বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২০
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিনিধি:

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের দুই শিক্ষার্থীকে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগে এক ছাত্রকে তিন বছর ও দুই ছাত্রকে দুই বছর এবং অপর দুই ছাত্রীকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এ বহিষ্কার প্রত্যাহারের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

আজ রবিবার সকাল সাড়ে দশটা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে তালা খুলে বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করেন তারা।

জানা গেছে, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী আল ইমরানকে র‌্যাগিং করার অভিযোগে স্থানীয় সরকার ও নগর উন্নয়ন বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র জাকির হোসেনকে তিন বছর ও তানভীরুল ইসলামকে দুই বছর এবং ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র মেহেদী হাসানকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ১ম বর্ষের ছাত্রী ফারহানা আম্বেরীন লিওনাকে র‌্যাগিং করার অভিযোগে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্রী তোয়াবা নুসরাত মীম ও শায়রা তাসনিম আনিকাকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়।

এ বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যান্তরীণ একটি গ্রুপে অনিক ভৌমিক নামের এক শিক্ষার্থী লেখেন, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তটা যখন দেখি তখনি অবাক হই। পাঁচ শিক্ষার্থীকে র‌্যাগিংয়ের অপরাধে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের যেখানে র‌্যাগিংয়ের সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা নেই, সেখানে কোনরূপ সতর্কতা ছাড়াই সিদ্ধান্ত এত কঠোর!  আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেওয়া হলো না। ভিকটিম নিজের মুখে স্বীকার করেছে যে তার সাথে কোনো শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন হয়নি, সেখানে এ রকম একটি আইনের আওতাভুক্ত করাটা কতটুকু যৌক্তিক আমার বুঝে আসতেছে না।  ভিকটিম ও ভিকটিমের পরিবার অভিযুক্তদের সাথে আপোষে এসেছে এবং নিজেরা মিমাংসা করেছে, সেখানে আর কিছু বলার নেই। প্রশাসনের উচিৎ বিষয়টি নিয়ে দ্বিতীয় বার ভাবা এবং বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। কারো জীবন ধ্বংস করার অধিকার প্রশাসনের নেই।

বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের দাবি, তারা কোনো ধরনের র‌্যাগিংয়ের ঘটনা ঘটাননি। তারা কোনো শিক্ষার্থীদের ম্যানার শিখানোর নামে কোনো ধরনের শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন চালাননি। সুষ্ঠুভাবে তদন্ত বা যাচাই-বাচাই না করে তাদের অন্যায়ভাবে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। বহিষ্কার করার আগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করা উচিৎ ছিল। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান চ্যালেঞ্জ করে বলেন, এই র‌্যাগিংয়ের সাথে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তাকে অন্যায়ভাবে এত বড় শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘র‌্যাগিংয়ের শিকার আল ইমরান আমার বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল। তার সাথে আমার সুসম্পর্ক ছিল। আমি অসুস্থ থাকার কারণে গত ২৯ ডিসেম্বর সকল জুনিয়রদের বলি আমার পাঁচ পেইজের একটা অ্যাসাইনমেন্ট কেউ লিখতে পারবে কিনা, তখন আল ইমরান স্ব-ইচ্ছায় লিখার সম্মতি জানিয়েছিল এবং এক ঘণ্টা পর আমায় ফোন দিয়ে জানিয়েছিল ভাই লেখা শেষ। এরপর গত ৬ জানুয়ারি জুনিয়র-সিনিয়রদের একটা প্রোগ্রাম শেষে আল ইমরান তার ফেসবুকের টাইমলাইনে সকল বড় ভাইদের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করে একটা পোস্টও করে, যেখানে আমার নামও ছিল। তখন পর্যন্ত সে সম্পূর্ণ সুস্থ। এরপর তার সাথে আমার কোনো কথা বা র‌্যাগিংয়ের কিছু হয়নি। কিন্তু আজ আমি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার। আমার সাথে অন্যায় করা হচ্ছে।’

এদিকে থিয়েটার অ্যান্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগের ১ম বর্ষের ছাত্রী ফারহানা আম্বেরীন লিওনাকে র‌্যাগিংয়ের অপরাধে বহিষ্কৃত তায়াবা নুসরাত মীম ও শায়রা তাসনিম আনিকার দাবি, কয়েকজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে একটি আপোষনামা করেছেন। তারা পারিবারিকভাবে এই বিষয়টি সমাধান করেছেন। ভবিষ্যতে তারা এই ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় সম্পৃক্ত হবেন না। তার পরেও তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. শেখ সুজন আলী জানান, ‘ওরা আপোষ করার আগেই আমরা তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছি। আর ওদের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার কারণেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো জানান, আমরা সুষ্ঠু তদন্ত করেছি। আমাদের তদন্তে কোন গ্যাপ নেই। ইমরান অসুস্থ হওয়ার আগের একটা রেকর্ড পেয়েছি। সেই সূত্র ধরে সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আমরা তদন্ত রিপোর্ট তৈরি করেছি।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের দুই শিক্ষার্থীকে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগে সিন্ডিকেট সভায় বিভিন্ন মেয়াদে পাঁচ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করায় বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন করেছে শিক্ষার্থীরা। বহিষ্কৃত পাঁচ শিক্ষার্থী বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আজ (রবিবার) ক্ষমা চেয়েছেন এবং উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান বরাবর একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। আগামী শনিবারের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে সিন্ডিকেট ডাকা হয়েছে। সিন্ডিকেটে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Sharing is caring!