বাংলা নয় সংস্কৃতই বাংলার কাছে ঋণী: আওয়ার বাংলাদেশ

আওয়ার বাংলাদেশ ডেস্ক ২৪
প্রকাশিত আগস্ট ১৭, ২০২১
বাংলা নয় সংস্কৃতই বাংলার কাছে ঋণী: আওয়ার বাংলাদেশ
  • মুহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম গ্রন্থকার 

প্রচলিত অভিধানসমূহে তৎসম বলে চিহ্নিত শব্দসমূহের অর্ধেকের বেশি দেশি কিংবা আরবি ও ফারসি উৎসের। কল্পিত ব্যুৎপত্তি দেখিয়ে যাদের সংস্কৃতের চাদর পরানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রচুর বিদেশি শব্দকেও সংস্কৃত বানিয়ে অভিধানে পরিবেশন করা হয়েছে।. . . কিছু কিছু বৈয়াকরণ দেশি আরবি ও ফারসি শব্দকে নানা কুটকৌশলের মাধ্যমে সংস্কৃতের লেবাস পরিয়ে দিয়েছেন।. . .
আমরা পড়ি না, গবেষণাও করি না শুধু চিল্লাচিল্লি করি। তাই তাঁদের এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো শক্ত যুক্তি তুলে ধরতে না পেরে হাবাগোবার মতো মেনে নিচ্ছি। মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছি। মাঝে মাঝে বুঝতে পেরে অসহায়ের মতো আর্ত চিৎকার করছি। এ চিৎকারে শোরগোল আছে, কোনো যুক্তি নেই। পড়ি না যুক্তি পাব কোত্থেকে?
. . . সংস্কৃতের খুব কম শব্দই বাংলায় এসেছে। বরং সংস্কৃতই বাংলা (প্রাচীন বাংলা) থেকে শব্দ নিয়ে সমৃদ্ধ হয়েছে। সংস্কৃত তো কোনো স্বতন্ত্র ভাষাই নয়, বরং দেশীয় ভাষাকে সংস্কার করে দেশীয় শব্দে বানানো একটি কৃত্রিম ভাষা। কিন্তু অকৃতজ্ঞের মতো সংস্কৃত পণ্ডিতবর্গ তা স্বীকার করেন না। বাংলায় পুষ্ট হয়ে বাংলাকে বলে অস্পৃশ্য। . . .ঠিক যেমন পরভৃত।
. . .আদি শব্দ হত্থ, তা একটু সংস্কার করে সংস্কৃত করেছে হস্ত, . . .। অথচ বলছে, উলটো। . . .। আমার এ তথ্য সত্য নয়, এটা প্রমাণ করতে পারবেন?
তারপরও মরে গেল ভাষাটি। এটাই হচ্ছে নিয়তি, প্রকৃতির বিচার।. . . বাংলা সংস্কৃতের কাছে নয়, বরং সংস্কৃতই বাংলার কাছে ঋণী।

“বাংলা ডিকশনারিতে যে কোনও শব্দকে প্রথমেই সংস্কৃতের ঝুড়িতে ফেলে দেওয়া হয়। পরে দেখা যায় তার অনেকগুলোই মুণ্ডা বা দ্রাবিড়ে যাচ্ছে। পণ্ডিতরা কোনও শব্দের ব্যুৎপত্তিতে শব্দটা মুণ্ডা দ্রাবিড় আরবি পারসি হলে ব্যাপারটা ঘেঁটে ফেলছেন কিংবা দেশি বা যাবনিক বলে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছেন। ওনাদের ওপর ভরসা করে সব কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। বাঙালিকে অনেক পড়াশোনা করতে হবে। বাঙলা ডিকশনারি নতুন করে লিখতে হবে। “

Sharing is caring!