বাবা দিবসের ইতিহাস

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত জুন ২০, ২০২১
বাবা দিবসের ইতিহাস
  • আওয়ার বাংলাদেশ ডেস্ক 

পৃথিবীতে বাবা দিবস বা পিতৃ দিবস কত সাল থেকে শুরু হয় এর কোনও সঠিক দিনপঞ্জিকা জানা যায়নি। তবে মধ্যযুগ থেকে ইউরোপের ক্যাথলিক দেশগুলোতে মার্চের 29 তারিখ সেন্ট জোসেফ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

বর্তমান সময়ে আমেরিকার দেশগুলোতে প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রবিবার কে বাবা দিবস হিসাবে পালন করা হয়। সারা পৃথিবীতে মা দিবস নিয়ে যতটা গুরুত্ব সহকারে পালন করা হয় বাবা দিবস কেউ হয়তো এতটা গুরুত্ব দিয়ে পালন করা হয় না তবুও বাবা দিবস সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই জানার আগ্রহ রয়েছে চলুন বাবা দিবসের সকল খুঁটিনাটি বাবা দিবস সম্পর্কে কিছু কথা জেনে নেই।

বাবা দিবস কবে, কত তারিখ
বিশ শতাব্দীর প্রথম দিক থেকে বিশ্ব বাবা দিবস পালন শুরু হয়, সারা পৃথিবীতে ১১১ টির বেশি দেশীয় বাবা দিবস পালন করা হয় প্রতিবছর জুন মাসের তৃতীয় রবিবার। অর্থাৎ বিশ্ব বাবা দিবস হচ্ছে জুন মাসের তৃতীয় সপ্তাহের রবিবার

বাবা দিবস কীভাবে হলো বাবা দিবসের ইতিহাস
পৃথিবীতে বাবা দিবস কিভাবে প্রথম প্রচলিত হয় এ নিয়ে অনেকগুলো গল্প প্রচলিত রয়েছে, এর মধ্যে সবচাইতে বেশি প্রচলিত গল্প টি হল। বাবা দিবস সর্বপ্রথম যুক্তরাষ্ট্রে চালু হয় সেনোরা বিসমার্ক নামে একজন নারীর হাত ধরে।

সেনোরা জানতে পারেন তার পরিবারে অর্থাৎ তার মা ষষ্ঠ সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে মারা গেলে তার পুরো পরিবারটি তার বাবার আদরে বড় হয়ে ওঠে। সোনোরা ১৯০৯ সালে গির্জায় একটি বক্তব্য থেকে পৃথিবীতে মা দিবসের কথা জানতে পারেন তখন তার মনে হল পৃথিবীতে বাবার জন্য এরকম একটি দিবস থাকা উচিত।

পরে তিনি স্থানীয় কয়েকজন ধর্মযাজকের সাথে আইডিয়াটি শেয়ার করলে তারা এই আইডিয়াটি গ্রহণ করেন ধারণা করা হয় ১৯১০ সালের 19 জুন প্রথমবারের মতো বাবা দিবস পালন করা হয় যদিও সেটি কোনো আনুষ্ঠানিক ভাবে পালন করা হয়নি।

পরবর্তীতে ১৯৬৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন জনসন একটি সিদ্ধান্ত নেন প্রতি বছর জুনের তৃতীয় রবিবার বাবা দিবস হিসেবে পালন করা হবে এর ছয় বছর পর প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন বাবা দিবস নিয়ে একটি আইনে পরিণত করেন। এভাবেই পুরো পৃথিবীতে জন্ম নেয় স্বীকৃত একটি দিন বাবা দিবস হিসেবে। সারাবিশ্বে দিনটি পালন না করা হলো বিশ্বের ১১১ দেশে এটিকে পালন করা হয় ।

বাবা দিবসের প্রয়োজনীয়তা
সারা পৃথিবীতেই মা দিবসের মতো বাবা দিবসের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কিন্তু দেখা যায় মা দিবসটিকে যতটা গুরুত্বের সাথে দেখা হয় বাবা দিবস ঠিক ততটা গুরুত্ব দিয়ে পালন বা উদযাপন করা হয় না। বাবা দিবসের গুরুত্ব যে একেবারে কম এটা বলা যাবে না কেননা সন্তানের জন্য বাবার ভালোবাসা অসীম। মোগল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট বাবর আজম সন্তানের প্রতি ভালোবাসার এই অনন্য উদাহরন হয় আছেন। সম্রাট বাবর সন্তানের জীবনের বিনিময়ে নিজের জীবন ত্যাগ করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি।

এমন স্বার্থহীন বাবার জন্য পৃথিবীতে একটা দিবস থাকা গুরুত্বহীন ও প্রয়োজনীয় নয় বরং এরকম একটা দিবসকে সঠিক মূল্যায়ন করে বাবা দের প্রতি ভালবাসা জ্ঞাপন করা উচিত। অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায় তারা বাবা-মার প্রতি একেবারেই উদাসীন অন্তত বাবা-মার প্রতি তাদের ভালোবাসা প্রকাশ পাওয়ার একটা সুযোগ তৈরি হয়।

বাবা দিবস কীভাবে পালন করা হয়?
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাবা দিবসকে বিভিন্নভাবে উদযাপন করা হয় তো আমরা আজকে পৃথিবীর কয়েকটি দেশকে কিভাবে বাবা দিবস উদযাপন করা হয় সে সম্পর্কে জানবো।

থাইল্যান্ড যেভাবে পালন করা হয় বাবা দিবস
থাইল্যান্ড বাসীরা বাবা দিবসে হলুদ রঙের কাপড় পরিধান করে এটিকে তাদের প্রথা মনে করা হয়। থাইল্যান্ড বাবা দিবস পালন করা হয় সদ্য প্রয়াত ও রাজা ভূমিবল আদুলিয়াদেজের জন্মদিন 5 ডিসেম্বর। যাকে দেশটির জনক বলে মনে করা হয়।

মেক্সিকোতে যেভাবে পালন করা হয় বাবা দিবস
মেক্সিকোতে বাবা দিবস উদযাপিত হয় জুন মাসের তৃতীয় রবিবার, এদিন মেক্সিকোর রাজধানী শহরে তিন মাইল লম্বা একটি দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা 13 মাইল লম্বা এই দৌড় প্রতিযোগিতায় বাবাদের সঙ্গে অংশ নিয়ে থাকেন সন্তানেরাও।

বাবা দিবস পালন করা হয় যেভাবে
দিবসটিকে ফরাসি দেশটিতে ঐতিহাসিক গত ভাবে একটি ক্যাথলিক উৎসব মনে করা হয়। তবে এটিকে উনিশ শতকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পূর্ণ প্রচলন ঘটানো হয়। ফরাসিরা এইদিন বাবাকে গোলাপ দিয়ে থাকেন আর বাবা যদি মৃত থাকেন তাহলে তার সমাধিতে সাদা গোলাপ রেখে আসেন ।

বাংলাদেশে বাবা দিবস
বাংলাদেশ দিবসটির কথা আলোচনার পূর্বে অবশ্যই একটি কথা আমাদের সকলের জানা উচিত আমাদের দেশে যে পরিমাণ বৃদ্ধাশ্রম পাওয়া যায় পৃথিবীর অন্য দেশগুলোতে এতগুলো বৃদ্ধাশ্রম রয়েছে কিনা তা হয়তো সঠিকভাবে জানা যায়নি। তবে অনুমানের উপর নির্ভর করে বলা যেতে পারে পৃথিবীর সবগুলো দেশের হয়তো এতগুলো বৃদ্ধাশ্রমের যতগুলো বাংলাদেশে রয়েছে। হতে যাচ্ছে আমাদের দেশে বাবাদের প্রতি সন্তানদের কতটা উদাসীনতা রয়েছে আমাদের দেশে বাবা দিবস কে সঠিকভাবে পালন করা উচিত এতে বাবাদের প্রতি সন্তানের ভালোবাসা শ্রদ্ধা বোধ জন্মানো সম্ভব।

বাবা দিবস পালন হোক কিংবা পালিত না হোক সন্তানদের প্রতি ভালবাসা থাকবে চিরকাল এমনটাই আশা করি এমন একটা পৃথিবী তৈরি হবে এটাই আমাদের স্বপ্ন ।

Sharing is caring!