্চালক ছিলেন নির্বাহী সম্পাদক মাওলানা হাছিব আর রহমান।

ঐ লাইভে নেছার উদ্দীন ভাই কয়েকটি কঠিন সত্য উচ্চারণ করেছেন। যা কতক ভাইদের গাত্রদাহের কারণ। তারা ফেসবুকে বিচ্ছিন্নভাবে গালাগাল দিয়ে যাচ্ছেন। তাতে সত্যটি মিথ্যা হয়ে যায়না বোকারা!

কিন্তু তাদের থেকে আমরা নেছার উদ্দীন ভাইর দৃষ্টি আকর্ষণি বক্তব্যের জবাবে ফয়সালামূলক তথ্য পাচ্ছিনা। আসলে তাঁর প্রশ্নের‌ জবাব দেয়ার মুরোদ তাদের নাই।

আসুন তৎকালীন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের একজন দায়িত্বশীল সেলিম ই আহমেদের স্টাটাসের অংশবিশেষ পড়ি।
“২০০২ সালের ১৫ই আগস্ট হত্যাকান্ডে চার শহীদের জানাজা পড়তে দেয়া হয়নি জাতিকে…!
-কঠোর নিরাপত্তায় প্রত্যেকের
গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয় তাদের মরদেহ…!!!
-হ্যাঁ আমার চোখে আজও ভেসে উঠে সেই দৃশ্য -!!

চারদলীয় জোট নেতা ‘মুফতি আমিনী’ সাহেব, মালিবাগ মাদ্রাসা চত্বরে যখন ঘোষনা দিলেন, শহীদগনের জানাজা ঢাকায় হবে না.!
তখন মুসল্লিরা সমস্বরে চিৎকার করতে শুরু করলে, মুফতি আমিনী মাইক হাতে নিয়ে বললেন ‘খামুশ’ —! ঠিক তখন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের নেতা ‘ভোলার আব্দুল মান্নান’ -চুপ দালাল…! বলে তেড়ে এসেছিলো….!!!

আজ শহীদি মসজিদ আছে, নেই মির্জা আব্বাসের তাক্বাত, নেই মুফতি আমীনী, নেই তদানীন্তন জোট সরকার। সরকারী দলের পান্ডাদের হাতে মসজিদ দখলের প্রতিবাদ করায় গুলিবিদ্ধ হয়ে হতভাগ্য শহীদ ভাইয়েরাঃ
-আবুল বাসার।
-রেজাউল করিম ঢালী
-ইয়াহইয়া
-জয়নাল আবেদীন।”

তখন চারদলীয় জোট সরকারের শরীক নেতা মুফতী আমিনী রঃ ও অন্যান্য নেতাদের ভূমিকা ছিল অস্বচ্ছ। তিনি ঢাকায় শাহাদাতকারীদের আনুষ্ঠানিক জানাজা করতে অনীহা প্রকাশ করেছেন, এটা তো প্রমাণিত। এর জবাব বর্তমান ফেসবুকে ট্রলবাজদের জানা নাই। যদিও তাঁর পক্ষে খিস্তিখেউড় করবে!

ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের অন্ততঃ দু’জন সক্রিয় কর্মী শাহাদাত বরণ করেছেন। কবরের নামফলকেও ইশা কর্মী লেখা আছে এখনো।

তাদের পিতা ও অভিভাবকরা ঢাকায় ইসলামী আন্দোলনের বিভিন্ন প্রোগ্রামে হাজির হয়ে কথা বলেছেন। আজো শহীদদের পরিবারের সাথে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দায়িত্বশীলরা যোগাযোগ রেখে চলছেন। প্রতিবছর স্থানীয়ভাবে কবর জিয়ারত ওদোয়ার আয়োজন করেন এবং পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন। ঐতিহাসিক মালিবাগ বাইতুল আজীম শহীদি জামে মসজিদে এ বছরের ১৫ই আগষ্টেও শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা এবং দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। তাঁরা তো এমন কর্মসূচিতে নেই।

তাদের পক্ষে ইসলামী আন্দোলন তথা নেছার ভাইরা কথা বলবেন না তো কে বলবে?

মালিবাগে খুব ভোরে জানাজা হয়েছে মানলাম, সেটা কি প্রত্যাশিত মানের হয়েছিলো? দাবী অনুযায়ী বায়তুল মোকাররম তথা উন্মুক্ত কোন বিশাল চত্বরে তাদের জানাজা কারা করতে দেয়নি, সেটা তো জাতি জানে। তাদের পক্ষে কথা বলা মিথ্যাচার ছাড়া আর কি? দলবাজ হলেই কি সত্যকে মিথ্যায় রূপান্তরিত করতে হবে?

ঐ সময়ের ক্ষমতার মিস্টি দধি খাওয়া আলেম নেতারা সরকারের নুনখাওয়া তাবেদারের ভূমিকায় ছিলো, এটা নেছার ভাই উচ্চারণ করেছেন। তারা শহীদদের রক্ত মাড়িয়ে মন্ত্রী হবার বিলাসিতায় মগ্ন ছিলেন। এটা কি সঠিক নয়?

তাঁরা সরকারের থেকে শহীদদের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়ের কোন উদ্যোগ নিয়েছিলেন কি? নেন নাই। ম্যাডাম রুষ্ট হতে পারেন। মন্ত্রীত্বের মোয়া হারানোর আশঙ্কায় তারা দালালীর ভূমিকা পালন করেছে। এটা কি অসত্য?

সংসদে তো নেছার ভাই বা তাঁর দল ছিলোনা। যারা ছিলেন তারা তো শহীদদের সম্মাণে একটি শোক প্রস্তাবও উত্থাপনও করেননি। ম্যাডাম মাইন্ড করতে পারেন, সে সম্ভাবনায় শাহাদাতকারীদের সাথে গাদ্দারি করতে পিছ পা হননি তদানিন্তন জোটের শরীক ইসলামী রাজনৈতিক দলের আলেম নেতারা। এটাকেও কি মিথ্যা বলবেন?

যে কোন অস্বাভাবিক ‌হত্যা পরবর্তীতে একটাই করণীয় থাকে, উপযুক্ত বিচার করা। তাঁরা তো তখন সরকারের অংশ ছিলো। তাঁরা কি উপযুক্ত বিচার চেয়েছিলেন সরকারের কাছে? আজও বিচার হয়নি। চার চারটি মার্ডারকে হজমকারীদের সাথে জোটের আলেম নেতারাও সংযুক্ত ছিলেন- এ অভিযোগ করলে সেখানে ভুল কোথায়?

নেছার ভাই এমন ধ্রুব সত্য উচ্চারণ করেছেন। সত্য তো সত্যই। কালপ্রিটদের কাছে সেটা ‘বিষ’ মনে হবেই। তাই ইনিয়ে বিনিয়ে দোষারোপ করবে, সে স্বভাবটাতো তাদের মজ্জাগত। আর কত ধামাচাপা দিবেন ওহে স্বার্থবাদীরা?

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনীতি স্বচ্ছ পানির ন্যায়। সরকারের সাথে আঁতাত করে ইসলামকে বিসর্জন দেয়না। ইসলামের মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা ও দেশের জনগনের কল্যানে জীবন বাজি রেখে কাজ করে, এটা এমন একটি কাফেলা।

এমন একটি মহতি কাফেলাকে মুষ্টিমেয় লেবাসধারী পেশাদার ট্রলবাজ দ্বারা বিতর্কিত করার প্রচেষ্টা করা যাবে, কিন্তু কখনো সফল হবে না ইনশাআল্লাহ।

Sharing is caring!