বাঁশখালীতে জমি নিয়ে দু’পক্ষের মারামারি: আহত ৪

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত অক্টোবর ৭, ২০২০
বাঁশখালীতে জমি নিয়ে দু’পক্ষের মারামারি: আহত ৪
  • আলমগীর ইসলামাবাদী 
  • বিশেষ প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ১০ নং চাম্বল ইউপির পূর্ব চাম্বল ৯ নং ওয়ার্ড এলাকায় সরকারী পিএফ ভুক্ত ও দলিলাধীন ৮ খানি পাহাড়ী জমি দখল কে কেন্দ্র করে ২ মালিকের মারামারী সমাধান করতে গিয়ে মধ্যস্থকারীদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর ২০২০) দুপুরে চাম্বল ইউপির পূর্ব চাম্বল মিয়ার দোকান এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব চাম্বল এলাকায় সরকারী পিএফ ভুক্ত ও দলিলাধীন ৮ খানি পাহাড়ী জমির দখল কে কেন্দ্র করে মাওলানা ফৌজুল হক ও ছৈয়দ প্রকাশ (পাইপমেস্ত্রী পেড়ান) এর সাথে দীর্ঘ দিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছিল। মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে পূর্ব চাম্বল মিয়ার দোকান এলাকায় একে অপরের সাথে তর্কাতর্কির একপযার্য়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটলে স্থানীয় মিয়ার দোকান এলাকার ব্যবসায়ী ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি নুরুল হুদা এবং মিয়ার দোকান ব্যবসায়ী কমিটি সভাপতি সোহেল ইকবাল তাদের কে মারামারি থেকে ২ জনকে তাড়িয়ে সমাধান করে দেন। পরবর্তীতে উক্ত ঘটনার প্রায় ২ ঘন্টা পরে ছৈয়দ প্রকাশ পেড়ানের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল পুনরায় ঘটনার মধ্যস্থকারী নুরুল হুদা ও সোহেল ইকবালের দোকানে এসে হামলা চালায়। এ সময় তাদের দোকানের জিনিসপত্র ভাংচুর ও নুরুল হুদাকে মারধর করে ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি সোহেল ইকবালের দোকানের ক্যাশ থেকে নগদ সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ সময় হামলাকারীদের আক্রমণে ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি সোহেল ইকবাল, আশেক এলাহী (৩০), নুরুল হুদা (৫৯) ও মুক্তিযোদ্ধা মাষ্টার শামশুল আলম (৭০) আহত হয়। এতে আহত মুক্তিযোদ্ধা মাষ্টার শামশুল আলম উদ্ধার করে বাঁশখালী হাসপাতালে নেওয়া হলে তার অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে ও জানা যায়।

পূর্ব চাম্বল মিয়ার দোকান ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সোহেল ইকবাল জানান, ‘জমি নিয়ে ২ মালিকের মারামারি হয়েছে আমার দোকানের সামনে। তখন আমি এবং পাশ্বর্বতী দোকানদারেরা বের হয়ে তাদের মারামারি থামিয়ে দিই। পরবর্তীতে উক্ত ঘটনার প্রায় দেড় ঘন্টা পরে ছৈয়দের নেতৃত্বে অস্ত্র ও লাটি সোটা নিয়ে ১৫-১৬ জনের একটি দলবদ্ধ গ্রুপ সিএনজি যোগে এসে অতর্কিত ভাবে আমার এবং পাশ্বর্বতী নুরুল হুদার দোকানে হামলা, মারধর ও ভাংচুর চালায়। এ সময় আমার দোকানের ক্যাশ বক্স থেকে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যায় তারা। এভাবে হঠাৎ অাক্রমণ কেন করল আমি বুঝতেছিনা।’

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য নাছির আহমদ জানান, ‘জমির দখল নিয়ে ২ মালিকের তর্কাতর্কির মধ্যে একপযার্য়ে মারামারি হয়েছে। উক্ত মারামারি যারা করতে দেয়নি পরবর্তীতে তাদের উপর হামলা করা হয়েছে। একজন মুক্তিযোদ্ধার উপর ও হামলা করা হয়েছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক! কত গুলো নিরহ ব্যবসায়ী মধ্যস্থকারীদের উপর এ হামলা করা হয়েছে। শুনেছি দোকান ভাংচুর ও টাকা পয়সা লুট করা হয়েছে।

বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মু. রেজাউল করিম মজুমদার বলেন, ‘চাম্বলের ঘটনায় কেউ এখনও পযর্ন্ত লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Sharing is caring!