বিয়ে ও আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপট: তৃতীয় পর্ব

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত জুলাই ২০, ২০২০
বিয়ে ও আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপট: তৃতীয় পর্ব
  • মুহাম্মাদ দেলোয়ার হুসাইন
দ্বিতীয় পর্বের পর….
বর্তমান সমাজে অভিভাবকেরা মনে করে, সন্তানকে ছাত্র অবস্থায় কিংবা উপার্জন করার আগে বিয়ে করালে সে জীবনে সফল হতে পারবেনা। অর্থাৎ আমরা বিয়ে করাকে জীবনে সফল হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক বা বাঁধা মনে করি। তাহলে চলুন ইতিহাসের পাতার বিখ্যাত ব্যাক্তিদের জীবনী থেকে একটু ঘুরে আসি একনজর!
বিখ্যাত দার্শনিক সক্রেটিস বিয়ে করেছিল ১৮ বছর বয়সে। জগৎ বিখ্যাত বিজ্ঞানী অ্যারিস্টটল বিয়ে করেছিল ১৭ বছর বয়সে। বিখ্যাত ইংরেজি নাট্যকার উইলিয়াম শেক্সপিয়র বিয়ে করেছিল ১৬ বছর বয়সে। ভারতের জাতির জনক মহাত্মা-গান্ধী বিয়ে করেছিল ১৩ বছর বয়সে। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বিয়ে করেছিল মাত্র ১১ বছর বয়সে!
বিয়ে কিন্তু এদেরকে সফলতা থেকে বঞ্চিত করেনি। একটা পার্থক্য হলো তারা বিয়ে করে সফল হয়েছেন। আর আমরা সফল হয়ে বিয়ে করতে চাই!!!
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এজন্যই বলেছিলেন-
“কোনকালে একা হয়নিকো জয়ী, পুরুষের তরবারী; প্রেরনা দিয়েছে, শক্তি দিয়াছে, বিজয়ালক্ষী নারী”!
“বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী,অর্ধেক তার নর”।
পুরুষের জীবনে নারীর অবদান জানতে নজরুল রচিত ‘নারী’ কবিতাটি পড়তে পারেন। পোস্ট টি বড় হয়ে যাবে বিধায় এখানে দিলাম না!
তাছাড়া সফলতা বলতে আমরা যা বুঝি তা হলো ‘সরকারি চাকরি’। সরকারি চাকরি নাই তো আপনার কপালে বিয়েও নাই! মেয়ের বাবাও দিবে না, আপনার বাবাও দিবে না। এদিকে যৌবনের পানি কিন্তু সব শেষ হয়ে যাচ্ছে!
তাহলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। মেয়েদের পিছনে দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে নেশা করা, ধর্ষন,আত্নহত্যা, অবৈধ সম্পর্ক, পরকীয়া, হত্যা, গুম ইত্যাদি ঘৃণ্য অপরাধ সমাজে বেড়েই চলেছে!
চলছে, চলবেই! বাড়ছে, বাড়বেই! তাহলে আপনারা-ই বলুন ভুল কোথায়? সফল হবেন কিভাবে? মনে সবসময় বাজে চিন্তা লালন করে সফল কি হওয়া যায়?
এবার আসি বাস্তবতায়! আপনি পড়াশোনা শেষ করে, চাকরী নিয়ে বিয়ে করলেন। বয়স কিন্তু ইতিমধ্যে ছেলে এবং মেয়ে উভয়েরই ৩০ পার হয়ে গেছে! অধিক বয়সে বিয়ে করলে ছেলে- মেয়ে উভয়েরই নানান রকম সমস্যা দেখা দেয়। অধিক বয়সে মেয়েদের গর্ভধারণে সমস্যা হয়। আর একটা নির্দিষ্ট সময় পর মেয়েদের গর্ভধারণ ক্ষমতা প্রাকৃতিকগতভাবেই বন্ধ হয়ে যায়। তাই শেষ সময়ে এসে সন্তান ধারণে অনেক ধরনের জটিলতা পোহাতে হয়।
এদিকে ছেলেদের অবস্থা আরো করুণ। অনেকেই খারাপ কর্ম করতে করতে সন্তান জন্মদানে অক্ষম হয়ে পড়ে! ফলে সন্তান হয়না। ছেলে-মেয়ের এ সকল সমস্যার কারণে এসবের প্রভাব সন্তানের উপরে পড়ে। ফলশ্রুতিতে অনেক সময় সন্তান প্রতিবন্ধি কিংবা বিভিন্ন কঠিন ও জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে জন্ম নেয়।
শুধু তাই নয়, এদিকে সন্তান বড় হতে হতে মা-বাবা বৃদ্ধ হয়ে যায়! এখন তো মানুষের গড় আয়ু অনেক কম! অল্প বয়সে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে! ফলে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানের বিয়েটা পর্যন্ত দেখে যেতে পারেনা! এরচেয়ে আফসোসের বিষয় আর কি হতে পারে?
এদিকে যৌবন প্রাপ্ত হওয়ার এত দীর্ঘ সময় পর বিয়ে করায় স্বামী – স্ত্রী কারো মধ্যেই আর রোমান্স বা ভালোবাসা তেমন কাজ করেনা। একজন অপরজনের প্রতি আকর্ষণ হয়না! নিয়মিত সংঘটিত হয় জগড়া! ফলে অনেক সংসার বেশিদিন টিকে না। এসব কারণে সমাজে দিন দিন ডিভোর্সের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বেড়েই চলেছে। কথাগুলো কিন্তু আমার না, বিশেষজ্ঞদের। এর থেকে অবশ্যই আমাদের পরিত্রাণ দরকার।সমাজের এইসব সমস্যা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। সমাধানের রাস্তা খুঁজে বের করতে হবে! নতুবা এভাবে চলতে থাকলে একসময় মানব সভ্যতাই হুমকির মুখে পড়বে!
চলবে…
প্রথম পর্ব: ক্লিক করুন
দ্বিতীয় পর্ব:ক্লিক করুন
পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন আগামীকাল ঠিক এই সময় পর্যন্ত
অথবা আওয়ার বাংলাদেশের সাইট নিয়মিত ভিজিট করুন।

Sharing is caring!