মাদ্রাসাগুলোর সংকট সমাধানে সবাইকে আন্তরিক ও ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত নিতে হবে

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মে ২৯, ২০২০
মাদ্রাসাগুলোর সংকট সমাধানে সবাইকে আন্তরিক ও ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত নিতে হবে

মিজান ইহসানী, বিশেষ প্রতিনিধি:
করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সরকারি নির্দেশ মোতাবেক গত মার্চের মাঝপথে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মত মাদ্রাসাও বন্ধ ঘোষণা করা হয়, কিন্তু তখন ছিল পরীক্ষা পূর্ব মুহূর্ত। যার দরুন পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয়নি।

বিদায়ী শিক্ষাবর্ষে শুধু দাওরায়ে হাদিসের আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়ার পরীক্ষার্থী ছিল 28 হাজার। এরপর থেকে টানা তিন মাস মাদ্রাসাগুলো বন্ধ।

গত 10-15 বছরে যারা অজস্র চেষ্টা করে তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন প্রাইভেট মাদ্রাসা, তাদের এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার উপক্রম। বকেয়া পড়ে আছে তিন মাসের বাড়িভাড়া, শিক্ষকদের বেতনসহ সব খরচ।

কওমি মাদ্রাসার স্বকিয়তা ও ঐতিহ্য অনুযায়ী সরকারি ন্যূনতম সাহায্য গ্রহনে তারা নারাজ। বেসরকারি তথ্যমতে, বাংলাদেশের প্রায় 20 হাজার মাদ্রাসায় 22 লক্ষ ছাত্র ও হাজার হাজার উস্তাদ রয়েছে। সবার শিক্ষাজীবন বিপদের মুখে৷

উল্লেখ্য, কওমি মাদ্রাসা চলে জনগনের স্বতস্ফুর্ত সাহায্য, অনুদানে। মাদ্রাসাগুলোতে অনুদান বেশি আসে রমজান মাসে। এবার মানুষের আর্থিক অবস্থা ভাল না থাকায় রমজানে কালেকশ ভালো হয় নাই মাদ্রাসাগুলোর। বেশি ক্ষতির সম্মুখীন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলো। অসংখ্য তরুণ আলিমদের কর্মসংস্থান এসব মাদ্রাসাগুলো এখন নানান আর্থিক সমস্যায় হুমকির মুখে পড়েছে৷

এ বিষয়ে আওয়ার বাংলাদেশ টোয়েনিটিফোর ডটকমকে মাদরাসাতুল ইহসানের পরিচালক মাওলানা মনিরুজ্জামান জানান, মাদ্রাসা বন্ধ থাকায় কল্পনাতীত ক্ষতি হয়েছে। এ সংকট হতে উত্তরনের জন্য ছাত্র, অভিভাবক, দীনদার জনতা, সবাইকে এগিয়ে আসা দরকার। তাহলেই ক্ষতি পুরন করা সম্ভব।

অন্যদিকে দাওরায়ে হাদিসের বার্ষিক পরীক্ষা না হওয়ায় চরম বিপাকে আছেন তরুন আলেমরা। বর্তমান পরিস্থিতিতে ফারেগিন আলেমদের প্রতি হালাল ব্যবসা বা কাজে যোগ দেওয়ার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান।

নতুন শিক্ষাবর্ষে নবধারায় লেখাপড়া শুরু হয়। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ভর্তির সময় কিছু টাকা ফী বাবদ পায়, কিন্তু এখন তাতেও কিছুটা প্রভাব পড়বে৷ সংকট দেখা দিবে নতুন বছরের শিক্ষা কার্যক্রমের শুরুতে ও শেষে৷

সবশেষে কথা একটাই, করোনা সংকট একটি বৈশ্বিক সমস্যা৷ এ সমস্যার সমাধানে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে৷ সরকার, দীনদার জনগন, বিত্তশালী ও সমাজসেবকগন মাদরাসাগুলোর সংকট সমাধানেরও চিন্তা করতে হবে৷

Sharing is caring!