বাঁশখালীর এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মে ২৩, ২০২০
বাঁশখালীর এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

অালমগীর ইসলামাবাদী (চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি):
করোনা সংকটে কর্মহীন অসহায় মানুষের মধ্যে সরকারের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির ত্রাণ বিতরণের তালিকা প্রণয়ন ও বরাদ্দ করা খাদ্যসামগ্রী বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ৬ নং বৈলছড়ী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. কপিল উদ্দীনের বিরুদ্ধে।

ত্রাণ বিতরণের জন্য তালিকা প্রণয়ন ছাড়াও সরকারের খাদ্য সহায়তার অংশ হিসেবে বরাদ্দ করা খাদ্য সামগ্রী বিতরণেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগও আনা হয়েছে।

জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোমেনা আক্তারের কাছে গত (১৮ মে) কপিল উদ্দীনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন একই ইউনিয়ন পরিষদের তিন ইউপি সদস্য।

লিখিত অভিযোগে থেকে জানা যায়, বর্তমান মহামারী করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে সৃষ্ট দূর্যোগের বিশেষ মানবিক সহায়তার বাস্তবায়নে সরকারী র্নিদেশনা ২০২০ নীতিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, পরিষদের মেম্বাদের ও সংরক্ষিত আসনের মেম্বারদের সমন্নয়ে কমিটি গঠন করে গরীব দূঃস্থ বস্তিবাসী, ভাসমান মানুষ ,প্রতিবন্ধী , বয়স্ক ব্যক্তি, ভিক্ষুক, ভবঘুরে, বেকার শ্রমিক, রেষ্টুরেন্ট শ্রমিক, ফেরিওয়ালা, চা শ্রমিক, চা দোকানদার, দিনমজুর, রিক্সা/ভ্যানগাড়ি চালক, বিধাব নারী, বেদে ও হিজড়া সম্প্রদায়, পথশিশু, নিম্ম মধ্যবিত্ত আয়ের লোক সহ মানবিক সহায়তা পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের তালিকা নির্ভুলভাবে তৈরি করতে হবে ।

কিন্তু চেয়ারম্যান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে পাঠানো ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে নিজে একক প্রভাব খাটিয়ে ইচ্ছামাফিক তালিকা প্রণয়ন করেছেন। এছাড়া ত্রাণ বরাদ্দের বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি ইউপি সদস্য মোঃ খালেক, নুর মোঃ জামাল উদ্দীন ও মোঃ দিদারুল হককে “কোনো অনুদান আসেনি। তোদেরকে কোন বরাদ্দ দেব না ,যা পারিস কর” বলে গালিগালাজ করে লাঞ্চিত ও অপমান করেন।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, এর আগেও বিভিন্ন সময় সরকার ইউনিয়ন পরিষদ বরাবর অনুদান বা ত্রাণ পাঠালে তা নিজের ইচ্ছামতো বিতরণ করেন চেয়ারম্যান কপিল। এমন কি ত্রান কমিটির বিষয়ে আমাদের তিন জনকে কোন প্রকার চিঠি বা মৌখিকভাবে ও অবগত করেননি তিনি। চেয়ারম্যানের করা তালিকায় গরীব ,দুঃস্থ, অসহায় লোকজনকে বাদ দিয়ে রাজনীতি করে এরকম বিত্তশালী ব্যক্তিকে মানবিক সহায়তা পাওয়ার তালিকায় নাম দেয়া হয়েছে। উক্ত তালিকার ২৪০ নং ক্রমিকে চেচুরিয়া ৮ নং ওর্য়াডের মৃত ফরিদ আহমদের পুত্র রাশেদ আলীর নাম রয়েছে, যিনি বিগত ইউপি নির্বাচনে র্বতমান আওয়ামীলীগ সর্মথিত বৈলছড়ি ইউনিয়ন থেকে ২ বার শক্তিশালী ক্ষমতাবান চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ছিলেন। তিনি বাঁশখালী এতিহ্যবাহী এক জমিদার পরিবারের সন্তান। ৪১ নং ক্রমিকে আছে বৈলছড়ী ২ নং ওয়ার্ডের মৃত মঞ্জুর আহমদের চৌধুরীর পুত্র মোঃ ইউনুছ৷ তিনি শুধু বিত্তবান নন, একজন প্রতিষ্ঠিত কাঠব্যবসায়ী ও তার একছেলে সরকারী চাকুরীজিবী৷ ৭২ নং ক্রমিকে ৩ নং ওয়ার্ডের মোঃ কামাল বশরের স্ত্রী জারিয়া ও ৩৯ নং ক্রমিকে মৃত নরুল কবির চৌধুরীর স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস তারা অঢেল ধন সম্পদ ও মার্কেটের মালিক৷ ২৬১ নং ক্রমিকে চেচুরিয়া ৮ নং ওয়ার্ডের নবাব আলীর পুত্র শাহিন শাহ নামের একজন ব্যাংক র্কমকর্তার নাম মানবিক সহায়তা পাওয়ার তালিকায় রাখা হয়েছে। তদন্ত করলে আরো অনেক বিত্তশালীদের উক্ত তালিকায় পাওয়া যাবে।

অন্যদিকে বিগত আড়াই বছর যাবৎ তিনি ইউনিয়ন পরিষদ কার্য পরিচালনা না করে নিজ বাড়িতে পরিষদের র্কাযক্রম পরিচালনা করে এবং ইউপি সদস্যদের সরকার নির্ধারিত ৮ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা হইতে ৪ হাজার ৪ শত টাকা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেওয়ার নিয়ম থাকলে ও তাদেরকে তিন বছর যাবৎ কোন প্রকার সরকারী ভাতা প্রদান করেন নি বলে ও অভিযোগে উঠে আসে। বিশেষ করে এই করোনা পরিস্থিতিতে ত্রাণ এলেও নিজ এলাকার প্রকৃত অভাবীরা তা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় অসহায় বোধ করছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তিন ইউপি সদস্য।

এ অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ কপিল উদ্দীন বলেন, জেলা প্রশাসক ও ইউএনও বরাবরে কী বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, তা সঠিক জানা নেই।

Sharing is caring!