ভারসাম্যহীনদের মাঝে খাদ্য বিতরণ”জন্মভূমি কুয়াকাটা” সেচ্ছাসেবী সংগঠনের

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত জুন ১৯, ২০২০
ভারসাম্যহীনদের মাঝে খাদ্য বিতরণ”জন্মভূমি কুয়াকাটা” সেচ্ছাসেবী সংগঠনের
  • মোঃ ইসমাইল সিরাজী

  • বিশেষ প্রতিনিধিঃ-

অসহায় ও মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিদের মুখে এক বেলা খাবার তুলে দেওয়ার চেষ্টা করে আজকে সাফল্যের কাঁতারে নাম লিখিয়েছে “জন্মভূমি কুয়াকাটা” নামে একটি অনলাইন গ্রুপ।

২০১৯ সালের জুলাই মাসের ১৯ তারিখ কিছু সংখ্যক ছাত্র এবং ট্যুরিজম ব্যবসায়ের সাথে যারা জড়িত, তাদের মধ্য থেকে কিছুসংখ্যক ট্যুরিজম ব্যবসায়ী এগিয়ে এসে এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেয়।

জানা যায় যে, সংগঠনটির সদস্যদের নিজেদের অর্থায়নে; অসহায় ও ভারসাম্যহীন ব্যাক্তিদেরকে প্রতি শুক্রবারে একবেলা একমুঠো ভালো খাবার ভারসাম্যহীন ব্যাক্তিদের মুখে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন জন্মভূমি কুয়াকাটা সংগঠনটি।

চলমান অবস্থায় হঠাৎ সারাদেশে করোনাভাইরাস নামে একটি অভিশাপ পৃথিবীতে নেমে আসে। এই অভিশপ্ত সময় দূর্ভোগ নেমে আসে পর্যটন এলাকা কুয়াকাটায়ও।

কারণ এই ভারসাম্যহীন ব্যক্তিরা প্রতিদিন খাদ্য সংগ্রহ করত কুয়াকাটার খাবার হোটেল গুলো থেকে। কিন্তু মহামারীর প্রভাবে হঠাৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে কুয়াকাটা পর্যটন এলাকার সাথে সারাদেশের যোগাযোগ।

পর্যটক না আসায় মানুষের আনাগোনা না থাকায় অনায়াসেই বন্ধ হয়ে গেছে খাবার হোটেল, দোকানপাট সহ অন্যান্য ব্যবসা-বাণিজ্য। যেকারণে ক্ষুধার্ত অবস্থায় দিন কাটছে ভারসাম্যহীন মানুষগুলোর।

এই অভিশপ্ত সময়ে ভারসাম্যহীন মানুষের পাশে নতুন এক উদ্যোগ নিয়ে দাঁড়িয়েছে কুয়াকাটার প্রিয় একটি অনলাইন ভিত্তিক সংগঠন “জন্মভূমি কুয়াকাটা”

করোনাভাইরাসের কারণে কুয়াকাটায় লকডাউন থাকায় প্রতি সপ্তাহের পরিবর্তে এখন থেকে প্রতিদিন দুইবেলা করে ভারসাম্যহীন ব্যক্তিদের খাবার দেওয়া শুরু করেছেন “জন্মভূমি কুয়াকাটা” নামের সংগঠনটি। প্রায় আড়াই মাস যাবত প্রতিদিন দুইবেলা করে খাবার দিয়ে যাচ্ছে এই সংগঠনটি।

মানুষের প্রতি মানুষের এমন ভালোবাসা দেখে একটি কথা মনে পড়ে যায়;- মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য। ওএমন মহৎ উদ্যোগ দেখে স্থানীয় জনগণ সহ প্রশাসন তাদেরকে অভিনন্দন ও শুভকামনা জানিয়েছেন।

জন্মভূমি কুয়াকাটা সংগঠনের অন্যতম সদস্য কে এম বাচ্চু খলিফা আওয়ার টাইমস টোয়েন্টিফোর কে জানান, আজ আমাদের জন্মভূমি কুয়াকাটার এক বছর প্রতি পূর্ণ হয়েছে। আমাদের জন্মভূমি কুয়াকাটা সংগঠনের যারা জড়িত তারা অধিকাংশই ছাত্র এবং এই সংগঠনের অর্থের যোগান আসে ট্যুরিজম ভিত্তিক। এদিকে লকডাউনের কারণে একদিকে ট্যুরিজম এর সকল ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ। তাই সব মিলিয়ে প্রতিদিন দুই বেলা খাবার দেওয়াটা অনেকটা কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারপরও চালিয়ে যাব জন্মভূমি কুয়াকাটার এ কার্যক্রম এমনটাই আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তিনি আরো বলেন;- বিত্তবানদের একটু সহযোগিতা যদি জন্মভূমি কুয়াকাটা পায়, তাহলে আরও ভালো কিছু করতে পারবে “জন্মভূমি কুয়াকাট। এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো আমাদের এই নিস্বার্থ কার্যক্রমকে।

Sharing is caring!