ভাষার বংশ: মুহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম

আওয়ার বাংলাদেশ ডেস্ক ২৪
প্রকাশিত আগস্ট ১, ২০২১
ভাষার বংশ: মুহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম

 

বাংলা ভাষা বা যেকোনো ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে জানতে হলে সে ভাষার বংশ পরিচয় জানতে হবে। অর্থাৎ ভাষার ক্ষেত্রে কি-কি বংশ আছে এবং তার কোনটা থেকে সে ভাষার উদ্ভব হয়েছে তা জানতে হবে।

ভাষাতাত্ত্বিকগণ পৃথিবীর ভাষাসমূহের শব্দকোষ ও ব্যাকরণের বিশেষ সম্পর্ক কিংবা আদিরূপের মধ্যে যে বিশেষ সাদৃশ্য বা মিল দেখতে পাওয়া যায়–তা পর্যালোচনা করে নির্ধারণ করেছেন যে, পৃথিবীর ভাষাসমূহ কয়েকটি আদি উৎস থেকে জন্মলাভ করেছে। এই আদি উৎসগুলোকে পৃথিবীর প্রাচীনতম ভাষা বংশ বলে।

পৃথিবীর ভাষাসমূহকে ১২টি বংশে বা গোষ্ঠীতে ভাগ করা হয়েছে। যথা : ইন্দো-ইউরোপীয়, সেমীয়-হামীয়, বান্টু, ফিন্নো-উগ্রীয় বা উরালীয়, তুর্ক-মোঙ্গল-মাঞ্চু, ককেশীয়, দ্রাবিড়, অস্ট্রিক, ভোট-চীনীয়, উত্তর-পূর্ব সীমান্তীয় বা প্রাচীন এশীয়, এসকিমো, এবং আমেরিকার আদিম ভাষাগুলো।

এই ১২টি বংশের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো, ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা বংশ। এই বংশ হতেই প্রাচীনকালের সমৃদ্ধ সংস্কৃত, গ্রিক ও ল্যাটিন ভাষা উদ্ভব হয়েছিল। আর ইংরেজি, জার্মান, ফরাসি, ইতালীয়, রুশ, বাংলা, উর্দু, হিন্দি ইত্যাদি আধুনিক বিশ্বের প্রধানতম ভাষাগুলো এরই বংশজাত।

মূল আর্যজাতি ছিল ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাভাষী। আর্যদের আদি বাসস্থান ছিল মধ্য-ইউরোপে, অন্যমতে দক্ষিণ রাশিয়ার উরাল পর্বতের পাদদেশে। এই ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাভাষী মূল আর্যজাতি পরবর্তীকালে ইউরোপের নানাদেশে ও ভারতীয় উপমহাদেশে ছড়িয়ে পরে।
এই ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা থেকে ১০টি প্রাচীন ভাষার উদ্ভব হয়। যাদেরকে ‘শতম’ ও ‘কেন্তুম’ নামে দুটি গুচ্ছে ভাগ করা হয়েছে।

মূল ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষার পুরঃকণ্ঠ্য স্পৃষ্ট ধ্বনির (palato-guttural plosive sounds) পরবর্তী রূপান্তরের ভিত্তিতে এই ভাগ করা হয়েছে। শতম গুচ্ছের ভাষা হচ্ছে : ইন্দো-ইরানীয়, বালতো-স্লাভিক, আলবানীয় ও আরমেনীয় শাখা। আর কেন্তুম গুচ্ছের ভাষা হচ্ছে : গ্রিক, ইতালিক, কেলটিক, টিউটনিক, তোখারীয় ও হিত্তীয় শাখা। শতম গুচ্ছের ইন্দো-ইরানীয় শাখা দুটি উপশাখায় বিভক্ত হয়ে একটি যায় ইরানে, অন্যটি আসে ভারতীয় উপমহাদেশে। এই দ্বিতীয় শাখাটিকেই বলে ভারতীয় আর্য ভাষা।

আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ সালে অর্থাৎ প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর পূর্বে এই শাখাটি এই উপমহাদেশে আসে। এর সঙ্গে আমাদের বাংলা ভাষার সরাসরি যথেষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। আর্য ভাষার বিগত সাড়ে তিন হাজার বছরের ইতিহাসকে কালের দিক দিয়ে তিনটি স্তর বা যুগে ভাগ করা হয়েছে।
১. প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা (খ্রিষ্টপূর্ব
১৫০০–খ্রিষ্টপূর্ব ৬০০)। এর পরবর্তী
একটি রূপ হচ্ছে সংস্কৃত।
২. মধ্য ভারতীয় আর্য ভাষা (খ্রিষ্টপূর্ব
৬০০–খ্রিষ্টীয় ৮০০। এই কালের
ভাষা হচ্ছে : পালি,প্রাকৃত,অপভ্রংশ।
৩. নব্য ভারতীয় আর্য ভাষা (খ্রিষ্টীয়
৮০০ হতে আধুনিক কাল। এই কাল
পর্বের ভাষা হচ্ছে : বাংলা, গুজরাটি,
রাজস্থানি, উড়িয়া, অসমিয়া, উর্দু,
হিন্দি ইত্যাদি উপমহাদেশীয় ভাষা।

Sharing is caring!