ভারত-চীন সীমান্তে উত্তেজনা নিরসনে সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত জুন ২, ২০২০
ভারত-চীন সীমান্তে উত্তেজনা নিরসনে সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা

ভারত-চীন সীমান্তে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ভারত ও চীনা সেনাবাহিনীর মধ্যে আলোচনা চলছে। আজ (মঙ্গলবার) এনডিটিভি জানিয়েছে, মেজর জেনারেল স্তরের কর্মকর্তাদের সাথে দু’দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। এরআগে মেজর জেনারেল পর্যায়ে এবং ব্রিগেডিয়ার পর্যায়ে দু’বার আলোচনা হয়েছে। কিন্তু ওই আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি।

সীমান্তে উত্তেজনা হ্রাস করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি কূটনৈতিক পর্যায়েও চেষ্টা চলছে। ভারত চীন নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর দু’দেশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সেনা জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। ভারত ও চীনা বাহিনী পদাতিক সেনা থেকে কামান এবং ট্যাঙ্ক মোতায়েন করেছে।

এদিকে, ভারত-চীন সীমান্তে চীনের সামরিক তৎপরতা প্রসঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, ভারতের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর সেনা মোতায়েন করছে চীন। চীনের এই নীতির জন্য শুধু তাদের দেশের মানুষের ক্ষতি হবে না। এর ফল গোটা বিশ্ব ভুগবে।

পম্পেও বলেন, আমরা দেখেছি চীন আজও ভারতের উত্তরে অবস্থিত প্রকৃত সীমান্তরেখায় অগ্রসর হচ্ছে। স্বৈরাচারী সরকারগুলোই এ ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।

রণদীপ সূর্যেওয়ালা

এদিকে, ভারত-চীন চলমান অচলাবস্থার মধ্যে ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সূর্যেওয়ালা কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশে পাঁচদফা প্রশ্ন করেছেন।

১. চীনা সেনা কি গালওয়ান উপত্যকা ও প্যাংগং সো হ্রদের কাছে ভারতীয় এলাকা দখল করে আছে?

২. প্যাংগং হ্রদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ‘ফিঙ্গার টিপস’ এলাকা কি চীনাদের দখলে?

৩. দারবুক-শিয়োক-ডিবিও রোড দিয়ে পরিবহণ কি বিপদের মুখে?

৪. ভারতের সার্বভৌমত্বের ওপর এই আঘাত রুখতে মোদি সরকার কী কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে?

৫. মোদি সরকার আসল পরিস্থিতি এখনও দেশকে জানায়নি কেন?

রাম মাধব

অন্যদিকে, ভারতের শাসকদল বিজেপি’র সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব কূটনৈতিকস্তরে আলাপ-আলোচনাতেই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। বিবিসি হার্ড টকে রাম মাধব বলেছেন, ‘কোনও সন্দেহ নেই যে সীমান্তে যা চলছে তা অত্যন্ত গুরুতর। তবে এটাই প্রথম নয়, এর আগেও তিব্বত সীমান্তসহ একাধিকবার সীমান্ত ইস্যুতে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। উভয় দেশের নেতৃত্বই সজাগ। কূটনৈতিকস্তরে সমাধানের চেষ্টা চলছে।’

সরকারি এক কর্মকর্তা ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’কে বলেন, বিরোধ মেটাতে এরআগে বেশ কয়েকবার উভয়দেশের সেনা পর্যায়ে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু তা ফলপ্রসূ হয়নি। সেজন্য এবার বেইজিংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিকস্তরে আলোচনা চলছে। আশা করা যায় এতেই সমস্যা মিটে যাবে। যদিও অন্যবারের তুলনায় এবারের পরিস্থিতি বেশ জটিল বলেও ওই কর্মকর্তা স্বীকার করে নিয়েছেন। সুত্র.পাসটুর্ডে

Sharing is caring!