মসজিদ সংশ্লিষ্টদের সহায়তায় এগিয়ে আসুন

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত এপ্রিল ৯, ২০২০
মসজিদ সংশ্লিষ্টদের সহায়তায় এগিয়ে আসুন

মুফতি মুহাম্মদ উল্লাহ রিজওয়ান    

মসজিদ আল্লাহ তায়ালার পবিত্র ঘর এবং মুসলমানদের ইবাদত-বন্দেগী থেকে শুরু করে শিক্ষা-দীক্ষা, দ্বীন প্রচার-প্রসার ও দ্বীনি জ্ঞানচর্চার পবিত্র স্থান।
তাই মুসলমানদের প্রাণের সম্পর্ক মসজিদের সাথে,মসজিদকে তারা ভালোবাসে এবং অন্তর দিয়ে শ্রদ্ধা ও সম্মান করে ।
স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা মসজিদের সম্মান ও গুরুত্ব বুঝানোর জন্য পবিত্র কোরআনের প্রায় আঠাশ জায়গায় মসজিদের আলোচনা করেছেন। এবং এর সম্মানার্থে মসজিদকে নিজের দিকে সম্বোধন করেছেন। যেমন….
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন: আর মসজিদ সমূহ আল্লাহ তায়ালার জন্য খাস। অতএব তাঁর সঙ্গে আর কাউকে ডেকো না। (সূরা জ্বিন-১৮)

এবং মুসলমান প্রতিনিয়ত ৫ ওয়াক্ত ফরজ সুন্নত নফল নামাজ আদায় করার মাধ্যমে এবং জিকির আজকার ও কোরআন তেলাওয়াত করাসহ অন্যান্য এবাদত বন্দেগীর মাধ্যমে মসজিদকে সব সময় আবাদ রাখেন। যা আল্লাহ ও তার রাসুল(সাঃ) নিকট পছন্দীয়। যেমন..

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন: নি:সন্দেহে তারাইতো আল্লাহর মসজিদ আবাদ করবে, যারা ঈমান আনে আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি এবং সালাত কায়েম করে, জাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকেই ভয় করে না। অতএব আশা করা যায়, তারা সৎপথপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। ( সুরা তাওবা : ১৮)
এবং রাসুল (সাঃ) ইরশাদ করেন: যে ব্যক্তি সকাল বিকাল মসজিদে গমনাগমন করবে, প্রত্যেকবার যাতায়াতের বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জান্নাতে বিশেষ মেহমানদারির ব্যবস্থা করবেন।

* মসজিদ আবাদের এতো গুরুত্ব ও ফজীলত থাকা সত্যেও বর্তমান করোনা ভাইরাসের কারনে মসজিদে হারাম মসজিদে নববীসহ সারা বিশ্বের প্রায় মসজিদগুলোর আবাদ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আমাদের বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।

গত ৬ ই এপ্রিল সোমবার, বর্তমান করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য মসজিদে মুসল্লীদের জমায়েত সীমিত করে, মসজিদ সংশ্লিষ্ট স্টাফ তথা খতীব ইমাম মুওয়াজ্জিদ ও খাদেমসহ জুমার নামাজে ১০ জন ও ওয়াক্তিয়া নামাজে ৫ জন জামাতে শরীক হতে পারবেন বলে নির্দেশনা দিয়েছেন বাংলাদেশ ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

আমীরে হেফাজত শাইখুল হাদীস আল্লামা শাহ আহমদ শফী (দাঃবাঃ)সহ আমাদের হক্কানী উলামায়ে কেরাম ও বিজ্ঞ মুফতিগনও তা শরীয়ত সম্মত বলে সমর্থন করেছেন। পরিস্থিতি বিবেচনা করে জাতীয় স্বার্থে প্রত্যেক মসজিদের খতীব ও ইমামগণ তা মেনে নিয়েছেন।

কিন্তু কয়েকটি বিষয় লক্ষনীয় ও অতিব গুরুত্বপূর্ণ, যে সব বিষয়ে মন্ত্রী মহোদয় ও আমাদের উলামায়ে কেরামদের পক্ষ থেকে আমরা কোন দিক নির্দেশনা ও পরামর্শ এখনো পাইনি । তা হল…

১। প্রত্যেক মসজিদে খতীম ইমাম মুয়াজ্জিনসহ অবস্থানবেধে ২/৩/৪/৫/৬/ জন স্টাফ রয়েছেন। যারা এই সংকটময় পরিস্থিতিতেও মসজিদ আবাদ রেখে মসজিদের হক্ব আদায় করে যাচ্ছেন এবং যাবেন।

২। অধিকাংশ মসজিদের অতিরিক্ত কোন আয়ের উৎস নেই, বরং ধর্মপ্রাণ মুসল্লীগনের দান অনুদান ও জুমার কালেকশনের দ্বারা মসজিদগুলোর যাবতীয় ব্যায়ভার বহন করা হয়। অনেক সময় তাও সংকুলান হয় না।

৩। বর্তমান পরিস্থিতিতে মসজিদে মুসল্লীদের যাতায়াত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাই দান সদকাসহ জুমার কালেকশনও বন্ধ রয়েছে, অনেক মসজিদ কমিটি স্টাফ বেতন, বিদ্যুৎবিল ও গ্যাস বিলসহ অন্যান্য খরচ বহন করার মত আর্থিক সক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছে।

৪। খতীব ইমাম মুয়াজ্জিনসহ মসজিদ স্টাফগন মসজিদে আটকা পড়ে আছে, অনেক মসজিদে স্টাফদের জন্য খাওয়া দাওয়ারের কোন ব্যবস্থাও নেই। আত্মমর্যাদার পোশাক পরিধান করায় তারা কারো নিকট কিছু চাওয়ারও সুযোগ নেই।

সুতরাং মন্ত্রী মহোদয় ও আমাদের সারেতাজ ওলামা হযরতদের প্রতি বিনীত আরজ থাকবে।বর্তমান এই সংকটময় পরিস্থিতি বিবেচনা করে যেমনি ভাবে মসজিদে মুসল্লীদের না আসার জন্য দিক নির্দেশনা দিয়েছেন ঠিক তেমনি ভাবে খতীব ইমাম মুয়াজ্জিনসহ মসজিদ স্টাফদের বেতন ভাতা সুচিকিৎসা ও খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতঃ সুপরামর্শ ও দিক নির্দেশনা দিবেন বলে আমরা প্রবল আশা রাখি।

এবং সকল ধনাঢ্য ও দানবীরদের প্রতি আহবান জানাই, বর্তমান পরিস্থিতে আপনারা যে ভাবে মনকে উজাড় করে গরীব অসহায় হতদরিদ্র ও কর্মহীনদেরকে সাধ্যানুযায়ী দান সদকা করে যাচ্ছেন, এবং সহায়তার হাত বাড়িয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ঠিক তেমনিভাবে আপনার পার্শ্ববর্তী মসজিদ স্টাফদের প্রতি এগিয়ে আসুন এবং সুপরামর্শ ও হালাল অনুদানের মাধ্যমে তাদেরকে সহায়তা করুন।

আল্লাহ তায়ালা সবাইকে তাওফিক দান করুন, আমীন।

লেখক: মুফতি মুহাম্মদ উল্লাহ রিজওয়ান
খতীব, উত্তর আদাবর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ।মুহাম্মদপুর – ঢাকা।

Sharing is caring!