বাংলার আকাশে উজ্জ্বল এক নক্ষত্র মাওলানা হাফিজুর রহমান সিদ্দিকী

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত নভেম্বর ২৭, ২০১৯
বাংলার আকাশে উজ্জ্বল এক নক্ষত্র মাওলানা হাফিজুর রহমান সিদ্দিকী

ডা. মো. ইব্রাহিম খলিল

ডিএইচএমএস, ঢাকা। 

গতকাল দিনের বেলায় নওগাঁ জেলার পোরশা উপজেলায় মাওলানা হাফিজুর রহমান সিদ্দিকী কুয়াকাটা হুজুরের মাহফিল ছিল। আয়োজকদের মধ্যে আমিও একজন ছিলাম। পোরশার কিছু তরুণ যুবকদের অত্যধিক পরিশ্রম আর আরামের ঘুম হারাম করে কঠিন মেহনতের বদৌলতে একটি ঐতিহাসিক ইসলামী মহাসম্মেলন সফল করতে সক্ষম হয়েছে। খুব অল্প সময়ে এমন সুন্দর গোছানো পরিচ্ছন্ন মাহফিল হবে কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।

সরাইগাছী কালীনগর হাইস্কুল ময়দান একটি বিশাল মাঠ, এই মাঠে বিগত দিনে বড় বড় হাজারো প্রোগ্রাম হয়েছে, এটি একটি ঐতিহাসিক মাঠও বলা চলে, দেশের এমন কোন বড় রাজনীতিবিদ নাই, এমন কোন বড় আলেম নাই, এমন কোন পীর মাশায়েখ নাই যে, এখানে কেউ বয়ান বক্তৃতা করেননি। সেই মাঠটি গতকাল কাণায় কাণায় ভর্তি ছিলো, দিনের বেলায় এমন বৃহৎ সম্মেলন হবে, এত লোকের সমাগম হবে চিন্তারও বাইরে ছিলো।

পোরশার জীবনে এটি একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। নির্ধারিত সময়ে হেলিকপ্টারে কুয়াকাটা হুজুর আসবে বলে আশপাশ হতে মানুষ আর মানুষ আসা শুরু করে। দুপুরের আগেই মাঠ ভর্তি হয়ে যায়। হুজুরকে রিসিভ করে, খুব দ্রুত খাবার খাইয়ে যখন স্টেজে তুলি আমরা, তখন অবস্থা খুবই বেগতিক, মানুষের ভিড় ঠেলে নিয়ে যাই। আগে হতে একদল চৌকস স্বেচ্ছাসেবক রেডি করে রাখা হয়েছিল। মাহফিল শেষ অবধি কোন ঝামেলা হয়নি। আমরা চোখ কান খোলা রেখে সব কাজ আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছিলাম। মাহফিল যাতে সঠিকভাবে হতে না পারে, সেজন্য কিছু ভাই অপচেষ্টা চালিয়েছিল, কিছু গুজব রটিয়েছিলো, আল্লাহ্‌র রহমতে অবশেষে কেউ কোনকিছু বিঘ্নতা সৃষ্টি করতে পারেনি, আমরা কৌশলে সেগুলো দমিয়ে দামিয়ে মাহফিলের কাজ চালিয়ে গেছি।

একজন মাওলানা হাফিজুর রহমান সিদ্দিকী মানুষের কতটা কাছের, কতটা জনপ্রিয়, গতকালের কিছু দৃশ্য না দেখলে বুঝা মুশকিল। আমি খুব কাছ হতে অনুধাবন করলাম, আসলেই তাঁর জনপ্রিয়তা হিংসে করার মতই, যারা হিংসে করে তারা তাঁর এই বিশাল জনপ্রিয়তা দেখে হিংসে করবেই। এটি আল্লাহ্‌ পাকের বিশেষ অনুগ্রহ তাঁর প্রতি। মানুষ তাঁকে একনজর দেখার জন্য, দূর হতে তাঁর বয়ান শুনার জন্য কতটা ব্যাকুল তা স্বচক্ষে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবেনা। আপনি চিল্লাইতে পারবেন, আপনি হাত পা উঁচু করে লাফাইতে পারবেন, কিন্তু মার্কেট পাওন অত সোজা নয়। আপনাকে মানুষ পছন্দ করেনা, সেটা আপনার অযোগ্যতা, কিন্তু একজন সিদ্দিকী কুয়াকাটার কথা মানুষ শুনে, মানুষ পঙ্গপালের মত ছুটে আসে, মাহফিলে জনতার ঢল নামে, এটা তাঁর অর্জন, এটাই একজন বক্তার গ্রহণযোগ্যতা, এটাই সফলতা।

যার কথা মানুষ মনোযোগ দিয়ে শুনে সে অন্য কাউকে নিয়ে কোন মন্তব্য করেনা, অন্যদের নিয়ে পড়ে থাকেনা। যাদের কথা মানুষ গিলেনা, শুনেনা, তারাই সফল মানুষদের নিয়ে পড়ে থাকে, পিছনে লেগে থাকে, তাঁর চলার পথকে রুদ্ধ করে দিতে পরিকল্পনা করে। গতকাল আলাপের এক ফাঁকে হুজুর আমার কানে কানে বললেন, ভাই আমি মানুষ, আমার ভুল হতে পারে, আমি মুরুব্বীদের মন থেকে সম্মান করি, আমার ভুল যদি কেউ ধরিয়ে দেয়, আমি মাথা পেতে মেনে নিব, সেই মোতাবেক চলার চেষ্টা করব। আমি কোন মুরুব্বীকে নিয়ে কিছু বলার সাহস করিনা, তাঁরা আমার চলার পথের আকাবির। এই কথাটি শুনে ভালো লাগলো, কতটা বিনয়ী কতটা শ্রদ্ধাশীল মুরুব্বীদের প্রতি মাওলানা হাফিজুর রহমান সিদ্দিকী। বিনয়ী আদবী লোকগুলিই পারে উন্নতির উচ্চ শিখরে আরোহণ করতে।

গতকাল বায়ানের সময় আমি হুজুরের পাশেই বসেছিলাম, উনার বামপাশে উত্তরবঙ্গের বৃহৎ মাদ্রাসা, আল জামিয়াতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ’র সম্মানিত মুহতামীম, এলাকার সর্বজন শ্রদ্ধেয় মুরুব্বী হুজুর বসা ছিলেন, ডানপাশে উক্ত মাদ্রাসার শায়খুল হাদীস হুজুর বসা ছিলেন। দুজনই বয়বৃদ্ধ মুরুব্বী, উনারা অনেক বড় মাপের আলেম, হাজার হাজার ছাত্রের উস্তাদ, কুয়াকাটার মত লাখো ছাত্রের উস্তাদুল আসাতিজা। কালকে বয়ানের সময় দেখলাম, উনারা অঝোরে কাঁদছেন, এই বিষয়টি একটু তাহকিক করলেই অনেক কিছুই বের হয়ে আসবে। কতটুকু দীলে দাগ কাটলে চোখে পানি আসে। ষ্টেজের সামনে হাজারো যুবকের চোখে পানি দেখেছি। দিনের বেলায় এরকম পরিবেশ সৃষ্টি হয় না দেখলে বিশ্বাস করতে কষ্ট হত।

মাওলানা হাফিজুর রহমান সিদ্দিকী কুয়াকাটার জন্য মানুষ এত পাগল কেন? তাঁর বয়ান শুনার জন্য মানুষ কেন এত উদগ্রীব থাকে? আসলে তাঁর বয়ানে একটা যাদু আছে, একটা মায়াবী টান আছে, একটা দরদী আহ্বান আছে, একটা পরিবর্তনের আকর্ষণীয় মোহনীয় ব্যাপার আছে। আপনার গলা ফাটা বাঁশের মত হলে কেউই বয়ান শুনতে চাইবেনা, এতে কিছুই করার নাই, আপনাকে আল্লাহ্‌ দেয়নি। কুয়াকাটাকে আল্লাহ্‌ দিয়েছেন, এটা নিয়ে হিংসে করার কিছুই নাই। আপনার কথায় আছর পড়েনা, আপনার কথা মানুষের দীলে নাড়া দেয়না, এটা আপনার অযোগ্যতা, কুয়াকাটার কথায় মানুষ চোখের পানি ফেলে, পরিবর্তন হয়ে দীনের পথে চলে, এটা তাঁর যোগ্যতা, এখানে হিংসে করে কোন লাভ নাই। মুরুব্বীদের দোয়া আর আল্লাহ্‌র অশেষ রহমতের ফল হচ্ছে এই কবুলিয়াত।

তিনি কন্টাক্ট করেন, আপনি কি স্বচক্ষে দেখেছেন? আর করলেই বা তাতে আপনার সমস্যা কি? বছরে তিন হাজার মাহফিলের চাহিদা, উনি করতে পারবেন সর্বোচ্চ তিনশত’র মত। বাকী লোকগুলি কি করবে তাহলে? সময় বাঁচাতে, মাহফিল পেতে, মানুষ এখন হেলিকপ্টারে সকালে দুপুরে বিকালে মাহফিল নিতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। বোরাক থাকলে পাবলিক তাতেও নিত, এত চাহিদা তাঁর।

আপনার মাহফিলে মাদ্রাসার নির্দিষ্ট কিছু ছাত্র আলেম ওলামা আসে, কিন্তু কুয়াকাটা হুজুরের মাহফিলে সাধারণ মানুষ, কুলি মজদুর, কৃষক জেলে তাতী সহজ সরল অবলা মা বোনেরা আসে, তারা অত জটিল বিষয় বুঝতে পারেনা, কুয়াকাটার সহজ সরল কথা আর মায়াবী টানে হৃদয়ে একটা অনুভূতির সৃষ্টি করে, আর এতেই দীনের পথে চলতে তারা উদ্যোগী হয়।

আপনার সন্তানকেই তো মানুষ এত সম্মান করে নিয়ে যাচ্ছে, আপনার এত লাগছে কেন? আপনি কয়টা মাহফিল করে দীনের দাওয়াত দিচ্ছেন? আপনি দিনে একটি মাহফিল করেই তো কাইত হয়ে পড়েন, গরম পানি, আদা লবঙ্গ চা, খাদেম, এসি প্রাইভেট কার দিয়েও অনেক সময় আপনার খেদমত সঠিকভাবে হচ্ছেনা বলেন। আপনি বৃদ্ধ মানুষ, আপনি দিনে একটির বেশী মাহফিল করতে পারবেননা, কুয়াকাটা ৬/৭টি করতে পারলে করুক, তাতে অসুবিধা কি? দিনে এতগুলি মাহফিল করতে হলে তো হেলিকপ্টার লাগবেই।

আমিও নিজেও হেলিকপ্টারের বিরোধীতা করেছি একসময়, এসব পছন্দ করতামনা, কিন্তু এখন বাস্তবতায় দেখছি এ ছাড়া তাঁর কোন গতি নাই। আবার যদি না যায়, তাহলে আমরাই বলব, কুয়াকাটার এত ডিমান্ড কেন? এত ভাব কেন? এত কিসের ডায়েরি ফিলাপ থাকে? ভাইরে, আপনি আমি চিন্তা করছি একটি ডেট না পেয়ে, এলাকাভিত্তিক না পেয়ে হিসেব করছি, আর কুয়াকাটা সারা দেশ নিয়ে হিসেব করে পোগ্রাম সেট করতে হয়। সেতো কোন বিভাগওয়ারী দলীয় কর্মসূচীর সিরিয়াল অনুযায়ী চলেনা। আজ উত্তরবঙ্গে তো কাল দক্ষিণবঙ্গে ছুটতে হয় তাঁকে।

কন্টাক্ট নিয়ে বলার কিছু নাই, আপনার চাহিদা যেমন পাবলিক আপনাকে দেয় তেমন। এটাই বাস্তবতা। আপনার মাহফিলে উপস্থিতি যা হয়, তাতে কালেকশন যা হয়, তা দিয়ে আপনাকে হাদীয়া দেওয়া মাহফিল কর্তৃপক্ষের কষ্ট হয়ে যায়। আর কুয়াকাটার মাহফিলে আল্লাহ্‌র রহমতে এত উপস্থিতি হয় যে, কালেকশন যা হয়, তা থেকে অনেক টাকা দিয়েও মাহফিল কর্তৃপক্ষের অনেক বেঁচে যায়।

চাচা এবার হিসেব করেন, আপনি মাহফিল কর্তৃপক্ষের গলার কাঁটা না কুয়াকাটা গলার কাঁটা? কে গলা কাটে আর কার তলা ফাটে বুঝার চেষ্টা করুন এবার। আর যদি ব্যাবসার কথা বলেন, তাহলে বলতে হবে আপনাদের দিয়েও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কিছু আশা করে, আপনাদের দ্বারা কিছু ফান্ড হোক। কিন্তু শেষে দেখা যায়, আপনারা ৫০ হাজার টাকা কালেক্ট করলে, আপনাদের বিদায় করতে মাহফিল কর্তৃপক্ষের পরে আর কিছু থাকেনা, শেষে আরো ঋণ থাকে। আর মাওলানা হাফিজুর রহমান সিদ্দিকী কুয়াকাটাকে দিয়ে মাঠে একটা ঝাড়া দিলেই কয়েক লক্ষ টাকা চলে আসে, তাঁকে বেশী টাকা দিলেও বিশাল একটি অংক মাদ্রাসা ফান্ডে থেকে যায়। এখন আপনিই হিসেব করেন কে কার লাভ করে দিচ্ছে, আর কে কার উন্নতি করে দিচ্ছে, বরং আপনিই গলার কাঁটা হয়ে যাচ্ছেন অনেক মাহফিল কর্তৃপক্ষের, (ব্যাবসার দিক হতে চিন্তা করলে)।

গতকাল আমার এক পরিচিত পানের দোকানদারকে দেখলাম, সে ৫০০/= টাকা দিয়েছে, যে কিনা কোন মাহফিলে ২০ টাকা দিতে চায় না। জিজ্ঞাসা করলাম, কি ব্যাপার! সে বলল, কুয়াকাটা হুজুরের বয়ান সবসময় শুনে, শুনতে শুনতে সে পান বিক্রি করে, আগে গান শুনতো, এখন বয়ান শুনে, তার এলাকায় আসছে, সে হুজুরের বড় ভক্ত তাই সামান্য পান দোকানদার হয়েও ৫০০/= দিয়েছে। আরেকজন কে যেন বলল, এক মাহফিল হতে মহিলারা ৫৪টি নাকফুল খুলে দিয়েছে। আপনার মাহফিলে কয়জন এমন নাকফুল খুলে দিয়েছে হিসেব করলেই বুঝতে পারবেন, মাহফিল কর্তৃপক্ষেরও খরচের দিকটা দেখতে হবে তাইনা?

এই যুবকরাই চাঁদা তুলে গানের আসর বসাতো, চাঁদা তুলে গায়কদের লক্ষ লক্ষ টাকা দিত, তখন তো আপনার কোন ভূমিকা দেখেনি, বড় আলেম হবার কারণে আপনার কাছে সাধারণেরা তো ভিড়তেই পারেনা, দু-একটা গানবাজনার অনুষ্ঠান বন্ধ করতে পেরেছেন বলে মনে আসছেনা। আজ এই যুবকেরাই মাহফিল করছে, চাঁদা তুলে কুয়াকাটা হুজুরকে দিয়ে মাহফিল করছে, আজ এরকম গানবাজনা সবখানেই বন্ধের মত, মাহফিলের কারণে কোন গানবাজনা অনুষ্ঠানে তারা সম্পৃক্ত হচ্ছেনা, সেখানে তাঁকে সাধুবাদ জানিয়ে সামনে চলতে সহায়তা করবেন, তা না করে কেন তাঁকে গলাকাটা বলে উম্মাতের সামনে ফেতনা সৃষ্টি করছেন?

কন্টাক্ট করেনা কে? কায়দা করে সবাই কন্টাক্ট করে। একবছর একটু কম দিলে পরের বছর আর তার খোমা দেখা যায়না, আসতে চায়না, ডেট দিতে চায়না, মিথ্যা কথা বলে, ডায়েরি খালী নাই বলে।

আপনি যে মাঠের মাহফিলে গলাকাটা বলে একটি মহলের দিকে আঙ্গুল তুললেন, সে মাহফিলের আয়োজক সবাই আমার খুব পরিচিত, বাজার মসজিদের খতিব আমার চাচা হন, সার্বিক পরিচালনায় যিনি ছিলেন, তিনি আমাদের দায়িত্বশীল, প্রায় সব আমাদের লোকই, তাঁদের হতে শুনলাম, আপনি নিয়েছেন ৪৫ হাজার, আর যার কথা বলেছেন, যার পায়ের ধূলার সমান কেউ নয় বলেছেন, সে নিয়েছে ৩৫ হাজার টাকা।

ঢাকা হতে আসা যাওয়া ভাড়া ২৬০ এসি বাসে, তাহলে এত টাকা নিলেন কেন? সিলেট হতে আসা যাওয়া সর্বোচ্চ ৮০০ টাকা, তাহলে এত টাকা নিলো কেন? টাকাগুলো কোত্থেকে আসে? আপনাকে যদি মানুষ আরো দেয় তাতেও আমাদের কোন মাথাব্যাথা নাই, কারণ মানুষ আলেম ওলামাদের দিক, তাঁদের মূল্যায়ন করতে শিখুক। আপনি নিলে সমস্যা যদি না থাকে, তাহলে কুয়াকাটাকে দিলে আপনার আমার সমস্যা কেন হবে? নিজের বেলায় যদি ৪৫ নিতে সমস্যা না হয়, অন্যরা ৭০/৭৫ নিলে সমস্যা কেন হবে? আপনি বলছেন, ১০/১৫ নিলেই তো হয়, তো আপনি কেন ৪৫ নিচ্ছেন? ১০/১৫ দিয়ে আপনি আমাকে কয়েকটি ডেট দিবেন? তা দিতে পারবেননা এটাই জানি।

মাওলানা হাফিজুর রহমান সিদ্দিকীকে কোন দলীয় লোক খতিবুল উম্মাহ খেতাব দেয়নি, দেশের একজন শীর্ষ আলেমেদীন দিয়েছেন। আপনিও তাঁকে পাশে বসিয়ে অনেক প্রোগ্রাম করেছেন। দেশের একজন শীর্ষ ব্যাক্তিত্ব মুফতী মিজানুর রহমান সাঈদ হুজুর হাফিজাহুল্লাহ তাঁকে খেলাফত দিয়েছেন।

কুয়াকাটা আমাদেরই সন্তান, আমাদেরই অহংকার, সে একটি নক্ষত্র, তাঁকে টিকিয়ে রাখা, বুকে আগলে রাখা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এমন নক্ষত্র শত বছরে একজন হয়না। আজ বয়ানের ময়দানে সে আহলে হকের মাঝে অন্যতম স্পীকার। তাঁর জায়গা এখন অনেক উপরে, আমরা তাঁকে আরো উপরে দেখতে চাই, তাঁর জন্য দোয়া করা সফলতা কামনা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এ লোকটি আমাদের আঘাতের দ্বারা নিভে গেলে কে দখল করবে এ জায়গাটি?

আজ সবখানেই তাঁর চাহিদা, কোন বেদাতী বা অন্য কোন ভিন্ন আকীদার বক্তাদের চাহিদা তেমন নাই, সবাইকে ছাড়িয়ে জনগণের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন এই যুবকটি। মাঠের অবস্থান দেখে ভিন্ন মতাবলম্বীর বক্তারাও তাঁর কাছে গিয়ে দোয়া নিয়ে আসছেন।

সে চরমোনাইর একটি সম্পদ, তাঁর বিরোধীতা মানেই চরমোনাইকে দমানোর চেষ্টা করা, অত সহজ নয় তাঁকে দমানো। তাঁর লক্ষ কোটি ভক্তবৃন্দ আছে, তাঁকে নিয়ে কেউ কটুক্তি করলে সেই বিতর্কিত হয়ে যাবে।

হে কুয়াকাটার যুবক সিদ্দিকী, তুমি এগিয়ে চল, কোনদিকে কান দেওয়ার দরকার নাই, আল্লাহ্‌ই তোমার জন্য যথেষ্ট। আমরা আছি তোমার সাথে।

 

 

ফেইসবুক টাইমলাইন থেকে….

Sharing is caring!