বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে রোজা ও তারাবী

আওয়ার বাংলাদেশ ডেস্ক ২৪
প্রকাশিত এপ্রিল ১৪, ২০২১

মুহাম্মদ মিযানুর রহমান

সুখ শান্তি ও পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধানের কেন্দ্রস্থল আল্লাহ-প্রদত্ত ইসলাম ।যার প্রতিটি বিধান কল্যানকর মানব দানব সকলের জন্য ।
আধুনিক প্রগতিশীলরা পাশ্চাত্য ও ইউরোপের রঙ্গিন চশমা পড়ে খুজতে থাকে ভুলভ্রান্তি।
ফলাফলে ব্যর্থ হয়ে আত্মসমর্পণ করে ইসলামে এমন সংখ্যা কম নয়।
তাইতো কালের পালাবদলে ইসলামের নোঙ্গর ফেলেছে পৃথিবীর দুয়ারে দুয়ারে। প্রতীয়মান হয়ে উঠেছে ইসলামের সৌন্দর্য ও নানাবিধ কল্যাণ। রোজা ইসলামের পঞ্চম স্তরের একটি ।
যা বান্দার প্রতি আল্লাহ আবশ্যক করেছেন। কিন্তু তা নিয়ে নেতিবাচক ধারণার নেই কমতি ।
গর্ব করেই বলতে হয আধুনিক যুগের চিকিৎসা বিজ্ঞান রোযার ব্যবহারিক তাৎপর্য উপলব্ধি করে তার সত্যতা প্রমাণ করেছে ।

ইউরোপের ঘরে ঘরে ইদানিং রোজা রাখার হিড়িক পড়েছে।
সবার মুখে শুনা যাচ্ছে (শরীরটাকে ভালো রাখতে চাও তো রোজা রাখ )জার্মানির স্বাস্থ্য ক্লিনিক এর ফটকে বড় অক্ষরের টাঙ্গানো আছে (রোজা রাখ স্বাস্থবান হবে) নিচে লেখা( মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ ) ।

অন্যান্য খ্রিস্টান চিকিৎসকেরা রোযার উপকারিতা নিয়ে বেশ কিছু গবেষণা চালিয়েছে ।
বিখ্যাত সীরাতের কিতাব সীরাতে হালাবীয়াতে বর্ণিত আছে মুসলমানের চিকিৎসায় মিশরের সম্রাট মুকাউকাস একজন ডাক্তার পাঠায়।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং বাধাঅসলেন আমরা এমন এক জাতি যারা ক্ষুধা লাগলে খায় না তারা খেলেও খুদা বাকি থাকতে খাওয়া ত্যাগ করি ।
আর পেট ভর্তি করে খাওয়া অপেক্ষা মানুষের জন্য মন্দ দ্বিতীয় কোনো কাজ নেই ।আদম সন্তানের টিকে থাকার জন্য কয়েক লোকমাই যথেষ্ট ।যদি তা না করে তাহলে পেটের এক তৃতীয়াংশ পানি এক তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য খালি রাখে।
(ইবনে মাযাহ)।
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে দীর্ঘ জীবন লাভের জন্য খাওয়া-দাওয়ার প্রয়োজন বেশি নয় বরং পরিমিত খাওয়াটাই দীর্ঘজীবন লাভের চাবিকাঠি ।
বছরে এক মাস রোজা রাখার ফলে শরীরের অঙ্গ পতঙ্গ বিশ্রাম পায়।
এটা অনেকটা শিল্পকারখানার মতো। এতে মেশিনের আয়ুকাল বারে ও মানবদেহের যন্ত্রপাতির বৃদ্ধি পায়। আধুনিক পৃথিবীতে রোযার প্রতি চেতনা সৃষ্টি করার পিছনে ৭০ দশকের একটি বই অন্যান্য ভূমিকা পালন করেছে বিখ্যাত জার্মান চিকিৎসাবিদ ডাক্তার এর(The secret of successful) অর্থাৎ (উপবাসের গোপন রহস্য) বইটি।
তিনি জানান মানুষের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গঠন ও কার্যপ্রণালী বিশ্লেষণ করে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হলে বছরে কতিপয় দিন উপবাসের অভ্যাসের কথা।
তার মতে উপবাস খাবারের উপাদান থেকে সারা বছর জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থ( টক্সি ন) চবি ও আবর্জনা থেকে মুক্ত দান করে ।
ফলে শরীরের জমে থাকা বিষগুলো রমজান থেকে নির্গত অর্থে অগ্নিদগ্ধ হয়।
তা ধ্বংস না হলে শরীরের রক্তচাপ একজিমা পেটের পীড়া ইত্যাদি রোগ জন্ম নেয় ।
এছাড়াও উপবাসে কিডনি ও লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। মিশরের জাতীয় গবেষণাগারের প্রাণ-রসায়ন শিক্ষিক ডাক্তার মোহাম্মদ সাইয়েদ বলেন অনেকে বলে রোজা রাখলে শরীর দুর্বল হয় মাথায় চক্কর দেয় কিংবা ঘুমের প্রকোপ বেশি হয় ।

তিনি সেটা ভুল প্রমাণিত করেন ।রোজার মধ্যে দিনের খাদ্য গ্রহণ না করলে শরীরের ভিতর খাদ্য প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে। প্রতিরোধ ক্ষমতা আলফা-1ও গামা নামক প্রোটিন থেকে বৃদ্ধি পায় ।
ফলে ক্যালসিয়ামকে জমতে বাধা দেয়। আর ক্যালসিয়াম জমেই সৃষ্টি হয় পাথর।
বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে রমজানের দিনে তা গঠিত হতে পারেনা। একাদশ শতাব্দীর বিখ্যাত মুসলিম চিকিৎসা বিজ্ঞানী ইবনে-সিনা রোগীদের তিন সপ্তাহের জন্য উপবাস পালনের বিধান দিতেন।
ইসলামের একটি কল্যাণকামী বিধান রোযা নিয়ে 1958 সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ডাক্তার মুয়াযযম কর্তৃক (মানব শরীরের উপর রোযার প্রভাব) সম্পর্কে গবেষণায় উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য ।
রোযা মানব শরীরের কোন ক্ষতি করে না কেবল সামান্য ওজন কমায়। যারা মনে করে রোজা দ্বারা শূলবেদনা বেড়ে যায় তাদের এই ধারণা নিতান্তই অবাস্তব ।কারন উপবাসে পাকস্থলীর এসিড কমে এবং খেলেই বাড়ে ।
এই অতীব সত্য কথা না জেনে অনেক ডাক্তার শূলবেদনা রোগীকে রোজা রাখতে নিষেধ করেন ।এরপর পবিত্র রমজানের অন্য একটি ইবাদত তারাবি নিয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণা থেমে নাই ।
মিশরের শিক্ষিকা ডাক্তার সালওয়া রুশদি ৬০ বছরের বয়সের বেশি নারী-পুরুষের উপর চার বছর ব্যাপী এক মাস করে গবেষণা করে দেখেন তারাবি নামাজ হৃদরোগের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি ও শরীরের পেশীকে মজবুত করে ।

মেরুদন্ড সহ অন্যান্য জোড়াগুলোকে সহজ করে ও রক্তপ্রবাহকে অধিক ক্রিয়াশীল করে। ।তারাবিতে বেশী রুকু ও সিজদার ফলে রক্ত চলাচল ও শ্বাস গ্রহণ প্রক্রিয়া মান বৃদ্ধি পায়। গবেষকরা আরো বলেন পিঠে জয়েন্টে ও মাংসপেশিতে যত ব্যথা থাকুক তার উচিত তারাবী পড়া ।
এভাবে ইসলামের প্রতিটি বিধান নিয়ে চলে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
বিজ্ঞানের উন্নতিতে আজ পুরা পৃথিবী জানতে পারল ইসলামিই সুখ ও কল্যাণকর।
আসুন রমজানের প্রথম আবহে জীবনের সফলতা লাভের উদ্দেশ্যে রোজা রাখার নিয়তে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই ।

আর তাতেই নিহিত আছে মানুষের আরোগ্যলাভের গোপন রহস্য ।
ফলে সিয়াম সাধনায় আমরা হবো স্বাস্থ্যবান ও পবিত্র আত্মার অধিকারী।

আল্লাহ আমাদের সিয়াম ও তারাবী ভালোভাবে আদায় করার তৌফিক দান করুন । আমিন।

ইসলামী কলামিষ্ট, প্রাবন্ধিক।

Sharing is caring!