বাঁশখালীতে বিদ্যুতের তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ট জনজীবন

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত আগস্ট ১৬, ২০২০
বাঁশখালীতে বিদ্যুতের তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ট জনজীবন
  • আলমগীর ইসলামাবাদী 
  • বিশেষ প্রতিনিধি

ব্যাপক লোডশেডিংয়ের কারণে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বিদ্যুৎ সমস্যা দিন দিন প্রকট হয়ে উঠেছে। আকাশে মেঘ, বৃষ্টি, রৌদ্রের খরতাপ হলেই বিদ্যুতের আসা-যাওয়া শুরু হয় বাঁশখালীতে। ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন।

সামান্য বাতাস হলেও বিদ্যুৎ চলে যায়। প্রতিদিন গড়ে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হচ্ছে এ উপজেলার মানুষকে। যা প্রতিদিনের নিয়মে পরিণত হয়েছে। গ্রাহকদের অভিযোগ সারাদিন কতবার বিদ্যুতের আসা-যওয়া তার হিসাব রাখা কঠিন। তবে সন্ধ্যার পর এ সমস্যা আরও বাড়ে। বিদ্যুতের ভেলকিবাজীতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। বিদ্যুৎ বিভাগের বক্তব্য হলো রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য সাময়িক বন্ধ রাখা হচ্ছে বিদ্যুৎ প্রবাহ। সাময়িক বন্ধ ও অঘোষিত বিদ্যুৎ চলে গেলে একাধারে বার ঘণ্টা কিংবা কখনো কখনো চব্বিশ ঘণ্টা পর্যন্ত গড়াতে দেখা যায়।

ঘন ঘন লোডশেডিংএর ফলে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগকে তাদের কাজেকর্মে আরো দায়িত্বশীলতা হতে হবে বলে দাবি জনগণের। বিতরণ বিভাগের অব্যবস্থাপনার কারণেই এমন দুর্ভোগ বলে অভিযোগ গ্রাহকদের। বাঁশখালী উপজেলা বিদ্যুতের গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ৯৬,০০০ হাজার। বিতরণ ব্যবস্থায় রয়েছে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১। সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকায় গেলে বিদ্যুৎ না পেয়ে ক্ষোভের কথা জানান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এলাকাবাসী জানান, বিগত কয়েক মাস ধরে উপজেলায় ব্যাপক লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। ফলে বিপর্যস্থা হয়ে পড়েছে জনজীবন। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ছিল বিদ্যুৎবিহীন। এদিকে ঘন ঘন লোডশেডিং হলেও মাস শেষে তাদের ইচ্ছে মত স্বাধীন ইউনিট বসিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ মোটা অংকের বিল ধরিয়ে দিচ্ছে। দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুৎ না পেয়েও অতিরিক্ত বিল দিতে অনেক গ্রাহকই বিল পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে। এছাড়াও অনেকেই লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে ফেসবুকে বিভিন্ন ভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তাদের মধ্যে মোঃ সাইদুল ইসলাম তার ফেসবুক লিখেছেন, ‘বাতাস নাই, বৃষ্টি নাই, আসমানে গুনগুনানীও নাই তবুও কেন বাঁশখালীতে বিদ্যুৎ নাই ? অভিশপ্ত পল্লী বিদ্যুৎ।

‘ মোঃ শিবির আহমদ রানা তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘বাঁশখালী এমন একটা জনপদ যেখানে লোডশেডিং থাকবেই থাকবে। ঘরে ঘরে বিদ্যুতের লাইন দিলেন, তবে হারিকেন বাধ্যতামূলক কেন নয় বললেই ত হয়!’ হোসাইন মোহাম্মদ তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘বাঁশখালীতে পল্লী বিদ্যুৎ এর চেয়ে বড় রংবাজ আপাতত আর কেউ নেই। জনস্বার্থে বাঁশখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে মামলা করা উচিৎ করোনারও শেষ আছে, কিন্তু পল্লীর নোংরামিতে শেষ বলতে কিছুই নেই। বাঁশখালীর ১৫ ইউনিয়নের কোথাও বিদ্যুৎ না থাকলেও,শেখেরখীল আর বাংলাবাজারের বরফকলে ২৪ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকার রহস্য কি..?’

এভাবে লোডশেডিংয়ের অতিষ্ঠ হয়ে যে যার মতো করে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ফেইসবুক এর মত গণমাধ্যমে এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ বাঁশখালী জোনাল অফিসের (ভারপ্রাপ্ত) ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মোঃ মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘লোড বেড়ে যাওয়ায় চাহিদামতো বিদ্যুৎ পাই না বলে লোডশেডিং হয়। অন্যদিকে বৃষ্টি-বাদল হলে কিংবা আবহাওয়া খারাপ হলে বিদ্যুৎ প্রদান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

দোহাজারী থেকে সাতকানিয়া হয়ে দীর্ঘ ৪৬ কিলোমিটার অতিক্রম করে বাঁশখালীতে বিদ্যুৎ আসে। গুনাগরি থেকে সাতকানিয়া হয়ে পাহাড়ি সড়ক দিয়ে বিদ্যুৎ আসার কারণে বিভিন্ন সময় ত্রুটির সৃষ্টি হয় । তাই মাঝেমধ্যে জনবল সংকট হওয়ার কারণে অনেক সময় ত্রুটি দেখা দেয়।

Sharing is caring!