ভিপি নূরের ছাত্র সমাবেশে ছাত্রলীগের হামলা

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত ডিসেম্বর ১৭, ২০১৯
ভিপি নূরের ছাত্র সমাবেশে ছাত্রলীগের হামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি:

ভারতের বিতর্কিত ও সাম্প্রদায়িক বিভেদের নাগরিকত্ব বিল এর প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনে রাজু ভাস্কর্য চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল ও সংহতি সমাবেশের ডাক দিয়েছিলেন ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর।

কিন্তু হামলা চালিয়ে সেই সমাবেশ পণ্ড করে দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। সম্প্রতি একাত্তরে মানবতাবরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কাদের মোল্লাকে শহীদ বলায় দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকায় যে হামলা হয়েছিলো তাও করেছিলো এই মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। তবে এতে নেতৃত্ব দেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক আল মামুন। এসময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও হামলায় যোগ দেন।

ভারতের মুসলিম বিদ্বেষী নতুন নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে দেশটির বিভিন্ন প্রান্তের সরকারি-বেসরকারি শত শত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও বিক্ষোভ শুরু হয়েছে গতকাল থেকে।

সমালোচকরা বলেছেন, ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী সরকার ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্র হিসাবে প্রতিষ্ঠিত ভারতে বিভাজন তৈরি করতে এই নতুন নাগরিকত্ব আইন নিয়ে এসেছে।

নতুন নাগরিকত্ব আইনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে প্রতিবেশী বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে যেসব অমুসলিম শরণার্থী ভারতে গেছেন; তারা দেশটির নাগরিকত্ব পাবেন। সমালোচকরা বলছেন, এই আইনে মুসলিম শরণার্থীদের ব্যাপারে একই ধরনের বিধান রাখা হয়নি; যা ভারত রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিকে দুর্বল করে দিয়েছে।

গত ১১ ডিসেম্বর, বুধবার ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস হয়। পরদিন রাষ্ট্রপতি এই বিলে স্বাক্ষর করলে সেটি আইনে পরিণত হয়। বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ করছেন দেশটির হাজার হাজার মানুষ। তবে বিক্ষোভের তীব্র দাবানল দেখা গেছে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, পশ্চিমবঙ্গসহ আরও বেশ কিছু রাজ্যে। আসামে বিক্ষোভের সময় পুলিশের গুলি ও লাঠিপেটায় অন্তত ছয়জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

এই আইনের বিরুদ্ধে গতকাল সোমবার পশ্চিমবঙ্গে বিক্ষোভ করছে রাজ্যের হাজার হাজার মানুষ। এই আইনের বিরোধিতা করে কেন্দ্রীয় সরকারকে তোপ দেগে জনতার সঙ্গে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে রাজ্যের বাসন্দিাদের বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। যদিও রোববার সহিংসতার আশঙ্কায় পশ্চিমবঙ্গের ছয়টি জেলায় ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

সোমবার মুম্বাইয়ের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি ও টাটা ইনস্টিটিউট অব সোস্যাল সায়েন্সেস ক্যাম্পাসে রাতভর বিক্ষোভ হয়েছে। সকালের দিকে এসব ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বম্বে ইউনিভার্সিটি ও দক্ষিণাঞ্চল বেঙ্গালুরুর কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন।

রবিবার নয়াদিল্লির জামিয়া মিল্লিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ওপর আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর বেধড়ক লাঠিপেটার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে দেশটির শিক্ষার্থীরা।

বিক্ষোভের সময় নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা জামিয়া মিল্লিয়া ক্যাম্পাসের ভেতরে ঢুকে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে কমপক্ষে ১০০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। একই ধরনের সংঘর্ষ হয়েছে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য উত্তর প্রদেশের আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে।

Sharing is caring!