মনোহরদীতে দরিদ্র কৃষকের ধান কেটে ঘরে তুলে দিল ছাত্রলীগ

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মে ৪, ২০২০
মনোহরদীতে দরিদ্র কৃষকের ধান কেটে ঘরে তুলে দিল ছাত্রলীগ
  • তানিম ইবনে তাহের
  • নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি

মাঠে ধান পেকে গেলেও করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে অর্থাভাবে ধান ঘরে তুলতে পারছিলেন না দরিদ্র কৃষক। অন্যদিকে কালবৈশাখীর আনা-গোনায় দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে যাচ্ছিল। এমনই দুঃসময়ে দরিদ্র এ কৃষকের পাশে দাঁড়ালো ছাত্রলীগ। শুধু দরিদ্র এ কৃষকই নন, দেশের এ ক্রান্তিলগ্নে নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার লেবুতলা ইউনিয়নের হতদরিদ্র কৃষকের ধান কেটে ঘরে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা।

গতকাল (০৩ মে ) থেকে লেবুতলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি পাভেল আকন্দের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের প্রাক্তন ও বর্তমান প্রায় ১৫ জন নেতাকর্মী মিলে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছেন। ছাত্রলীগের এমন মানবিকতায় হাসি ফুটলো দরিদ্র কৃষকের মুখে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কৃষকদের পাশে থাকার নির্দেশনা বাস্তবায়নে এ ধানকাটা নিয়ে দেশের বিভিন্নস্থানে হাস্যরসের সৃষ্টি হলেও লেবুতলা ইউনিয়নের একঝাঁক তরুণ প্রাণের এ উদ্যোগ আশা জাগিয়েছে দরিদ্র কৃষকের মনে এবং ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে সচেতন মহলে।

কোন তাগিদ থেকে কেন তারা এ কাজ করছেন, জানতে চাইলে প্রতিক্রিয়ায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা কাউছার আহমেদ আকন্দ বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের কারণে দেশ এখন সংকটময় সময় পার করছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগকে কৃষকের পাশে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। এ নির্দেশ বাস্তবায়নে এবং বিবেকের দায়বোধ থেকে আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি।’

ছাত্রনেতা রুবেল রানা বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে ইউনিয়নের অতি দরিদ্র কৃষকের জমির ধান কাটা এবং ঘরে তুলে দেওয়ার কাজ শুরু করেছি। পবিত্র রমজান মাসে রোজা রেখে আমরা কাজ করছি। তবে একটু সমস্যা হচ্ছে সবাই ধান কাটতে পারলেও গুছিয়ে আঁটি বাঁধতে পারছি না। এজন্য আমাদের সঙ্গে কয়েকজন শ্রমিকও রেখেছি। এছাড়া জমির মালিকও আমাদের এ কাজে সহযোগিতা করছেন।

তিনি বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে আমাদেকে বাংলাদেশ সরকারের মননীয় শিল্পমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন সাহেব এবং জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক নজরুল মজিদ মাহমুদ স্বপন সাহেব বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

এছাড়া, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী, চাষিদের ক্ষেত থেকে ন্যায্যমূল্যে সবজি কিনে গরীব অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণসহ নানা মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান ছাত্রনেতা রুবেল রানা।

প্রাক্তন ছাত্রলীগ নেতাদের মাঝে সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘যারা ধান কাটছেন তারা অনেকে আমার বন্ধু, অনেকে ছোট ভাই। আমার মনে হয়েছে এটি খুব মহৎ একটি কাজ। তাই তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছি। মানুষের উপকারে আসতে পেরে নিজেরও ভাল লাগছে।

এদিকে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও ঠিক সময়ে পাকা ধান ঘরে তুলতে পেরে ভীষণ খুশি দরিদ্র কৃষকেরা। লেবুতলা ইউনিয়নের দরিদ্র কৃষক বলেন, আমি একটি জমিতে ধান চাষ করেছি। কিন্তু করোনার কারণে অনেকদিন কর্মহীন থাকায় হাতে মোটেও টাকা-পয়সা ছিল না। তাই ধান পেকে গেলেও ঘরে তুলতে পারছিলাম না। এর মধ্যে কয়েক দফা কালবৈশাখীর ঝড় ও বাতাস বয়ে গেছে। তাই দুশ্চিন্তায় পড়েছিলাম। এ অবস্থায় তারা এসে ধানগুলো কেটে আমার বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে। আমি তাদের জন্য দোয়া করছি।

Sharing is caring!